আমাদের পরের লাঞ্চ টাইমগুলো কেটেছে দু:খী মেয়েটাকে শান্তনা দিয়ে। খেতে পারতো না বেচারা। অভুক্ত, ক্ষুধার্ত মেয়েটাকে জোড় করে খাওয়ানোর চেষ্টা করতাম আমরা সবাই। টিভি সিরিয়ালের চরিত্রের এনলারজড হার্টের কথা শুনে আমি কেঁদে মরি, বাস্তব জীবনে কি হবে বলাই বাহুল্য। বাসায় এসে খাওয়ার টেবিলে রীতিমত আলোচনার বিষয় বস্তু হলো সেটা। রাতে পড়তে বসে আমার পড়া হয় না। মন ছুটে যায় দু:খী মেয়েটার কাছে।
খুব শীঘ্রই প্রমানিত হইলো, সেটা আসলে পুরা ধাপ্পাবাজি ছিল
। নিজের সম্পর্কে যা বলেছে, তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হান্ড্রেট পারসেন্ট চাপাবাজি। একা একা ঘুরে বেড়াতো, কারো কাছে বেইল পেতো না। মানুষের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এত কিছু।
জাভারিয়া যখন বললো আমি কিছুতেই বিশ্বাস করবো না। এ হয় নাকি? ছিহ! মেয়েটার অশ্রু ভেজা কেতুর মাখা করুণ চোখ ভাবতেই আমি কুঁকড়ে যেতাম যে! কিন্তু বেশ কয়েকজন ভালো, বিশ্বাস যোগ্য, খুব কাছের বন্ধুরা যখন এসে বললো, তখন বুঝলাম, কি বিশ্বাস করতে হবে!
দাগা খাইছি, কিন্তু বাসায় এসে খাওয়ার টেবিলে সে কি হাসি! এরপরও কিন্তু মেয়েটাকে কনফ্রন্ট করি নাই। কারণ মেয়েটার মানসিক সমস্যা ছিল, মনোযোগ চাচ্ছিল বুঝতে পেরেছি। দেখা হলেই সদয় দু'একটা কথা বলতাম, মেয়েটা গদ গদ হয়ে যেত। আমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়তাম!
মিথিমিথি মিথ মিথ খেলায় আগের কথা মনে হয়ে কালকে সারাদিন হাসি আসতেছে!!! আহা, মরা মেয়েটার জন্য এত দোআ করলাম, সব এখন কোন ভ্যাকুয়ামে ঘুরপাক খাচ্ছে কে জানে!
আমি যে রম্য লেখার কথা বলে ডুব দিলাম, তার আসল কারণ হলো, বাবা মা এসেছে, সময় পাচ্ছি না। তারপরে মিথিলা মারা গেল, আমার এত মন খারাপ হলো, ভাবলাম ধুশশালা ব্লগাবোই না আর। মেয়েটা মরে নাই শুনে কালকে সারাদিন হাসি আসতেছে!!! আসলে আমি হাসতে পারি, আর আতলামি করতে পারি। কিন্তু রম্য আমার দ্বারা অসম্ভব। রম্যের যেই আইডিয়াটা আসছিলো, সেটা বলতেসি, আপনারা যে কেউ আইডিয়া নিয়ে রম্য লিখতে পারেন...
আমি সেদিন সাদিকের ডাকের পরে বুঝলাম সাধু ক্ষেপসে। না হলে সাধু সাহেব এত সহজে একজন ব্যক্তিকে নিয়ে রম্য লেখার আহবান করবেন না। তখন হঠাৎ করে পুরা ব্যাপারটা মহা রম্য হয়ে আমার সামনে আসলো। হঠাৎই মনে হলো, পুরা ব্লগটাই একটা আস্ত হাই স্কুলের ভার্চুয়াল ভার্শন। পনের বছরের মীরা থেকে পঞ্চোশার্ধ কালপুরুষ, সবাই সুযোগ পেয়ে জীবনের যাবতীয় সব কিছু ভুলে ভার্চুয়ালিটির আড়ালে এক এক জন হাইস্কুল স্টুডেন্ট। সেই পনের-ষোল-সতের-আঠারো বছরের লাগাম ছাড়া মনটাকে ফিরে পেয়ে পুরাপুরি সদ্ব্যবহার করছেন। মনে আছে, পৃথিবী উদ্ধার করা আঁতলামি, খুব ছোট খাট ব্যাপারে জীবন মরণ ঝগড়া, মারামারি, কাটাকাটি, গালাগালি, প্রেম প্রেম খেলা, বাসা-স্কুল-বাসার যান্ত্রিকতা, এক হাজার এক রকমের মানুষ, সব কিছু এক সাথে থাকার দিনগুলো? বলেন, হাই স্কুলে যেই সিরিকাস ঝগড়া গুলা করেছেন, সেগুলার কথা ভেবে এখন হাসি পায় না?
ক্লাসে শোমচৌ এর মত কেউ ছিল না, যে পৃথিবী উদ্ধার করতো কথায় কথায়, সব ব্যাপারেই সুবিজ্ঞ মতামত থাকতো? আমার মত মহা সিরিকাস আঁতেল ছিল না, যে এমনি খুব বুঝে, কিন্তু আসলে সব কিছুর আড়ালে পুরা বালিকা বাস করে? তীরন্দাজ, শুভর মত খুব ভালো, স্বচ্ছ মনের আঁতেলগুলা ছিল না, যাদের অপছন্দ করা অসম্ভব? রাসেলের মত কেউ ছিল না, যার ট্যালেন্টেড বিছুটির জ্বালায় টিচাররা পর্যন্ত অস্থির? ত্রিভুজের মত ক্যারেক্টারও কি ছিল না, যাকে সবাই একটা নাড়া দিয়ে মজা পায়? নামকরণ... উফ, নামকরণের মজাটা সবাই মিস করেন টের পেলাম ব্লগে যেই হারে নামকরণ হয় সেটা থেকে! আর দলাদলি... গ্রুপিং... দোস্তের জন্য সব হালাল!
আসলে আমাদের সবার ভিতরের যেই উত্তাল কৈশোর থাকে, যে 'আঠারো বছর মানে' কবিতা থেকে উঠে আসা, সেই কৈশোরকে ছুটিয়ে দেয়ার একটা মহা সুযোগ ব্লগ। ভদ্রতা, সুস্থতা আর ম্যাচুয়ারিটি, সেনসিবিলিটির মুখোশ আঁটা সামাজিক জীব আমরা, এই সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া করি না!
কাম অন গাইজ, এডমিট ইট, মিথিলা মিথ থেকে কিছুটা হলেও মজা পেয়েছেন আপনারা! বোকা হইছেন তাতে একটু ক্ষেপসেন আর কি। এত কথার কি আছে রে বাবা, পুরা ঘটনা তৃতীয় পক্ষের চোখ দিয়ে দেখে দম ফাটা একটা হাসি দেন তো সবাই!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







