জিমেইলে লগ ইন করেই মেইলটা পেলাম। রু আপুর মেইল। সাবজেক্ট 'বিয়ে'।
দুই প্যারার মেইলটা শেষ করেও বুঝতে বেশ খানিকটা সময় লেগে গেল... রু আপু নিজের বিয়ের দাওয়াত দিচ্ছে... বিয়ে পরশু দিন। হাতের মেহেদী ধুয়ে আমাকে ইমেইল করেছে।
বিয়ের মৌসুমের দশ নম্বর বিয়ে আমার রু আপুর! রু আপুর!!! সেই পাগলী ইমোশনাল মেয়েটার বিয়ে!
আমাদের কখনও দেখা হয় নি। কিন্তু ওকে ভার্চুয়াল মানতে রাজি নই। একজন সত্যিকারের মানুষ, আমার জীবনের অনেকটুকু গড়ে দেয়া মানুষ। পরিচয় যেভাবে হয়েছে সেটা মজার। প্রথমে সিডনীর ডো আপু পরিচয় করিয়ে দিল ওর বাংলাদেশের বন্ধু ফারজানা আপুর সাথে। ফারজানা আপুর লেখা পড়েছি অনেক, ভক্ত হিসেবেই যোগাযোগ করেছি। ফারজানা আপু বোধ হয় তাড়াহুড়ায় ছিল, অনলাইনে থাকা আমেরিকাবাসী বন্ধু রু এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। সেই তো শুরু! কম কথা হয় নি, বাসায় কম ঝাড়ি খাই নি ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনালাপ চালানোর জন্য। আমাদের যত ইমেইল লেখা হয়েছে, সব দিয়ে বিশাল এক ভলিউম লেখা যাবে। আমাকে দেয়া ওর বইগুলো দিয়ে ছোট খাট একটা লাইব্রেরি হয়ে যাবে। প্রবাস জীবনে বইগুলো যে কি স্বস্তির ছিল!
ওর জন্মদিনে আমি নিজের গান রেকর্ড করে সিডিতে দিয়েছিলাম... সেই প্রথম কাউকে নিজের গান উপহার দিলাম... ও যে কি খুশি!
শিশুসুলভ একটা ব্যপার আছে ওর... ভালবাসতে পারে নি:শর্ত ভাবে। বাড়াবাড়ি রকমের। ক্ষমা করতে পারে সীমাহীন ভাবে। ওর মনটা খুব টলটলে... খুবই টলটলে...
এই মানুষগুলোর প্রতিই দুনিয়া শুদ্ধ সবাই এত অবিচার করে কেন কে জানে! একের পর এক অবিচার। আঘাত। কষ্ট। বেদনার রং এত অসহ্য রকমের নীল ওকে না দেখলে বুঝতাম না। কষ্টগুলো অন্য কারো বহনের ক্ষমতা নেই, এত ভারি। ভাগাভাগি করা যায় না... এত অখন্ড... চেষ্টা করলে ব্যর্থতা আরও দূরে ঠেলে দেয়!
আমাকে ডাকত 'পিচ্চি আপু'। প্রথম ছবি দেখে কি হাসি... এই পিচ্চি মেয়েটা এত্ত বড় বড় কথা বলে! আমার কথায় নাকি ওর মনের অসুখ সেরে যেত!
কত ভেবেছি, এই মায়াবতী ভাল মেয়েটার জন্য পৃথিবীর শ্রেষ্ট মানুষটা দরকার। যে কাছে থেকে সব ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দিবে। যত্ন নিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিবে। ব্যান্ডেজ পালটে দিবে সময়ে সময়ে...
পরশু ওর বিয়ে! জাফর ভাইকে চিনি না, তবু ওর যখন পছন্দ হল, তখন নিশ্চয়ই একজন ভালো মানুষ! এই ব্লগে ও কখনও আসবে না তাই জানতে পারবে না কি যে অসম্ভব ভাল লাগছে আমার! আন্তরিক কামনা করছি, দোআ কেরছি যেন ও সুখী হয়, সুখী হয়, সুখী হয়... গত জীবনের সব দু:স্বপ্ন ভেঙে যায়... সব অন্ধকার দূর হয়ে আলোয় আলোময় হয়ে যায়... জাফর ভাই, আপনাকে পারতেই হবে!!!
[ইটালিক]কেন যে কান্না পায়![/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



