নিজেকে জিজ্ঞাসা করেছি এমন কেন হয়। আমি কি ধর্মান্ধ? আচ্ছা ধর্মান্ধ মানে কি?
আমার কাছে ধর্মান্ধ মানে ধর্ম+অন্ধ। ধর্ম মানে মসজিদ বা মন্দিরে গিয়ে ঠুকাঠুকি বা মন্ত্র জপা না। ধর্ম মানে চলার পথ। জীবন দর্শন। বিশ্বাস। সেই অর্থে একজন নাস্তিকেরও ধর্ম আছে। ধর্মান্ধ তারাই যারা কারণ না জেনে করে যায় কাজকাম। অযৌক্তিক ভক্তি বা ঘৃণা পোষণ করে বিশেষ কিছু ব্যক্তি বা মতালম্বীর প্রতি। আমি কি ধর্মান্ধ? উত্তর পেয়েছি... না। আমার বিশ্বাস আর যাই হোক অযৌক্তিক না। না জেনে কিছু করতে বাঁধে, সব সময়।
হ্যা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। রোজার সময় রোজা রাখি। হ্যা মাঝে মাঝে রাতের আলসেমি কাটিয়ে উঠে তাহাজ্জুত পড়ার চেষ্টা করি। হ্যা দিনে একবার কোরআন পড়ার চেষ্টা করি। হ্যা ভীষণ ভাবে আরবি শিখতে ইচ্ছা করে। হাজার হোক আল্লাহ ভালবেসে একটা চিঠি লিখল আমায়, সেই চিঠির অর্থ খুঁজে বের করার জন্য একে তাকে ধরতে আর ইচ্ছা করে না। হাঁটি হাঁটি পা পা করে একটু একটু শিখছি। শামস মানে সূর্য। আর্দ মানে পৃথিবী। কামার মানে চাঁদ। নাস মানে মানব জাতি। ইন্টারনেট থেকে ওয়ার্কশিট ডাউনলোড করে আরবি ব্যকরণের ধারা ধরার চেষ্টা করছি। যেই কোরআন অযু ছাড়া ধরতে পারি না, এতটা সম্মান কেন করি, জানতে হবে না?
প্রশ্ন হয় নি কখনও আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে? আখিরাত কখন্ও অ্যাবসার্ড মনে হয় নি? কখন্ও ইচ্ছা করে নি খুব স্বেচ্ছাচার হতে? হ্যা হয়েছে। করেছিও। এখনও টিনেজার আমি, তাই খুব বেশি দিন আগের কথা না। যখন থেকে নতুন নতুন বই পড়ছিলাম জাফর ইকবাল, শাহরিয়ার কবির, তাসলিমা নাসরিনের। সালমান রুশদির মিডনাইটস চিলড্রেন পড়ে কিছু দিন গুম হয়ে ছিলাম। স্যাটানিক ভার্সাস পড়েছি কিছুটা। আমার জানার পৃথিবীটাকে প্রশ্ন করছিল সব কিছু। নিজেকে না জানলে যা হয় আর কি। একজন এসে বলল, ্ওই মেয়ে কি করতাছ? এইডা ভুল, ্ওইডা কর। তখন মনে হয়, হুম তাই তো!
আলহামদুলিল্লাহ, এখন মনে হয় ইসলাম সম্পর্কে কেউ সত্যি জানলে এ থেকে দূরে থাকতে পারবে না। ইসলাম বুঝে চলতে পারলে সে হবে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। হুম, ঠিক তাই, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।
ইসলাম অর্থ কি? আমার মনে হয় একটা জরিপ চালানো যায় এ নিয়ে। কম করে হল্ওে 60% মুসলিম বলবে ইসলাম অর্থ শান্তি। হ্যা, ইসলাম অর্থ শান্তি। কিন্তু সেটা শাব্দিক অর্থ নয়। শাব্দিক অর্থ হচ্ছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পন। টোটাল কম্প্লিট সাবমিশন। আল্লাহর, মহাবিশ্বের স্রষ্টার সামনে পুরোপুরি আত্মসমর্পন। এখানেই মজা। কারণ ব্যাখ্যা করছি।
সব সৃষ্টির মধ্যে শুধু মানুষকেই চিন্তার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। ঠিক পথ অথবা ভুল পথ বেছে নেয়ার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। বিশ্বজগতের অন্য প্রতিটা অনু পরমানু স্রষ্টার আদেশ অনুযায়ী চলছে। এমনকি আমাদের দেহ্ও। ফুসফুসের চিন্তার স্বাধীনতা নেই এবং সে হঠাৎই পাকস্থলীর দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। হুমায়ূন সাহেব যতই মাথা কুটে মরুক, গাছ হঠাৎই কথা বলা শুরু করে না। অর্থাৎ মানুষ ছাড়া সবাই আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পনকারী। মুসলিম। প্রথম এটা জেনে মজা পেয়েছি, বাহ, আমাদের শরীরও সেই অর্থে মুসলিম! একজন নাস্তিক বা অমুসলিমের শরীরও! ্ওই গন্ধরাজ গাছটা, হাসনাহেনা ফুল গুলো, বাতাসে দুলতে থাকা শিম লতাগুলো, নীল নীল আকাশটা, আমার চোখ নাক ঠোঁট সব কিছু!
প্রকৃতি যেখানে মুসলিম, সারা বিশ্বজগৎ যেখানে মুসলিম, মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা হল মুসলিম হওয়া। আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করা। এই প্রবণতার বিরুদ্ধে গেলেই গোল বাধে। তখন শান্তি বিঘি্নত হয়। এই অর্থে ইসলাম অর্থ শান্তি।
আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ ভাবে আত্মসমর্পনের অর্থ কি? দিনে পাঁচ বার জায়নামাজে মাথা ঠুকা এমন কিছু মন্ত্র জপতে জপতে যার বর্ণগুলো উচ্চারণ করতে গিয়ে গলা ভেঙে যেতে চায়? অথচ যার অর্থ বুঝি না এক বিন্দু্ও? বছরে একবার সারা মাস উপবাস করা, আর মাস শেষের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করা? বছরে একবার প্রেস্টিজ প্রতিযোগিতা তথা তাগড়া গরু কিনে নিজের প্রতিপত্তি দেখানো? সারা জীবন শুধু বা হাতে (ডান হাতে না, আস্তাগফিরুল্লাহ!) ্ওই ঘুষটুকু নিয়ে শেষ জীবনে হাজার মাইল দুরের মক্কায় ভ্রমন করে সব পাপ ধুয়ে মুছে সাফ করে ফেলা? এই কি ইসলাম? সোবহানাল্লাহ, বিশ্বজগতের স্রষ্টা বিশ্বজগতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলাম পাঠিয়েছেন অথচ এই কয়েকটাই তাঁর চা্ওয়া?
না। না। না।
ইসলাম অসম্ভব কমপ্রিহেনসিভ চলার পথ। প্রতিটা ব্রেন সেলকে খাটিয়ে বুঝতে হবে। উত্তরাধিকার সূত্রে ইসলাম আসে না। সারা জীবন ইসলাম নিয়ে জানার চেষ্টা কর্ওে জেনে শেষ করা যাবে না। সারা জীবন মানার চেষ্টা কর্ওে মানার ব্যপারে ফাঁক রয়ে যাবে।
এই তো বললাম। এখন ভাবছি কি করে আরেকটু গুছিয়ে বলি। হুম, সত্যবাদিতা একটা মুসলিম বৈশিষ্ট্য। কারণ সত্যবাদিতা মানেই স্রষ্টার (তার অবাধ্য শয়তানের নয়) ইচ্ছা অনুযায়ী চলা। সততা, সৃষ্টির প্রতি ভালবাসা, দানশীলতা, সংযত আচরণ, ভদ্র ব্যবহার সব কিছু এক একটা মুসলিম (মূল শব্দের প্রতি খেয়াল রাখার অনুরোধ করছি) বৈশিষ্ট্য।
সেই অর্থে অনেক তথাকথিত অমুসলিমের মধ্যে প্রচুর প্রচুর মুসলিম বৈশিষ্ট্য। আর মুসলিমদের মধ্যে আল্লাহর ইচ্ছার বাইরের দোষের (কুফরের) অন্ত নেই।
সাদিকের পোস্টে দেখলাম একজন প্রশ্ন তুলেছে হজ্জ্ব নিয়ে। আরেকজন তাই নিয়ে মহা তুলকালাম কান্ড। আমার কাছে ছেলেমানুষী মনে হয়েছে।
অধিকার আর কর্তব্য। দু'টো শব্দ। খুব ক্লিশেইড। কিন্তু এই দু'টো শব্দ নিয়েই ইসলাম। শুধু এই দু'টো শব্দ প্রকৃত অর্থ বুঝে করলে আর কিচ্ছু দরকার নেই মুসলিম হ্ওয়ার জন্য। ইসলামে দুই ধরণের অধিকার। আল্লাহর অধিকার (হক্কুল্লাহ) আর সৃষ্টির অধিকার (হক্কুল ইবাদ)।
এই দু'টোর একটা ছাড়া্ও পরিপূর্ণ মুসলিম হ্ওয়া সম্ভব না। রিচুয়ালিস্টিক দিকগুলো, যেমন সালাত, সা্ওম, হজ্জ্ব এগুলো আল্লাহর অধিকার। দু:খজনক ব্যপার হচ্ছে, সময়টা এমন যে মুসলিমরা দ্বিতীয় প্রকারের অধিকারের কথা পুরোপুরি ভুলে গেছে। নিজের স্ত্রী বা স্বামী, বাবা মা, পাশের বাড়ির প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন, অন্যান্য কাছের মানুষ থেকে শুরু করে দেয়াল বেয়ে ওঠা ওই পিঁপড়ার লাইনের প্রতিটা পিঁপড়ারও অধিকার আছে একজন মুসলিমের কাছে। এটা বেশির ভাগ মুসলিম হালকা করে নেয়, অথচ, কোরআনে যত না আয়াত আছে সালাত প্রতিষ্ঠা, হজ্জ্ব আর রোজা করার উপরে, তার অনেক গুণ বেশি বলে অন্য মানুষ আর জীবের প্রতি কিভাবে ব্যবহার করতে হবে তাই নিয়ে। আমি এক জায়গায় পড়ছিলাম, আপনি একজন মুসলিম তখনই বুঝতে পারবেন, যখন ্ওই রোদে কষ্ট পা্ওয়া, ছটফট করতে থাকা কেঁচো দেখেও আপনার কষ্ট হবে, রোদ থেকে সরিয়ে দিবেন তাকে। মানুষের কথা তো বলার প্রয়োজনই দেখছি না। এখানে মুসলিম অমুসলিমের কোন তফাৎ নেই। প্রতিটা মানুষের অধিকার আছে একজন মুসলিমের কাছে। অধিকার। ভাল ব্যবহারের অধিকার। অজ্ঞাত জ্ঞান পাওয়ার অধিকার। ক্ষুধার সময় খাবারের অধিকার। অধিকারের উপর আর কোন কঠিন শব্দ কি থাকতে পারে?
ওই হাদিসটা জানেন না? একজন প্রচন্ড পাপী মহিলার সব পাপ কি করে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে গেল একটা কুকুরকে পানি খা্ওয়ানোর বদৌলতে? আর ওই দুর্ভাগার কথা কি জানেন না, যে আখিরাতের দিন একটু মাথা উঁচু করেই হাঁটছিল (পাস্ট টেন্সে বলা হয়েছে হাদিসটা, তবে এটা ভবিষ্যতে হবে)। হাতে বিশাল ভাল কাজের ফর্দ। শত শত রাকাত নাফলিয়াত। শত শত রোজার পাহাড়। মানুষজন ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখছিল এবং ভাবছিল, বাপস, জান্নাতের সবের্াচ্চ স্তর নিশ্চিত। যখন মিজানে তার হাক্কুল্লাহ আর হাক্কুল ইবাদের ফয়সালা হচ্ছিল, তখন দেখা গেল হাক্কুল ইবাদের একাউন্টে ডেবিট জমে আছে। ওই স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণের ডেবিট। একটা কুকুরকে লাথি দেয়ার ডেবিট। কথা দিয়ে কথা না রাখার ডেবিট। গালাগালির ডেবিট। হায় রে দুর্ভাগা, তার কপালে জাহান্নাম জুটলো শেষ মেষ। যাদের প্রতি অবিচার করেছিল, সবাইকে ভাগ করে দিয়ে দেয়া হল তার নামায রোজার পাহাড়।
এটা এমনি সিরিয়াস একটা ব্যপার। আসলে আল্লাহর অধিকারগুলো আদায় করা অপেক্ষাকৃতভাবে সহজ। একটা লগ বুক করে নেয়া যায়। দিনে পাঁচ ্ওয়াক্ত নামাজ- টিক। রমজানে রোজা- টিক। জীবনে একবার হজ্জ্ব- টিক। প্রতিটা জীবের একজন মুসলিমের কাছে যেই অধিকার আছে সেগুলোর হিসাব মিটানো কঠিন।
আমি কি ধর্মান্ধ? অনেকে বলবেন হ্যা। কারণ হক্কুল ইবাদের সাথে একমত হয়ে যাবেন, কিন্তু হক্কুল্লাহের সাথে হবেন না। আমি বলি এ দু'টোর একটা্ও কমপ্রমাইজ করে পরিপূর্ণ মুসলিম হ্ওয়া যায় না। যদিও আজ অজ্ঞতার কারণে বেশির ভাগ মানুষের কাছে প্রথমটা হলেই পাক্কা মুসলমান...
আমি কি মৌলবাদী? যদি রাসুল (সা) এর মূল ম্যাসেজটা বোঝার চেষ্টা করলে তাই হতে হয় তাহলে তাতে আপত্তি নেই।
এখন শুরুর প্রশ্নে ফিরে আসি। ব্লগে আসলে কষ্ট হচ্ছিল কারণ সাদিকএমন কিছু কথা বলেছেন, যেগুলোর পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা বলা যায়। ইতিহাসের এবসোলুট প্রমাণ পাওয়া কঠিন। অথচ এগুলো ইসলামের কোন ফান্ডামেন্টাল ব্যপার না। এর উপর ভিত্তি করে ধর্মান্ধ গালাগালি, কাফির গালাগালি, বাঁদর থিওরী প্রনয়ন... অর্থহীন অর্থহীন। গত কয়েক দিন বলা কথার জন্য সাদিককে অনেকের নির্বিচার গালি খেতে হয়েছে। আবার অনেকের বুক্ও পেয়েছেন যারা আগে ভন্ড টন্ড বলে গালি দিয়েছেন।
এখন সাদিক দাবি করছেন ইসলামের ইতিহাসের অনেক "অজানা তথ্য" উম্মুক্ত করতে চেয়েছেন তার পোস্টগুলোতে। এমন অজানা যে ইসলাম সম্পর্কে সুগভীর পড়াশোনা করা অন্তত: 80% আলেম (আমরা কেউ প্রকৃত অর্থে আলেম না) সেগুলো অস্বীকার করেন। সেই ঘটনার পক্ষের দলিলের সংখ্যাও নেহায়ত কম। ব্যপার হচ্ছে, সাদিকের বলা ইতিহাসকে সত্য বলতে হলে গণহারে আলেম আর সাহাবীদের মিথ্যাবাদী, চক্রান্তকারী বলতে হবে। প্রচন্ড রকমের স্কেপটিক হতে হবে। আমি ততটা স্কেপটিক নই। কন্সপইরেসি থিওরী আমাকে টানে না। তাই কমিউনিজমের সাথে ফ্রীমেসন তার সাথে ইহুদীবাদ তার সাথে... ওই সব প্যাচালো কথাবার্তা শোনার সময় হাত তুলো মানুষকে থামিয়ে দেই। মানুষকে শত্রু ভাবার আগে বন্ধু ভাবতে বেশি ভালবাসি। দশজনের মধ্যে নয়জনকে মিথ্যাবাদী বলার চেয়ে ওই একজনের কোন সমস্যা আছে বলে মেনে নিতে বেশি স্বস্তি বোধ করি। বা এটুকুতেই তর্ক থামিয়ে দিতে চাই... বোথ সাইডস মে হ্যাভ সাম এলিমেন্ট অফ ট্রুথ ইন দেয়ার...
তারপরেও এই তর্ক থেকে দু'টো শিক্ষা আর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
1. প্রচুর পড়া দরকার। প্রচুর। প্রচুর। আরবি শিখতে হবে সিরিয়াসলি। ইন্টারনেটের রিসোর্সের উপর নির্ভর করা একটা বাজে ব্যপার। প্রয়োজনের সময় রেফারেন্স খুঁজে না পাওয়া একটা কষ্টকর ব্যপার।
2. সুন্নাহ, হাদিস সংকলন, সাহাবী, খিলাফাত এগুলো নিয়ে জুলাইয়ের ছুটিতে একটা ইনটেনসিভ পড়াশোনা করব। আমার টাস্টেড স্কলাররা (ইউসুফ আল কারাদাওয়ী তেমন একজন) এ ব্যপারে কি বলে সেগুলো খুঁজে বের করব।
পাগল মানুষ নামের একজন খুব খারাপ কাজ করেছেন। সাদিককে নিয়ে খুব বাজে একটা পোস্ট করেছে। ওটা পড়ে লজ্জায় মাথা নুয়ে আসল। কারণ ওই একটা পোস্ট সাদিকের সাথে দ্বিমত পোষণকারীদের সমস্ত সিরিয়াসনেস, ক্রেডিবিলিটি মাটিতে ধ্বসিয়ে দিল। অথচ সত্যি, পোস্টগুলো আমাকে কাঁদিয়েছে। আমি যতটুকু সম্ভব সিরিয়াসনেস নিয়ে আল্লাহর কাছে দোআ করেছি আমার বা যারই বুঝায় ভুল হয়ে থাকে তাহলে তা যেন আল্লাহ সংশোধন করে দেন।
আপাতত ওটা নিয়ে আর কথা বলব না। এগুলো যথেষ্ট সিরিয়াস ইসু্য।
এই তো আমার আস্ত কথা। কারও কারও কাছে অসংলগ্ন মনে হবে। কিছুই করার নেই। কেউই হয়তো এ পর্যন্ত পড়েন নি, এই ফাঁকে একটু প্রশংসা করে নেই কিছু মানুষের। ব্লগে গত দু'মাসের উপস্থিতি আমাকে অনেক শিখিয়েছে। শাওনের কথা সবার আগে বলি, কারণ অভিমানী পুচকি ছেলেটাকে (যদি্ও আমার চেয়ে মোটে এক বছরের ছোট, কিন্তু নিজেকে তবু বুড়ি বুড়ি লাগে... হা হা হা) নিজের ভাই ভাবতে একটুও কষ্ট হয় না। তেলাপোকার সংবেদনশীল প্রশ্ন করা পোস্টগুলো পড়তে ভাল লাগে। ওয়ালীর সাথে মতের অমিলের চেয়ে মিলই হয় বেশি। ত্রিভুজের মাথাটা একটু গরম, কিন্তু প্যাশনটা সত্যি, যেটা অনুভব করতে ভাল লাগে। আবু সালেহ, ফ্রুলিংক্স, 57 নিয়মিত মন্তব্য করে আমার পোস্টগুলোকে অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখেন। আশার আলোর ব্যতীক্রম ধমর্ী দৃষ্টিভঙ্গি আর শুকনো জ্ঞানী জ্ঞানী পোস্ট গুলো পড়তে ভালই লাগে। ঝড়ো হাওয়া, ধানসিঁড়ি, শাহানাদের ডাউন টু আর্থ সরলতা মাখা পোস্টগুলো পড়ে একটু দখিন হাওয়া যেন পাই। কালপুরুষের দাঁত ভাঙা শব্দের আড়ালের সংবেদনশীল মনটার উঁকি ঝুঁকি ভাল লাগে।
সাইমুম কথা বলেন একটু শক্ত, বাঁশ খেতে একদম ভাল লাগে না, কিন্তু নিজের দৃষ্টিভঙ্গির ব্যপারে পরিষ্কার ধারণা আছে, যেটা স্বস্তিদায়ক।
সাদিক। খুব বেশি মরমী চিন্তা ভাবনা আমাকে টানে না। তবু, পড়ে আসতে ভালই লাগে পোস্ট গুলো।
এরা মোটামোটি আমার পোস্ট নিয়মিত পড়েন বলে বুঝতে পারি, আমার এখানে মন্তব্য করেন বলে। অন্যরা আমারটা পড়েন কিনা জানি না, কিন্তু আমি সত্যি পড়ে আসি। ওদের নিয়েও বলি...
ধূসর গোধুলির সো কলড ডিপ্লোমেটিক ধূসর খোঁচাখোঁচি পড়তে ভাল লাগে। মাইন্ড য়ু, ধূসর শব্দটার অর্থ এক একজনের কাছে এক এক রকম... অমি পিয়ালের লেখাগুলো আমাকে সত্যিই শক্তি দেয়। জীবন যুদ্ধের একটা অন্য রকম বিজয় দেখে। শুভ, অসম্ভব সংবেদনশীল একজন মানুষ। ডাউন টু আর্থ এবং বিনয়ী হয়ে ছোটখাট সব কিছুতে এটেনশন উপভোগ করার মত। সুমন চৌধুরি, হিমু, মুখফোড়... সব লেখাই মনে হয় পড়েছি। সুলিখিত লেখা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করব ওরকম দুর্ভাগা আমি নই। শোহেইল মোতাহারের লেখাগুলো একটু বেশি জ্ঞানী জ্ঞানী, তবু মাঝে মাঝে পড়ি। অরূপ, হাসানের ছোট্ট লেখাগুলোও পড়ে নেই। ্ওহ তীরন্দাজ। ইদানিং কম লিখছেন, কিন্তু্ওনার দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা আমার সত্যিই ভাল লেগেছে। শমিতের ক্রিয়েটিভিটি আমাকে হিংসুক করে তুলে। কৌশিকের শেষ যেই পোস্ট পড়লাম, এনজি্ও অভিজ্ঞতা নিয়ে, মন ছুঁয়ে গেছে সত্যি। বৃশ্চিক। আমার শুভাকাঙ্খী...
বিশাল পৃথিবীর ছয়শ কোটি মানুষের মধ্যে মোটে ষোল কোটি (তাইতো?) মানুষ বাংলাদেশের। তার থেকেও খুব বাছাই করা অল্প সংখ্যক কিছু মানুষ আমরা ব্লগ করছি। অদ্ভুত আনন্দ লাগে ভাবলে, এখানেও এত বৈচিত্রতা, এত ট্যালেন্টের ছড়াছড়ি... সবাইকে সব কিছুতে একমত হতে হবে না। তাহলে মানুষ হওয়ার আনন্দটুকুই যে পাওয়া যাবে না!
আহেম, এক শাওইন্যা ছাড়া সবাই আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়। তবু বড় বড় ভাব করে আঁতলামি মার্কা পোস্ট করি, মন্তব্য করি... মাথার উপর দিয়ে চলে গেলেও পায়ে ডেলকি দিয়ে উঁচু হয়ে দেখার চেষ্টা করি...
এবার একটু... আহেম... পড়াশোনা...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




