পরের দিন সকালে উঠতে গিয়ে বিশাল বিপাকে পড়তে হল। সূর্যি মামা যখন উঠি উঠি করে তখন কোন মতে টেনে টেনে উঠে ওযু করে এসে নামায পড়ে আবার কলাগাছের মত ধড়াম করে বিছানায় পড়ে গেলাম। দশটার দিকে অ্যাশ আপুর বহুত চিল্লাচিলি্লর পরে তবেই উঠলাম। আন্টিও এসে গেছেন রুমে। বিছানায় বসে বসেই সুখবর পেলাম, সাড়ে বারোটার বাস ধরার জন্য আন্টি লিফট দিবেন। তাইলে আর কি, ঢিলামি বেড়ে গেল। ওহ, এই আন্টিটাকে আবার আমরা গণভোটের মাধ্যমে আন্টি ক্যাটাগরি থেকে বাদ দিয়েছি। চলিশোর্ধ হবেন, কিন্তু ভীষণ উচ্ছ্বল। আমাদের সাথে যখন কথা বলেন, কখনও আমাদের চেয়ে আলাদা কেউ মনে হয় নি। আমরা আপাতত খুব দু:খে আছি, এ বছরই মোট ছয়টা আপুর বিয়ে হল, আমরা অবিবাহিতরা এখন বিলুপ্তপ্রায়। 'এনডেঞ্জারড স্পিসিস'। আর বিবাহিতদেরও কি অন্যায়, আমাদের একদম ভুলে গেছে! এক আপু তার ব্রিটিশ জামাই নিয়ে এত খানি আহলাদে আটখানা যে আমার ইউনিতে গিয়েও পুরো সেমিস্টারে আমার সাথে দেখা করে না। দেখা হলেও আমি কেমন আছি সেটাও জিজ্ঞাসা করে না। সালমান হ্যান, সালমান ত্যান। অসহ্য!
আন্টি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করলেন, বললেন, যত দিন বেঁচে আছ আনন্দ করে নাও, ওরা অন্য দুনিয়ায় আছে, বেঁচে নাই! ঠিক!
আবারও ক্লুডো, ছবি তোলাতোলি, আড্ডাবাজী, আন্টির বিরানী ভক্ষণ করতে করতেই দেখি পেঁৗনে বারোটা বাজে। আস্তে ধীরে রেডি হচ্ছি তখনই মাথায় বাজ পড়ল। যেই ঘড়ি দেখে রেডি হচ্ছিলাম সেটা দশ মিনিট স্লো! বাসা থেকে ওখানে যেতে লাগে পনের/বিশ মিনিট। আসল ঘড়িতে তখন কাঁটায় কাঁটায় পনের মিনিট বাকি। আমরা তখন রীতিমত ঘামছি। বাস মিস করলে আর সিডনী ফেরা লাগবে না। একে তো টাকার গচ্চা যাবে, আমার ফকিরা অবস্থায় ত্রিশ ডলার কোথাও থেকে জোগাড় করে যদিও বা টিকেট কিনতে পারি, বাসায় ফিরলে মা আর আস্ত রাখবে না। আধা আমিকে এর পরে আর কখনও কোথাও বেরুতে দিবে না, ইরেসপনসিবিলিটির শাস্তি স্বরূপ। ত্রানকর্তা হিসেবে এগিয়ে আসলেন আঙ্কেল। হাজার হোক বাঙালী মাত্রই বসতে দিলে শুইতে চায়। ক্যানবেরার ফাঁকা রাস্তা ধরে ঝা ঝা করে স্পীড লিমিট একসিড করে বাস স্টপে নিয়ে গেলেন কাঁটায় কাঁটায় 12.30 মিনিটে। দেঁৗড়ে বাসের কাছে যেতেই দেখি দরজা বন্ধ হচ্ছে। আমাদের ঢুকতে দিয়ে মহিলা চোখ পাকিয়ে বলল, 'য়ু গাইজ আর ভেরি লাকি'!
তা বটে!
(শেষ!)
[ইটালিক]বি:দ্র: এই সিরিজের নামে অরিজিনালিটি নেই, কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি মুখফোড়ের ছড়ার। পুরো সিরিজটাই উৎসর্গ করলাম ধূসর গোধুলিকে।[/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



