চলচ্চিত্রে কে কি দেখতে চায় তার উপর ভিত্তি করে ভাল লাগা খারাপ লাগা হয়। বিনোদন তো অবশ্যই, কিন্তু কাকে কি বিনোদন দেয়, সেটার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আমার দেশ/প্রডিউসার নিয়ে কোন এলার্জি নাই, যে কোন মুভ্যি দেখি। তবে বিচার করার সময় নিজের মনের আয়নায় বিচার করি। এক এক দেশে মুভ্যি প্রডাকশন এতো আলাদা যে তুলনা করা বোধ হয় ঠিক সুবিচার না। তাই এক এক ভাষার চলচ্চিত্র আলাদা ভাবে বিচার করব:
বাংলা:
আমি এবার দেশে যা্ওয়ার পরে চারিদিকে শুনি খালি মোল্লা বাড়ির বউ আর মোল্লা বাড়ির বউ। এত শুনেছি যে ঈদে যখন টিভিতে ছাড়ল তখন বাড়ির সবার সাথে সাথে আমি্ও লেপের নিচে পা ঢুকিয়ে দেখা শুরু করেছি। পনের মিনিটেই মনে হল: ধরণী দ্বিধা হ্ও! এটাই যদি বাংলাদেশের ভাল মুভ্যির নমুনা হয়... আল্লাহ নাদানগুলোকে মাফ কর...
এ পর্যন্ত দু'টো ভাল মুভ্যি দেখেছি বাংলায়:
1. মাটির ময়না (শুনেছি কন্ট্রভার্সি সৃষ্টি করেছে... দেখে সত্যিই বুঝি নি খারাপটা কি ছিল... অসাধারন!)
2. লালসালু (যখন ক্লাস থ্রীতে না ফোরে পড়ি, তখন লালসালু পড়েছিলাম। কিচ্ছু বুঝিনি। মুভ্যিটায় অভিনয়ে কিছু অপরিপক্বতা ছিল, কিন্তু বিষয়বস্তুর গুরুত্ব আর অন্যান্য টেকনিক এত ভাল ছিল যে সত্যিই ভাল লেগেছে। তাছাড়া আমি সচেতন ভাবে মিডিয়ায় এই মুখোশ উম্মোচনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম)
মোস্তফা সর্ওয়ার ফারুকীর বাংলা নাটক দেখেছি বেশ কিছু। ভিন্নধমর্ী স্টাইল, চরিত্রগুলোকে বাস্তব করে তোলার প্রয়াস ভাল লেগেছে। বাংলা মুভ্যি ইন্ডাস্ট্রি এর ছিটে ফোঁটা শিখতে পারল্ওে ভাল করতে পারত হয়ত!
ইংরেজি:
1. বেন্ড ইট লাইক বেকহাম (যারা একাধিক সংস্কৃতির টানাপড়োনে পড়ে গেছেন, তাদের সবারই ভাল লাগার কথা। আরেকটা আছে মাই বিগ ফ্যাট গ্রীক ্ওয়েডিং)
2. গ্লাডিয়েটর (সিডিটাতে কথা অস্পষ্ট ছিল, কষ্ট করে শুনতে হয়েছে। ভাল করে দেখার অপেক্ষায় আছি)
3. কিংডম অফ হ্যাভেন (্্হতে পারে ইতিহাসটার প্রতি দুর্বলতা থেকে এত ভাল লেগেছে)
4. প্রাইড এন্ড প্রেজুডিস (কীরা নাইটলিকে ভাল্লাগে বলেই কি ভাল লাগল? মনে হয় না... জেইন অস্টেন আমার অন্যতম প্রিয় সাহিত্যিক... ক্লূলেস ্ও তাই ভাল লেগেছে)
5. শ্রেক (উফ... পোস্ট মডর্ানিজমের তুঙ্গে... উইটিজম! প্রতি কথায় কথায় সারকাজম, বিভিন্ন লেয়ারে এই মুভ্যিটা দেখা যায়.. আমি মনে হয় চলি্লশ বছর বয়স্ওে এটা দেখে নতুন কোন অর্থ খুঁজে পাব...)
6. হ্যারি পটার (যদি্ও বইগুলো হাজার গুনে ভাল)
এছাড়া যে কোন টীন/সেমি সিরিয়াস রোমান্টিক মুভ্যি ভাল্লাগে...
... অতি নিকট অতীতে দেখেছি দ্যা হিচ আর বিউইচড। ভাল লেগেছে দু'টোই।
ইরানী:
আরেকটু ছোটবেলা ইরানী মুভ্যি ভাল লাগার একমাত্র কারন ছিল হিজাব পড়া সুন্দর মেয়েগুলো। ইসলামের বিশেষ নিয়মগুলো মেনে চলে তাই। বড় হয়ে দেখার চোখ বুড়ো হল, এখন আর সেটাই একমাত্র কারন না। তাই সব ইরানী মুভ্যি ভাল লাগে না। শুধু মাজিদ মাজিদির মুভ্যিগুলো ভাল লাগে। যারা তাঁর নাম শুনেন নি, একটু গুগল করলেই দেখতে পাবেন কতগুলো ইন্টারন্যাশনাল অ্যা্ওয়ার্ড পেয়েছেন ভদ্রলোক। মুভ্যি তৈরিকে তিনি শিল্প হিসেবে নেন, তাই অনেক আনইউসুআল ব্যপার স্যপার চলে আসে তার মুভ্যিতে। গ্রামের একটা মুভ্যি করার সময়, ঠিক গাইয়া একজনকে খুঁজে বের করেন, যার মুখের ভাব, অভিব্যক্তি অসম্ভব রকমের বাস্তব।
তাঁর দু'টো মুভ্যি দেখেছি, দু'টোই অসাধারন:
1. দ্যা কালার অফ প্যারাডাইজ
মুভ্যিটা আমার দেখা শ্রেষ্ট মুভ্যিগুলো অন্যতম। কাহিনী গড়ে উঠে একটা অন্ধ ছেলেকে ঘিরে। অন্ধ যেহেতু, তার অন্যান্য অনুভূতিগুলো তীব্র, তীক্ষ্ন... আমি এই মুভ্যি দেখার আগে কখন্ও ভেবে দেখিনি একজন দৃষ্টিহীনের কাছে কাঁচের দেয়াল আর অস্বচ্ছ দেয়ালের কোন পার্থক্য নেই। ছেলেটা একবার বাসে চড়ার সময় বাইরে হাত দিয়ে বাতাসকে অনুভব করছিল। আচ্ছা ্ওর কাছে সিল্কের কাপড় আর বাতাসের মধ্যে পার্থক্য কি? বাচ্চাটা জানতে চায় রঙের অর্থ... আসলেই রঙ কি? অসাধারন অভিনয়... অসাধারন।
2. বারান। আফগানিস্তানি রিফিউজিদের সেটিংসে একটা বয়:সন্ধির অন্ধ, অপরিপক্ক, বাস্তবজ্ঞান-বিবর্জিত প্রেমকে ঘিরে করা... উফ, এই ভদ্রলোক যে কি... অসাধারন অভিনয়, অসাধারন ক্যামেরা টেকনিক। প্রতিটা শট এক একটা শিল্প।
হিন্দী:
হিন্দী মুভ্যির একটা বড় সুবিধা (কখন্ও কখন্ও অসুবিধা) হচ্ছে দৈর্ঘ্য। দৈর্ঘ্যের কারনে চরিত্রগুলোকে এত ভাল চেনা হয়ে যায় যে... লজ্জাজনক ব্যপার হল্ওে সত্য, আমি প্রায়ে প্রত্যেকটা হিন্দী মুভ্যি দেখেই কেঁদেছি।
ভাল দু'টো মুভ্যি, যেগুলো মনে খুব গভীরে দাগ কেটেছে:
1. ব্ল্যাক
2. শাক্তি (দেখার অপেক্ষায় আছি... ্ওয়াটার)
চোরি চোরি্ও বেশ ভাল লেগেছিল। তাছাড়া ইদানিং বলিউডের মুভ্যিগুলো বেশ ম্যাচি্ওর, বিশেষত পাশ্চাত্যের সেটিংসে তৈরি মুভ্যিগুলো। হাম তুম বেশ আর্টিস্টিক লেগেছে, ভাল লেগেছে। এখনকার মুভ্যিগুলোর একমাত্র সমস্যা হচ্ছে... অশ্লীলতা বাড়ছে চক্রবৃদ্ধি হারে... আর এটাই আমার না দেখার জন্য গুড এনাফ রিজন
।
এসব ছাড়া্ও ইউরোপিয়ান বিভিন্ন মুভ্যি দেখি সুযোগ পেলে। ইউরোপিয়ানরা মুভ্যির শৈল্পিক দিক দিয়ে হলিউডের চেয়ে বেশি মনযোগ দেয়... ফলাফলও অসাধারন। অনেক মুভ্যিই কেমন অসমাপ্ত থাকে, ছোট গল্পের মত... ভাল লাগে।
আমার লেখার সূত্র ধরে যে কেউ লিখতে পারেন, আপত্তি নেই!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




