-- শোন,একবার শোন আমার কথাটা! হঠাৎ এক হাত টান দিয়ে এই মেয়ে একবার শোন আমার কথাটা
-- তুমি আমার হাত টান দেয়ার কে,হুম
আচ্ছা কি বলবা? তাড়াতাড়ি বলো
-- গত তিনদিন ধরে তোমাকে কতবার ফেবু,হোয়াটস'অ্যাপে নক করলাম
তুমি রিপ্লে দিলানা কেন?
-তোমার সাথে কথা বলতে আমার
আর ভালো লাগেনা তাই
তোমাকে এড়িয়ে চলতে চাচ্ছি।
এখন কি বলার জন্য
আমাকে ডাকলে?
তাড়াতাড়ি বল আমার কাজ
আছে।
-- তোমার কি এমন কাজ আছে ?
যা আমার কথার
চেয়ে বেশি ইমপরটেন্ট?
-- বাজে কথা বন্ধ করে বলো
কি বলবা?
-- বাজে কথা মানে..? সেদিন বলেছিলে আমার পাশে থাকবে সবসময় কিন্তু এখন...??
-- হ্যা, বলেছিলাম তার মানে তো এই নয়
আমি তোমাকে ভালবাসি..??
-- তুমিতো জানতে আমি তোমাকে কতটা ভালবাসি
-- সেটা তোমার ব্যাপার আমার কিছু যায় আসেনা
-- মানে কি...?
-- তোমার গল্পগুলো ভালো
লাগতো খুব প্রতিভাগুলো ছড়িয়ে দাও,কাজে দিবে...?
-- ধন্যবাদ
-- চল একটু খোলামেলা জায়গায় যাবো। তোমার
সাথে আমার অনেক ইমপরটেন্ট
কথা আছে।
-- আমি যেতে পারবোনা।
-- কেনোওওওও?
-
বললামতো আমি যেতে পারবোনা।
আমার মুড নাই। আর তোমার
সাথে কোথাও যেতে আমার ভালো লাগেনা এখন...
-- কেনো ?? সবসময় এ কথাটা বলে গেছো জানতে চাইলেও এড়িয়ে যেতে সবসময়
.
কারণ তোমার কোনকিছুই ভালো লাগেনা আমার,তোমার কোন নিজস্ব স্টাটাস কিংবা স্টাইল নাই
। সবসময় একইরকম কেমন জানি..? তোমার সবকিছুই আমার মমনের উল্টো। নাই কোন চুলের স্টাইল, কোনদিন ভালো একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে যেতে পেরেছো এতদিনে। আচ্ছা, তারপরও কেনো তুমি
আমার পিছনে লেগে থাকো
সবসময়?
-আজও এখনও
তোমাকে ভালোবাসি বলে এখনো তোমার
পিছনে
লেগে আছি আমি,তুমি আমার প্রথম ভালোবাসা বলে। আর
হ্যাঁ কি বললে স্মার্ট আর রেস্তোরার কথা।একদিন মনে আছে বলেছিলে মানুষের মনটা সুন্দর হলেই হয় আর কিছুর প্রয়োজন হয়না...
.
কিছুক্ষণ শুনশান নীরবতা
.
-- শোন আমি পুরনো দিনের কথা আর
মনে করতে চায় না আমি চললাম
bye ...
-- হুম,Bye শব্দটি আমার কপালেই লিখা ছিলো
-- দোয়া করো, যাতে আসলেই Bye হয়ে যেতে পারি
-- কি করবা তুমি..
-- জানিনা
থাম এখন কই যাবা তুমি?
-- মরতে যাবো আমি। আর
হ্যাঁ কোনো দিন আমাকে ফোন
দিয়ে ডিস্টার্ব করবানা।
কথাটা যেনো তোমার মনে থাকে।
-
এই রিক্সা যাবে?
কই যাবেন আফা?
এইতো সিটি কলেজের মোড়ে ,কতো ভাড়া?
৬০ টাকা লাগবে আফা।
-- মেয়েটা রিক্সায় উঠে বসলো।
আমি আমার ছেঁড়াফ্যাটা মানিব্যাগ থেকে খুঁজে-ফিরে ৬০
টাকা বের
করে রিক্সাওয়ালাকে দিলাম।
-ওই তুমি ভাড়া দিবানা বলে দিচ্ছি।
.
আমার কাছে ভাড়া আছে। আর
হ্যাঁ আপনি ওর কাছ
থেকে ভাড়া নিবেন না।
যদি নেন তাহলে আমি আপনার
রিক্সা থেকে নেমে যাবো।
-- তাকিয়ে থাকলাম মেয়েটার রিক্সার গমন পথের দিকে
মেয়েটার রিক্সাটা একসময় ঝাপসা হয়ে গেলো। শুধু একটাই কষ্ মেয়েটা আমাকে ভুল
বুঝলো। আমার মনের ফিলিংসটা ও
আজও পর্যন্ত বুঝতে পারলোনা।
জানি আর
কখনো দেখা হবেনা আমাদের।
এটাই শেষ দেখা।
সত্যি আমি তোকে খুব
ভালোবাসি মেয়েটাকে .. ..
.
প্রায় দু-মাস পরের কথা একদিন
.
রাতের আধাঁরে হাটঁছি সোডিয়ামের সাদা আলোর দেখানো পথ ধরে এখানকার পরিবেশটা অনেকটা থমথমে, খুব একটা লোকজন এদিকে আসেনা বোধহয় তাই খুব উপভোগ করা যায় সময়টাকে। এইতো কয়েক সপ্তাহ আগেই একটা লোকের ফাঁসি দেয়া লাশ নামিয়েছে পুলিশ, আমি আসিনি লাশ খুব ভয় পাই কিনা তাই এদিক ওদিক ভাবতে ভাবতেই,
হঠাৎ করেই বিকট শব্দে ফোন বেজে উঠলো। সেল ফোনের
স্ক্রিন বলছিল, আননোন নম্বর। কিন্তু নম্বরটা আমার বড্ড চেনা।
বড্ড বেশি চেনা।
.
একটা মানুষকে সহজেই ফোনবুক থেকে মুছে ফেলা গেলেও,
মস্তিস্কের প্রতি নিউরনে গেঁথে যাওয়া অনুভুতিগুলো মোছা যে সম্ভব নয়।
ভাবছি ধরবো না ধরবো না, কিন্তু কোন এক আবিষ্টতায় যেন ফোন টা না ধরে থাকতে পারলামনা।
-হ্যালো!
-হুম বল।
-চিনতে পেরেছো?
-তোমার গলা কী করে ভুলি..... ?
-এ নাম! এখনো!
-হা..হা.. হা, নদীর স্রোতের ধারা যে চিরকালই বয়ে যায়।
-তোমার কথা গুলো আজো খুবই এলোমেলো। আসলে প্রতিটা কথাই গুলিয়ে ফেলি বুঝে উঠবার আগেই।
-হয়তো বা! কেমন আছো?
-ভালই আছি। তুমি?
-আগেকার মতই। আপেক্ষিকতায় আবিষ্ট!
-হুম।
-নতুন কাউকে পেয়েছো?
-হ্যা।তুমি পেয়েছো?
-হ্যা, হয়তো বা।
-ভাল।
-তোমার সবচেয়ে অপ্রিয়কর কবিতাগুলো কি এখনো লিখো?
- লিখি বোধহয়।
- তোমার পেজ-টায় লিখো।
- নাহ,তোমাকে কতবার বলেছি ওটা আমার পেইজ নয়.....
-ভালই। তোমার কিছু বলার নেই?
-আমি বলব,
"সুখে থাক তুমি, ভাল থাক
প্রার্থনা নয়,অভিশাপ "। কখনো Bye কিংবা বিদায় জানাইনি তোমাকে, আজও জানাবোনা
(কেটে দিলাম ফোন)
এর পর ফোনটা আবার পড়ে রইল পকেটের এক কোণে।ফোনের ওপারে কী ঘটলো,তা নিয়ে ভাবি নি। ভাবনার অপমৃত্যু যে
অনেক আগেই হয়ে গেছে।
আরেকটা সিগারেট ধরলাম আর সিগারেটের ঘন কালো ধোঁয়ায় নিজেকে আবার হারিয়ে ফেললাম আর হেঁটে বেরাচ্ছি অনন্তকালের পথ ধরে
#অভ্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





