somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সান্ধ্যকালীন ভাবালুতা

১৭ ই মে, ২০০৬ ভোর ৪:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাবালুতা (বিশেষ্য) --> ভাব+আলুতা
ভাবালু (বিশেষণ) --> ভাব বা কল্পনাবিলাসী; ভাবপ্রবণ; কল্পনাপ্রবণ বা প্রিয়
সান্ধ্যকালীন (বিশেষণ) --> সন্ধ্যাবেলার

[ধন্যবাদ তীরন্দাজ, আশার আলো, কালপুরুষ বানান শুদ্ধীকরণের ফ্রী পরামর্শের জন্য। ডিকশনারী তুলে দিলাম ]

মাথা ঘুরানো ল্যাব...
বায়োকেমিস্ট্রি ল্যাব থেকে বের হয়েছি এক ঘন্টা হল। কিন্তু এখনও মাথা থেকে পাশের মেয়েটার সুর করে টেনে টেনে গাওয়া ছড়াটা বের হচ্ছে না... "এ বি সি ডি ই এফ জি... আই থিঙ্ক আই এম লুজিং মাই মাইন্ড..." ঘটনা আর কিছু না, বিরক্তিকর ল্যাব করতে করতে মাথা একটু আউলায় গেছে। আরেক পাশে আরেকজন কোঁকাচ্ছিল। সে নাকি আর্মিতে ঢুকবে, এখন ফিটনেসের ট্রেইনিং হচ্ছে। প্রতিদিন দশ কিলোমিটার দেঁৗড়ানো সহ আটার বস্তা টানাটানিতে নামায় দেয়। পুরুষ নারী সবাই সমান, তাই ফিটনেসে পুরুষদের সাথে প্রতিযোগিতা। হা করে শুনতে শুনতে এক্সপেরিমেন্টের দ্্বিতীয় ধাপের সময় গড়িয়ে গেল...
ওই কোনার ছেলেমেয়ে দুই জন স্পষ্ট ফ্লার্টিং করছিল। আমি বুঝি না, ফ্লার্ট করার সময় অন্য মানুষের চোখে যে সেটা খুব দৃষ্টিকটু মনে হয় সেটা ফ্লার্টাররা বুঝে না কেন? আই মিন, ফ্লার্ট করার সময় মানুষ জন এমন হাব ভাব করে যে মনে হয়, ধরণী দ্্বিধা হও... ইহা কি মানুষের কারবার? আজ বুঝলাম ফ্লাডার আর ফ্লার্টারদের মধ্যে বহুৎ মিল...

প্রাপ্তি, প্রাপ্তি, প্রাপ্তি...
আজ ইসলামিক সোসাইটির একজিকিউটিভ কমিটির মিটিঙে জুমায় প্রাপ্তির জন্য টাকা তুলার কথা বলে আধা ঘন্টায় এত কথা শুনলাম যে নতুন করে 9/11 এর সন্ত্রাসীদের খুন করতে ইচ্ছা করল। গাধার দল... এক একটার গাধামির ফলাফল কোন পর্যন্ত গড়ায় তার কোন ধারণা আছে? থাকে তো কল্পনার পৃথিবীতে... গোল্লাছুটের মাঠের মত ওইখানে দাগ, এটার এই পাশে সবাই বন্ধু, ওই পাশে সবাই শত্রু... চল ঢিসুম ঢিসুম খেলি... যত্তসব!
হামযা ইউসুফ একে বলেন, জাস্ট এনাফ ফেইথ টু হেইট...
ফলাফল: এখন ইসলামিক সংগঠনগুলোর উপর কঠিন দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। তাই যে কোন কিছুতে "সাহায্য" করার ব্যপারে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে। কেউ মানবতার কথা বলে টাকা নিয়ে ওটা টেররিস্টদের ট্রেইনিঙের জন্য ব্যবহার করতে পারে সহজেই। সেক্ষেত্রে টাকা দানকারী সংগঠনটাকে ফেঁসে যেতে হবে। ইসলামিক সোসাইটি তাই বিদেশে টাকা পাঠানোর ব্যপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে। আমাকে আশ্বাস দিল, আমার প্রতি আস্থা আছে বলেই পরের জুমায় টাকা তোলা হবে, তবে, এর বেশি না। কারণ যে সে এসে "ওর কথায় হয়েছে, আমাদের কথায় কেন হবে না" বলে ফান্ড রেইজিঙের দাবি করে সেই টাকা ভুল জায়গায় ব্যবহার করে ফাঁসিয়ে দিতে পারে পুরো সোসাইটিকে।
অতি বোকা আর অতি চতুর--এই দুই দলের জন্য পৃথিবীটা অপ্রয়োজনীয় রকমের জটিল হয়ে গেছে...

কাল একজনকে কাঁদিয়েছি...
ঘড়িতে দেড় ঘন্টা পাঁচ মিনিট হয়ে গিয়েছিল। উঠার প্রিপারেশনে জিজ্ঞাসা করলাম, 'এনিথিং এলস'? তখনই আমাকে থতমত করে দিয়ে মেয়েটার খাড়া নাক লাল হ্ওয়া শুরু করল। পাতলা ঠোঁট গুলো একটু কাঁপল। তারপরে, মাশকারাঘন চোখের পল্লব বেয়ে নামল পানির ধারা। আমি হতভম্ব।
আমার নতুন স্টুডেন্ট। ইয়ার ইলেভেনে পড়ে। কেমিস্ট্রি টিউটরিঙের জন্য গেলাম। বেশ ভাল স্কুলে পড়ে। চেহারা টিপিক্যাল অজি টিনেজারের মত। আর্টিফিশিয়ালি স্ট্রেইটেনড চুল। বাদামী চুলে সোনালী রঙের পোচ। প্লাক করা ভ্রু আর লিপগ্লজ মাখা ঠোঁটে পরিপক্বতার ছাপ। চেহারায় মিষ্টি একটা ভাব আছে। সব মিলিয়ে স্মার্ট আউটলুক। এমন একজনকে হঠাৎই কেঁদে ফেলতে দেখে আমি থতমত...
- কি হয়েছে? ব্যাতীব্যস্ত আমি... আর ইউ অল রাইট?
- উহু। আমি হঠাৎ বুঝতে পারলাম আমার অনেক পড়তে হবে...
মেয়েটা কেঁদেই চলছে। আমি মহা বিপাকে পড়লাম। গত এক বছরের টিউটরিঙে সব সময় টিউটর হিসেবে কম বেশি গুঁতাতে হয়েছে। অভিজ্ঞতা বলে এই পড়তে হবে ই পড়তে হবে বলে ভয় দেখানোর পরে তার অর্ধেক কাজ হয়। অজিদের সাথে অভিজ্ঞতা সবচেয়ে খারাপ। শেষ যাকে পড়িয়েছি সে একটা ভাঙা পরিবারের মেয়ে। ষোল বছর বয়সী অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকা মেয়েটার ব্যস্ত বাবা মা অর্থের বেলায় কার্পন্য করে না, কিন্তু অর্থই যে সব না তা বোধ হয় জানে না। প্রচণ্ড বিদ্রোহী মেয়েটা প্রথম দিন ভয় খাইয়ে দিয়েছিল।
আমি তখন মাত্র এইচ এস সি দিয়েছি। স্কুল-বাসা-স্কুল আর এম এস এন... এছাড়া আর কিচ্ছু জানি না। প্রায় ছয় ফুটি মেয়েটা দৈর্ঘ্যে প্রস্থে পাঁচ-দুই ছোটখাট আমির প্রায় দ্বিগুন। চুলে নানা রঙের বাহার। মুখে উদ্ধত ভাব। আর বিরক্তির ছাপ সুস্পষ্ট। প্রথম পাঁচ মিনিট গেল ওই অভিব্যক্তি নিয়ে।
তারপরে নার্ভাস আমি-কে আরও দমিয়ে দিয়ে বলল, "আই অ্যাম স্লিপি। আই এম গনা স্লীপ ফর আ হোয়াইল নাউ। গুড ফর উই, উই গেট দ্যা মানি ফর ডুইং নাথিং।" মেয়েটা নির্বিকার ভাবে টেবিলে মাথা নামিয়ে ঘুম।
মেয়েটাকে কি করে বাগে আনলাম সে গল্প না হয় আরেক দিনের জন্য থাকল। তবে কিছুদিন পরেই দারুণ সম্পর্ক হয়ে গেল। ওহ, একবার মেয়েটাকে পড়াতে গিয়ে দেখি কেমন জড়িয়ে জড়িয়ে কথা বলছে... একটু পর পর সামনে রাখা বরফ নিয়ে মুখে চেপে রাখছে... ঘটনা হচেছ মেয়ে জিভে ফুটা করেছিল। হলুদ দগদগে বিভৎস অবস্থা...
আরেক জনকে পড়াচ্ছি। সিঙ্গল মাদারের একমাত্র মেয়ে। মেয়েটার বয়স আট। ওর মা আঠার বছর বয়সে মা হয়েছে, কুর্দিশ। অশিক্ষিত। অস্ট্রেলিয়ায় প্রচন্ড সমস্যাগ্রস্ত একটা পরিবারকে দেখছি ওই একটা পরিবারের মাধ্যমে।

"সেরা" পঁ্যাচাল
আমি কখনও কিছুতে সেরা হই নি। "সেরা"। "দি বেস্ট"। উহু। স্কুলে খুব চেষ্টা করেও (ইয়ে, মানে, পরীক্ষার আগের দিন তো পড়েতাম...) থার্ডে এসে আটকে থাকতাম। ফার্স্ট আর হয় নি। গল্প, গান, বক্তৃতা বিভিন্ন সময় প্রতিযোগিতায় সেকেন্ড পর্যন্ত গিয়ে আটকে গিয়েছি। তাই "সেরা ব্লগার" বাছাই করার আইডিয়ায় আমার সমর্থন না থাকলেও মনে একটা চোরা সুখ ভাব আসছে... আহ সেরা! জানি ক্ষণিকের জন্য হলেও কোন হিসেবেই সেরা হওয়ার যোগ্যতা রাখি না আমি সামহোয়্যারে। "শান্তনা পুরস্কার" বলতে একটা জিনিস আছে, তাতে নাকি পিছিয়ে পড়ারা উৎসাহ পায়। সামহোয়্যারকে শুধু এই মহৎ উদ্যোগের জন্য হলেও ধন্যবাদ

এখন যেতে হবে...
ভাইয়ার কাজ শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এই ফাঁকে লাইব্রেরিতে এসে ব্লগিয়ে নিলাম খানিক আবোল তাবোল। এখন সময় শেষ। সেন্ট্রালে ওর সাথে দেখা করে একটু পেট পূজা করিব। তাহার পরে ট্রেইনে আরোহণ এবং অত:পর বাসা...
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০০৬ রাত ৮:৩৮
৬৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×