somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেসবুক আমার মা'কে যা দিয়েছে

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'সারাক্ষণ ফেসবুক ফেসবুক। কি মধু আছে এই ফেসবুকে? বন্ধুদের সাথে তো সারাক্ষণ ই দেখা হচ্ছে, তো এই ফেসবুকে আবার কিসের এতো রসের আলাপ? আর কোনো কথা থাকলে ফোন করে কথা বল। চোখের সামনে এই জাদুর বাক্স নিয়ে বসে থাকতে থাকতে তো চোখটা যাবে একদিন.......... আই...... তুই কি আমার কথা শুনতেসিশ?'

-উফফ মা, Disturb কইরো না তো। তুমি এইসব ফেসবুক টেসবুকের মানে বুঝবানা'

'তো মানে বুঝায় দিলেই তো হোয়। দে একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে, আমিও চ্যাট করি, দেখি তোরা কি এমন মজা পাস এইসব করে'

-'তোমাকে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়ে কি হবে?তুমি কার সাথে চ্যাট করবা? তোমার ঐ লেতরা বান্ধুবী গুলার সাথে? যারা কিনা তোমাকে একটা কল ও দেয়না? আর কে আসে তোমার পরিচিত বন্ধু শুনি?'

সেইদিন আম্মু আর কিছু বলল না। আমিও আমার Virtual best friends দের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। ভাবলাম, আম্মুর মত আমার এমন অবস্থা কখনো হবে না। আমি সব সময় আমার friends দের সাথে যোগাযোগ রাখবো। বিয়ে করে ফেললেও যোগাযোগ রাখবো।
(অথচ স্কুল- কলেজ লাইফের যেই জানের চেয়েও প্রিয় বান্ধুবীটা তার ছিলো, তার সাথে কলেজ শেষ হওয়ার পরদিন থেকেই যে যোগাযোগ নেই, সেই খবর রাইমাকে খুব একটা বিচলিত করে না,কেনোনা তার মতে, এমন তো হতেই পারে, এটা তেমন কোনো বড় ব্যাপার না)

মাস খানেক পর রাইমার মা আবারও মেয়ের কাছে হাজির হল সেই একি আবদার নিয়ে। তাকে এখন ফেসবুক খুলে দিতেই হবে।
-'আম্মু, এর আগের বার যখন তোমাকে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলে দিসিলাম, তুমি তো তখন ফিরেও তাকাও নাই। তুমি ব্যবহার করনাই দেখে ঐ অ্যাকাউন্ট একেবারে বন্ধই করে দিসি। আমার তো মনেও নাই ঐ অ্যাকাউন্ট এর details'

'আরে দে না একটা নতুন আইডি খুলে,কি ই বা আর এমন হবে? এইবার অবশ্যই শিখবো। আমার কলেজ লাইফের বন্ধুদের খুজবো। ওদের সাথে চ্যাট করবো। দে না রাই একটা নতুন আইডি খুলে।'

-'আচ্ছা আচ্ছা বাবা দিচ্ছি দাড়াও।'

অতঃপর আমার আম্মুকে ফেসবুকে একটা নতুন আইডি খুলে দেয়া হল। এবং শুরু হয়ে গেলো তাকে ফেসবুকের বিষয়ে ট্রেইনিং দেয়া। প্রতিদিন এক এক জন বন্ধু- বান্ধুবীদের আম্মু খুঁজে খুঁজে বের করে আর সেই খুশিতে লাফায়। আমি অবশ্য এতোটা তোওয়াক্কা করতাম না। কারণ আমি তো আবার আমার নিজের বন্ধু- বান্ধুবীদের নিয়েই ব্যাস্ত ছিলাম।

একদিন আম্মু ডেকে বললো, ' রাই দেখে যা, আমার friends রা এক এক জন কোথায় চলে গেসে আর আমি কই পরে রইলাম।'
প্রথমে আমার আম্মুর সেই so-called established (আমি যা ধারনা করেছিলাম আরকি) বন্ধুদের একদমই দেখতে ইচ্ছা করছিলো না। কিন্তু যখন দেখা শুরু করলাম, আমি তো পুরাই হতবাক হয়ে গেলাম। বলতে গেলে প্রত্যেকেই সমাজের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব। কেও ডাক্তার, কেও ইন্জিনিয়ার, কেও অনেক বড় ব্যাংকার, আর আমার মা? নিজের সংসার-সন্তানদের গড়ে তুলতে যেয়ে নিজেই যেন কোথাও হারিয়ে গিয়েছে।
এসব দেখে আম্মুর সাথে সাথে আমারও মনটা ইক্টু খারাপ হয়ে গেলো।

পরদিন আম্মু তার এক বান্ধুবীকে রাতের বেলায় মেসেজ পাঠায়। মেসেজে তার ফোন নাম্বার চায়। ওপার থেকে সাথে সাথে রিপ্লাই ও চলে আসে( ওয়াহ!!) যাইহোক, বান্ধুবীর সাথে দীর্ঘ অনেক বছর পর কথা বলতে পারবে দেখে সেই উত্তেজনায় রাত ১১;৩০টার দিকেই আম্মু তাকে ফোন দিয়ে দিলো। আমি তো ভাবলাম এত রাতে ফোন দেয়াটা আম্মুর ঠিক হলনা। ওমা!!! সে কি? ঐ আন্টি ই দেখি ফোন রাখার কোনো নাম ই নেয় না। দুই বান্ধুবী মিলে অনেকক্ষণ গল্প করলো। আমি লক্ষ করেছিলাম, আম্মু যখন উনাকে হেলো বলল, তখন আম্মুর নিঃশ্বাস বেড়ে যায় আর অতি সুখে কাতর হয়ে আম্মুর প্রায় কান্নাই চলে আসে।
ফোন রাখার পর যা বুঝলাম, তারা সবাই ই এতদিন আম্মুকে খোঁজার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কারোর কাছেই আম্মুর সাথে যোগাযোগ করার কোনো ঠিকানাই ছিলো না। তাই কারর সাথেই আম্মুর কোনো যোগাযোগ হতে পারেনাই।

এতদিন পর বান্ধুবীকে ফিরে পেয়ে আম্মু যেমন উত্তেজিত, ওপড় পাশের আন্টও ঠিক তেমনি উত্তেজিত। এরা এতই উত্তেজিত হয়ে গিয়েছে যে, পরের দিন ই এরা সবাই দেখা করার প্ল্যানও করে ফেলেছে।

আজ সকাল থেকে তাই আম্মু অনেক খুশি। খুবই সতঃস্ফুর্ত ভাবে সব কাজ করছে।আর দুপুর বেলা খেয়ে দেয়ে আম্মু অবশেষে তার বান্ধুবীদের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়।
অনেকদিন পর আজকে আম্মুকে এত খুশি হতে দেখলাম।
খাঁচায় বন্দি এক পাখি তার সাথীদের খোঁজ পেলে যেমন ডানা ঝাপটিয়ে উড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, আম্মু ঠিক ওমনটাই করছিলো। অবশেষে আম্মু বুঝলো ফেসবুকের মূল্য।
আর এতদিনপর আম্মুর মনে এই উদ্দীপনা এনে দেয়ার জন্য আমি ফেসবুক কে ধন্যবাদ জানাই।
Thank You Facebook :)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:৩১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠেলায় নাম বাবাজি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৯


সময়টা সরকারের জন্য মোটেও ভালো যাচ্ছে না। একদিকে গ্যাস আর বিদ্যুতের সংকটে মানুষ প্রতিদিন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের বাধার মুখে পড়ছে। ফলে সরকার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×