স্মৃতিবেদনার মালা একলা গাঁথি...
সকাল থেকেই মেঘে ঢাকা ধূসর আকাশ। সাথে মনটাও বিষণ্নতা টইটুম্বর। সুমনের গলায় গাওয়া গানটা প্রচন্ড স্পর্ধায় স্মৃতির পাতা উল্টে দিচ্ছে... স্মৃতিবেদনার মালা গেঁথে যাচ্ছে... সাথে চলছে এ অর্বাচীনের সাহিত্যচর্চা...
মালাটা বড় অদ্ভূত। কখনও ভীষণ সুন্দর লাগে। কক্সবাজার থেকে কেনা পাথরের সেই মালাটার মত। হাতিয়ে দেখি, নেড়ে চেড়ে নেই। সুখ সুখ আত্মতৃপ্তিতে চেয়ে থাকি... এক একটি পাথর নিজের মত করে সুন্দর। এবড়ো থেবড়ো, আকারে আর রঙে বৈচিত্র্য, তবু, প্রতিটাই যেন মালার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।
সময় আর আলোর কেরদানিতে মাঝে মাঝে এক একটা পাথর বড় বেমানান লাগে। আকারটা যেন একটু বেশিই অন্যরকম। হঠাৎ লম্বা হয়ে যাওয়া বয়সন্ধীর ওই মেয়েটার মত, সহপাঠিদের ভিড়ে নিজের বেঢপ উচ্চতা লুকাতে যে ব্যস্ত, বিব্রত। রঙটা বড় চোখে লাগে। অথবা পাথরের ধারালো খোচাখুচিতে ঘাড় চুলকে উঠে। খুলে ফেলতে ইচ্ছা হয় ভীষণ। মালা ছিঁড়ে ফেলে অবাঞ্চনীয় গুটিগুলো বের করে নতুন করে গাঁথতে ইচছা করে। আর ওই গুটিগুলো বাগানের সেই কোনায় পুঁতে ফেলতে ইচ্ছা করে, এক প্রচন্ড অভিমানী সকালে যেখানে স্বপ্নের সমাধি করেছিলাম। পদ্যের দল এখন সেখানে বড় হওয়া শিম লতার শিরায় শিরায় পুষ্টি যোগায়।
ইচ্ছে হয়, তবু প্রচন্ড শক্তিমান এক অদৃষ্টের হাতে বাঁধা এ হাতদুটো। মৌন অসহায়ত্বে দেখে যাই মালার প্রায়-স্বয়ংক্রিয় গেঁথে যাওয়া। হঠাৎ মুঠোফোনের দেয়াল চুইয়ে আসে সীমাহীন অভিমান, ক্ষোভ, অনুযোগ। সেদিনের নি:শর্ত পরম আশ্রয়ের চারিদিকে নাজিল হওয়া অভেদ্য, শীতল কঠিন প্রস্তরের দেয়াল গলাতে পারি না নোনা জলের উত্তাপে। অক্ষম আমি মাঝের অভিমানের বিশাল সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে রক্তাক্ত হই, অন্ধ এ চোখে দেখতে পাই নি যার সৃষ্টি প্রকিৃয়া।
অভ্রমানবী! হাহ!
অভ্র প্রতিমার স্বচ্ছ দেয়াল থেকে বিচ্ছুরিত ঝকমকে রঙিন আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায় এক ভ্রান্তিবিলাসীর। পাহাড়সম দৃঢ়তা টলে যায়। এক পৃথিবী ভরা প্রেম, মৃগ্ধতা আর আলো নিয়ে হাজির হয়, শ্বাসরুদ্ধকর নিবেদনে ভরে উঠে আরাধ্য দেবীর প্রতিটা অনু, পরমাণু। ভঙ্গুর অভ্রে ফাটল ধরে...
আত্মসমর্পনের তার বড় শখ হয়। কিন্তু ভালবাসার দায়বদ্ধতায় বন্দী যে সে। তাই মালগাড়ি ভর্তি পাইকারি স্বপ্নের কঠিন শাসানিতে অসহায় দেবী ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে... দুর্বল হাঁটু ভেঙে আসে, তবুও...
[ছবিটা মাউন্ট কিয়ারায় মেঘের সাগরে ডুবে থেকে তুলা]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



