somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঙাবনের রাজাবনে 3 (ডেড সিটিতে বাউন্ডেলে ঘুরাঘুরি)

২৪ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ১২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব coyb

আগের রাতে আড্ডাবাজির খেসারত দিতে হল ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠতে গিয়ে। জানতাম ওই কান্ড হবে, তাই সবাই এলার্ম দিয়ে রেখেছিলাম। সকাল সোয়া ছয়টা থেকে এক একটা মোবাইলে এলার্ম বেজে উঠছে আর সবাই মিলে কোনমতে মাথা তুলে ওটা ঘরের কোনায় ছুড়ে ফেলার ব্যবস্থা করে আবার ঘুম। আধা ঘন্টা ওই করে কোন মতে উঠলাম সূর্যের সাথে পাল্লা দিতে।

ফজর পড়েই বিছানা তুলে ফেলার ব্যবস্থা করা হল। তখন বিছানায় গা এলালেই মৃতু্য অনিবার্য, সেদিন আর কোথাও ঘোরা লাগত না! হোস্ট অ্যাশ আপু বিছানায় পড়েই ঘুম। হোস্ট তুলে গালাগালি করার পরে উঠল, আমাদের নাস্তার ব্যবস্থা করল। সবাই মিলে লাঞ্চ বানিয়ে, প্যাক করে নয়টার জায়গায় দশটায় বাসা থেকে বেরুলাম। বাস স্টপে গিয়ে দেখি আর এক ঘন্টার মধ্যে বাস আসবে না। কি আর করা, হাঁটা দিলাম সবাই, দুরের বাস স্টপ থেকে বাস ধরব। পথেই একটা কৃত্রিম হৃদ। অবশ্য দেখে বুঝার উপায় নেই, অদ্ভূত সুন্দর। ওই হৃদের কাছাকাছি গিয়ে ইমু পাগল হয়ে গেল। ইমাকে আমরা ডাকি ইমু, পশু পাখি খুব পছন্দ করে বলে। ইমু বেগম স্বজাতির খোঁজ পেয়েছে, পাখির ছবি তুলতে তুলতে আমার ক্যামেরার অর্ধেক মেমরি খরচ করে ফেলল। 2 নম্বর ছবিটা ওর তোলা, ওই লেইকের ধারে। অবশ্য পাগল হওয়ার কারণ ছিল ভালই। আগের দিনের মেঘলা আকাশের পুরো উল্টো কান্ড, সকাল থেকেই স্বচ্ছ, নীল আকাশে শরতের মত দু এক টুকরো ছেঁড়া মেঘের ভেলা উড়ে বেড়াচ্ছে। একদম মন ভাল হয়ে যাওয়ার মত কান্ড কারখানা। বিশেষত আমার জন্য। আকাশ আমার মনের আয়না। ওখানে মেঘ জমলেও মনে মেঘ জমতে চায়। আর এরকম মিষ্টি রোদ গায়ে মেখে উচ্ছ্বল হয়ে যেতে পারি।

বাসে করে ক্যানবেরা সিটিতে এসে ভাবলাম ভুল জায়গায় চলে এলাম নাকি... শহরের একদম মাঝখানে এখানে সেখানে দু'তিনজন মানুষ হেলতে দুলতে ঘোরাঘুরি করছে, ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখার সময় পাচ্ছে! সিডনীর সাথে এক নিমেষে তুলনা করে নিলাম। সিডনী শহরে হাজার মানুষের ভিড়ে একা হওয়া খুব সহজ। শত শত রং বেরঙের মানুষ প্রবল ব্যস্ততায় সারাক্ষণ ছুটাছুটি করছে। একজন মানুষকে পাঁচ সেকেন্ডের বেশি দেখা যায় না, তার আগেই ত্রস্তভাবে ভিড়ে মিলিয়ে যায়। এখানে মানুষ 'সিটি' কথাটারই প্রবল অপমান করছে। দোকানপাট সেই এগারোটার সময়ও বন্ধ বা মাত্র খুলছে। অবাক হয়ে শাটার টিপতে লাগলাম। ক্যানবেরার নতুন নামকরণ করলাম আমরা, 'দি ডেড সিটি'। এক এক বার মনে হচ্ছিল রাস্তার মাঝ খানে ছক কেটে কুত কুত খেলা শুরু করে দেই। পুরো সিটিতে হাঁটলাম ঘন্টা খানেক, ট্রাফিক লাইট পেলাম মোট তিনটা। রাস্তা পার হতে হতে কয়েক পাক ঘুরে নেচেও নেয়া যায়। রাউন্ড এবাউটে তেছড়া করে রাস্তা পার হলাম, যেটা সিডনীতে অকল্পনীয়। অবশ্য গাড়ি আসতেই অতিরিক্ত সতর্কতার সাথে দেঁৗড় দিচ্ছিলাম। আর যাই হোক বাবা, ক্যানবেরার মত জনমানবহীন সিটির রাস্তায় গাড়ির নিচে চাপা পড়াও বুদ্ধিমত্তার চরম অপমান!

আসলে সিটিটাতে অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ থাকে, কারণ এই শহরটা শান্ত, সুন্দর আর সরকারী ভবনে ভরে রাখার জন্য সরকার সচেতন চেষ্টা করছে।

শপিং সেন্টারে ঢুকেই টাসকি খেলাম। একে তো পিচ্চি দ্যা গ্রেইট, তার উপর দাম হাঁকিয়ে বসেছে সিডনীর তিনগুণ। দোকানে মানুষ জনও নাই একদম। ধুস! স্টার বাকসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাসিন হঠাৎ স্বপ্নীল হয়ে উঠল 'মক্কা'র কথা ভেবে। সবচেয়ে মজার কফি নাকি। আমি বললাম, তাই নাকি, খাই নাই কখনও। তাসিনের মুখ দেখার মত হল, 'কি বল এসব? মককা খাও নাই? দ্যাটস ইট, আস আমার সাথে...' একটা বড় সড় সাইজের মককা কফি কিনে আমার হাতে ধরিয়ে দিল। ভাল বুদ্ধি পাওয়া গেল, এর পর থেকে যাই দেখি তাই তাসিনকে শুনিয়ে বলি, কখনও খাই নাই!

শহরে হাঁটাহাটি করার সময় সিনেমা হলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পাইরেটস অফ ক্যারিবিয়ানের পোস্টার দেখে সবাই ছিহনেমা দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করল। আমি পড়লাম বিপাকে। মাত্র গত সপ্তাহে মীরার সাথে গিয়ে এত্তগুলো ডলার খরচায় দেখে আসলাম মুভিটা! অন্য কি মুভি আছে দেখতে গিয়ে তীব্র বিবমিষা হল, 'লিটল ম্যান' আর 'মাই সুপার এক্স গার্লফ্রেন্ড'! ইম্পসিবল! আমাকে টাকা দিলেও আমি ওই মুভি দেখার যন্ত্রনাময় অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাব না। আমাকে বিতৃষ্ণ করার জন্য বিজ্ঞাপনগুলোই যথেষ্ট ছিল। গণভোটে পাইরেটস অফ ক্যারিবিয়ান বিজিত হল। আমি বুক পাথর চেপে মানিব্যাগের টাকা গুণা শুরু করতেই অ্যাশ আপু বিশেষ ঘোষণাটা দিল। ও, ক্যানবেরায় আমাদের মেজবান হিসেবে আমাদের মুভির টিকেট কিনে দিতে চায়। কড়া নিষেধ, 'কেউ না করতে পারবা না, আমি কিচ্ছু শুনতে চাই না। নো বাড়াবাড়ি।' বাঁচলাম, না করব কেন? আমারে পাগলে পায় নাই!

আবারও জনি ডেপের মুগ্ধকর অভিনয় দেখলাম। শেষটুকু একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল, রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগেও কিছুক্ষণ তা নিয়ে গবেষণা চলল। সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে টের পেলাম ক্ষুধায় পেট চো চো করছে। ভিতরে ঢুকার সময় এক গাদা চিপস আর চকলেট কিনে নিয়েছিলাম কিন্তু তিন ঘন্টা ধরে ডেভি জোনসের ধমক খেয়ে ওগুলো হজম হয়ে গেছে। আমরা তখন পার্লামেন্ট হাউজের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কৃত্রিম হৃদের খোঁজে বেরুলাম, ওটার পাশে বসে খাব।

(চলবে)

[ইটালিক]বি:দ্র: এই সিরিজের নামে অরিজিনালিটি নেই, কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি মুখফোড়ের ছড়ার। পুরো সিরিজটাই উৎসর্গ করলাম ধূসর গোধুলিকে।[/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেটিকুলাস ডিজাইনের নিজেরা নিজেরা নির্বাচন

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৩৬

বাংলাদেশের জামাতের সমর্থন কতটুকু?
এযাবৎ পাকিস্তান আমল থেকে ৭৫ বছরের ইতিহাসেএ দেশে বর্তমানে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে কোন নির্বাচনে জামাত ৪ - ৫% এর বেশি ভোট পায়নি।
২০০৮ এর ফটো আইডি ভিত্তিক ভোটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

******মায়ের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি******

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৫


মায়ের স্মৃতি কোনো পুরোনো আলমারির তাকে
ভাঁজ করে রাখা শাড়ির গন্ধ নয়
কোনো বিবর্ণ ছবির ফ্রেমে আটকে থাকা
নিস্তব্ধ হাসিও নয়
সে থাকে নিঃশব্দ এক অনুভবে।

অসুস্থ রাতের জ্বরজ্বালা কপালে
যখন আগুনের ঢেউ খেলে
একটি শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের প্রত্যাশা; উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩৩

নতুন ভোরের প্রত্যাশা; উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচন

ছবি সংগৃহিত।

টানা ১৮ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাতানো নির্বাচনের পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ফ্যাসিবাদের পতনের পরে এটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(৩) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৫




এনসিপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী (নোয়াখালী ৬ হাতিয়া) জনাব হান্নান মাসুদের স্ত্রী'র উপর বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলা। ভোট কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সময় তার উপর লোহার রড দিয়ে আক্রমণ করা হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণ এবার কোন দলকে ভোট দিতে পারে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬


আজ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। সকাল সাতটা থেকেই মানুষ ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপি জোট বনাম এগারো দলীয় জোট (এনসিপি ও জামায়াত)। নির্বাচনের পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×