somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ললনারা হেঁটে যায় - 2

০৮ ই আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৮:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবার পুরুষদের আর নারীদের দেখার চোখের পার্থক্যটা বলি। না রে ভাই, আমি জ্যোতিষ টোতিষ না, তবে মনোবিজ্ঞানীদের কিছু রেফারেন্স দিব।

বলে নেই আগে, আমি এখানে যেসব উদাহরন দিচ্ছি তার বেশির ভাগই পাশ্চাত্যের সমাজের মানুষের উদাহরণ। এই সমাজে, এই 2006 সালে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, নারীর পরনির্ভরতা, এগুলো অনেকাংশে মিথ্যা। বা কম গুরুত্বপূর্ণ ইসু্য।

এক্সপ্লোরিং সাইকোলজিতে লেখক মায়ারস বলেছেন কয়েক বছর আগে করা একটা এক্সপেরিমেন্টের কথা। এর অংশ হিসেবে আমেরিকার একটা ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে রাস্তায় যাকে সামনে পাওয়া যাচ্ছে তাকে ধরে বিপরীত লিঙ্গের মানুষেরা সরাসরি প্রশ্ন করেছিল, 'হাই হ্যান্ডসাম/বিউটিফুল, আজ রাতে কি করছ? আমার সাথে মিলিত হবে?'

প্রায় প্রতিটা ছেলের উত্তর ছিল, 'কেন নয়? এখনই করলে হয় না?' আর দু'একজন বাদে প্রতিটা মেয়ের জবাব ছিল, 'আরে আশ্চর্য পাগলের পাল্লায় পড়লাম তো... চিনি না জানি না... ফাইজলামির জায়গা পান না? রাস্তা ছাড়েন!'

সাইকোলজির লেকচারার বলছিলেন, বিপুল সংখ্যক পরিসংখ্যানের ফলাফল থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, 'ধর তক্তা, মারো পেরেক' মার্কা অ্যাটিচুডে ভরা পুরুষ থাকলেও, মেয়েদের মধ্যে এই অ্যাটিচুড আসলেই কম। সাধারনত মেয়েরা মানসিক সংযোগ এবং বুঝাবুঝি একটা পর্যায়ে পেঁৗছানোর আগে শরীরের কথা ভাবতে পারে না। বাসে ওই সুন্দর মেয়েটাকে দেখে কয়েক মুহূর্তের জন্য বাড়ির বউকে বেমালুম ভুলে ফ্যান্টাসিতে লিপ্ত হতে পারে যে কোন পুরুষ। তার মানে এই না যে সুযোগ পেলেই সবাই সীমা লংঘন করবে, এটা স্রেফ প্রকৃতিগত একটা ব্যপার। ডারউইনবাদীরা ব্যাখ্যা করেন এই ভাবে: আমাদের পূর্বসুরীদের (যখন সমাজ, ধর্মের বালাই ছিল না) মধ্যে নিজেদের সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তাই ছিল আসল চিন্তা। কারণ সংখ্যা বাড়ালেই টিকে যাবে অস্তিত্বের লড়াইয়ে। তাই একজন নারী যেখানে সারা মাসে মাত্র একটা সন্তান সৃষ্টির ক্ষমতা রাখেন (তারপরে চলে আরও এক বছরের জন্য সন্তান ধারণে অক্ষম সময়), সেখানে একজন পুরুষ, মাসে কয়েক লাখ জীবন সৃষ্টির ক্ষমতা রাখেন। আমাদের নারী পূর্বসুরীদের চিন্তা করতে হত গর্ভধারণকালীন নিরাপত্তার কথা, সন্তান জন্মের পরে তার নিরাপত্তার কথা, তাই তারা বিশ্বাসযোগ্যতা খোঁজ করতেন পুরুষ সাথীদের মধ্যে। কিছু সময় একসাথে কাটিয়ে মায়ার বাঁধনে বাঁধার কথা চিন্তা করতেন, পরবর্তীতে পাশে পাওয়ার আশ্বাস পেলেই কেবল আত্মসমর্পন করতেন! পুরুষের আজীবনই 'ধরো তক্তা, মারো পেরেকে' বিশ্বাসী!

ইয়ে, আমি ডারইউন চাচারে খুব ভরসা করতে পারি না, তবু লেকচারে শিখাইছে, জ্ঞানটা ছড়িয়ে দিলাম আর কি।

যাই হোক, জেনেটিক্যাল ডিজাইনের জন্যই, এখন সামাজিক বাঁধা বা নৈতিকতা বোধের জন্য অনেক কিছু করবে না হয়তো পুরুষেরা, কিন্তু প্রবনতাটা নাকি রয়ে গেছে। তাই বাসের অপরিচিত মেয়েটাকে নিয়ে কয়েক মুহূর্তের ফ্যান্টাসিতে জড়িয়ে কল্পনা করে ফেলতে পারেন অনেক কিছু! (কি বিচ্ছিরি একটা ব্যপার!)

কিছুদিন আগে আমার পনের বছর বয়সী পাক্কু ছোট্ট বোনটার চমকে উঠেছিলাম। ভীষণ ভাল লেগেছিল, তাই তুলে দিচ্ছি... 'আপুনি, আমি এখন পুরাপুরি কনভিনসড হিজাব পড়ার ব্যপার। এখন ভালবেসে হিজাব পড়ি। কারণ, য়ু নেভার নো হু ইজ ওয়াচিং য়ু। হু ইজ থিংকিং অফ ওয়াট কাইন্ড অফ উইয়ার্ড স্টাফ। আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু লুক প্রিটি ফর সাম উয়ার্ডো ডাউন দ্যা রোড!'

বাহ্যিক আর আভ্যন্তরিক সত্ত্বা মিলিয়ে একজন পরিপূর্ণ মানুষ আমি। এটা সইতে পারব না, একজন মানুষ (অন্যভাবে বললে, একজন পুরুষ!) কেবলই আমার শারিরীক সৌন্দর্য দিয়ে আমাকে বিচার করবে। আমাকে ভোগের চেষ্টা করবে আনঅথারাইজড ভাবে! পরীক্ষামূলক সত্য, কাজটা পুরুষেরা যত করেন, নারীরা ততটা করেন না।

যাকে ভালবাসব, তাকে সব দিতে কার্পণ্য করব না এক ফোঁটা। কিন্তু রাস্তার ওই বিকারগ্রস্ত ছেলেটার কয়েক মুহূর্তের স্বল্প দৈঘর্্য ফ্যান্টাসির নায়িকা হতে পারব না।

আই অবজেক্ট!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৪৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অথচ সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল পানিকে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৫


তারেক রহমান এখন চীনে আছেন। গতকাল বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষ করলেন। তিস্তা নদীর জন্য কারিগরি সহায়তা চাইলেন, নদীভাঙন ঠেকানোর উপায় খুঁজলেন, এমনকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×