somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ জাহিদুল ইসলাম (অভ্র)
মহান সৃষ্টিকর্তার নশ্বর পৃথিবীতে আমি একজন ঠুনকো ছায়া। হয়তো একদিন চলে যাবো,চলে যাবে আমার সব চাওয়া-পাওয়া কিংবা পদরেখা। তবে, রেখে যেতে চাই নিজের তৈরী করা কিছু কীর্তি। যাতে, আমার প্রতি ভালোবাসা কারো কমে না যায়। ভালোবাসুন ভালো থাকুন....

আর কতকাল করে যাবো পাকিস্থানের শোষণের পর ভারতের গোলামী কিংবা ভারতপ্রীতি

২৪ শে মার্চ, ২০১৫ সকাল ৯:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন ধরে ভাবছিলাম, বাংলাদেশ সেমিতে যাবে সেই
নিয়ে কিছু একটা লিখে ফেলবো!!! কিন্তু,আফসোস সে স্বপ্ন আর
বাস্তবে রূপ পেলোনা !!!
.
সহ্যেরও একটা সীমা আছে কিন্তু সহ্যাদ্রি হয়ে গেলে সেটা
আর সহজে চেপে রাখা যায়না তারই বহিঃপ্রকাশ এটা;
.
বাংলাদেশ কি ইন্ডিয়ার আশীর্বাদ না কষ্টার্জিত ? আমি যদি
বলি,"ইন্ডিয়ার আশীর্বাদ" কথাটা তো ভুল হবেনা।
যুদ্ধের শেষে আত্নসমর্পনের ছবিটা দেখলে এটাই স্পষ্টভাবে
প্রমাণিত হয়...
.
হ্যা,শেষ এক মাস ভারত যুদ্ধ করেছে, তারা অবশ্যই
আমাদের সাহায্য করেছে,কিন্তু সত্যিকারের যুদ্ধ কিন্তু আমরাই
করেছি, আর শেষ সময়ে আন্তর্জাতিক মহলের খুব চাপ ও ছিল
পাকিস্তানের উপর। আর হ্যাঁ, ভারত এগিয়ে না আসলেও যুদ্ধটা
আমরাই শেষ করতাম, হয়তো ৯ মাসের জায়গায় ১৮ মাস লাগত।
ভালই হতো তাহলে কেউ আর আলাদিনের চেরাগের গল্প করতো
না!
.
যারা মনে করে ভারতের সাহায্য ছাড়া কখনোই জয় আসতো না-
তাঁদের বলি- জয় আসতোই।ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত বৃথা যেত না।
তাই দালালি বাদ দেন।
আর ভারতও বুঝতে পেরেছিল বাঙালিরা সত্যি জিতে যাবে-
তাই তারাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, তাঁদের আমরা
কেউই ছোট করছি না।
কিন্তু যুদ্ধটা আমাদের ছিল,আমরাই জয় করেছি।প্রথম দিকের
সময় আমরা যা হারিয়েছি সেটা
কোন দেশ কিংবা রাষ্ট্র হারায়নি। তবুও আমরা হাল ছেড়ে
দিইনি, আমাদের সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধারা কঠোরহস্তে দমিয়ে
গেছেন সেটা।
.
আমাদের অত্যাধুনিক যন্ত্র-গোলাবারুদ দিয়ে ইন্ডিয়া আমাদের
সাহায্য করেছে ভালো কথা কিন্তু তাই বলে তো এই নয় যে
তারাই শুধুমাত্র এই বিজয়ের দাবিদার।
কিন্তু, বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে আমাদের দেশের কিছু কিছু
মুক্তচিন্তার নাম করে দিনের পর দিন দালালি করে যাচ্ছে।
.
বাংলাদেশের সেই স্বাধীনতার পয়ঁতাল্লিশ বছর পরও ইন্ডিয়া
শোসন করে যাচ্ছে। সাধারণত ক্রিকেট বিশ্বকাপের মাধ্যমেই
তা নতুন করে আবার জানান দিলো ইন্ডিয়া।
বাংলাদেশের নামকরা স্বনামধন্য সব শিল্পপতি আর ধনাঢ্য সব
কোম্পানিতে ভরপুর কিন্তু সাধারণত
চার বছরের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পন্সর
হতে
চায়না !!!
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্পন্সর হতে সর্বোচ্চ ৯.৪ মিলিয়ন
মার্কিন ডলার দাম হেঁকেছিল সাহারা
ইন্ডিয়া। রবি হেঁকেছিল ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার,
গ্রামীনফোন সর্বনিম্ন ৩.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গ্রামীনফোন- নরওয়ে, সাহারা- ইন্ডিয়া, রবি - মালয়েশিয়ান
কোম্পানি।
.
দুঃখজনক ব্যাপার হল আমাদের মতো একটা ক্রিকেট
পাগল জাতির জাতীয় দলের স্পন্সর হতে এগিয়ে আসেনি
বাংলাদেশের কোন শিল্প উদ্যেক্তা।
.
বাংলাদেশ ফুটবল
ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ফুটবলের জন্য একটা
স্পন্সর জোগাড়ে করতে যেয়ে কিভাবে ব্যাবসায়ীদের দ্বারে
দ্বারে ঘুরেছেন, ব্যাবসায়ীদের হাতে- পায়ে ধরেছেন আমরা
সবাই দেখেছি। ১৬ কোটি মানুষের দেশে পঞ্চাশের
উপরের টেলিভিশন চ্যানেল থাকলেও একটাও ষ্পোর্টস
চ্যানেল নেই। ব্যাপারটা লজ্জার না? কিন্তু আমাদের গানের
আর সংবাদের জন্য আলাদা চ্যানেল আগাছার মত হয়ে যাচ্ছে
.
আমরা যখন বিদ্যা-বালানের টয়লেট নেই বিঙ্গাপন দেখে হাসি-
ঠাট্টা করছি, ভারত
তখন রকেট জিএসএলভি (এমকে-৩) এর সফল উৎক্ষেপণ করে
মহাশূন্যে মানুষ পাঠানোর পথে এগিয়ে যাচ্ছিল....
.
বাংলাদেশী সাইবার বাহিনী যখন ১২০০ ইন্ডিয়ান সাইট হ্যাক
করে
আত্মতৃপ্তিতে ভুগে, ভারতীয়রা তখন সৌদি আরব এবং চীনকে
পেছনে ফেলে অস্ত্র আমদানিতে শীর্ষে উঠে মিটিমিটি
হাসে......
.
ভারত আর আমাদের ডিফারেন্সটা এখানেই....।আমরা যেটা
পেশা হিসেবে দেখি ওরা সেটা বিনোদন মনে করে।
.
আপনি
ভারতীয় গরুর মাংস খেয়ে,ভারতীয় জামা-কাপড় পড়ে সারাদিন
ভারতীয় চ্যানেল দেখবেন,
কাজ ফেলে পেনড্রাইভ নিয়ে # সানি_লিওনের ভিডিওর খোঁজে
এখানে ওখানে ছুটে বেড়াবেন, সামান্য ঠান্ডা জ্বর হলেও
চিকিৎসার জন্য ভারতের মাদ্রাজে দৌড় লাগাবেন আর
ফেসবুকে এসে
এয়ারটেল সিম বন্ধের ইভেন্ট খুলে দেশপ্রেম দেখাবেন, ভন্ডামি
ছাড়েন মিঞা।
.
বাংলাদেশের ৬০% মানুষ এখনও আমাদের মা-
বোনের ধর্ষক, ভাইয়ের হত্যাকারী দেশ পাকিস্তানকে সমর্থন
করে। সমস্যা সেটা না সমস্যা হলো, বাংলাদেশের পাওয়ার অফ
এটর্নিরাই ভারতের পা-চাটা গোলাম হয়ে গেছে। এ দল গেলে
অন্য দল আসবে তখন আবার তারা আমেরিকার পা-চাটা গোলাম।
ধীরে ধীরে আমরা নিজেরাই নিজেদের পরাধীন করে ফেলছি,
ভুলে যাচ্ছি এটা আমাদের মাতৃভূমি।
.
ভারতীয়রা ক্রিকেটকে হত্যা করেছে, আমরা হত্যা
করেছি আমাদের জাতির পিতাকে। আমরাও সাধু না।
যেখানে সরকার বদলে বদলে জাতির পিতাও পরিবর্তিত
হয়,সেখানে আর নিজ দেশের সম্মান বলে কতটুকু আশা করা যায়।
ভারতীয়দের অনেকের সাথে অনেকবার মেশার সুযোগ হয়েছে।
বলতে
লজ্জা নেই ভারতীয়রা যে পরিমান দেশপ্রেম ধারণ করে আমরা
তাঁর সিকি ভাগও ধারণ করিনা। ফ্রেন্ড লিস্টে আমরা জায়গা
দিতে পারিনা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বন্ধুদের, জামাত- শিবির
বিরোধী দুর্ধর্ষ সব যোদ্ধাদের অথচ কোন প্রোগ্রামে রাজপথে
নামতে বললে দেখবেন সাধারণত এদের একটা বড় অংশকে আর
খুজে
পাচ্ছেন না।সেটার প্রমাণ # নাফি_ভাইয়ের ইভেন্টেই ডাকতে
ডাকতে গলা ভেঙ্গে যায় তবুও তাদের পাওয়া যায়না।
আমরা এমনই....। আজ যারা ভারতীয়দের গালাগালি করছে, টিম
ইন্ডিয়াকে # রেন্ডিয়া বলে গালাগালি করছে তাঁরাই দেখবো
কিছু দিন পর
আইপিএল এ টিম নিয়ে মাতামাতি শুরু করবে। নতুন ইস্যু সামনে
এলে
আমরা পেছনের সব কিছু ভুলে যাই....। বিনোদনের সাথে কিন্তু
খেলা মিশাবেননা,এমন কথাও শুনতে পাওয়া যায়।
.
আসেন ইন্ডিয়ার সিগারেট-মদ-গাঁজা টেনে,
রাস্তা- ঘাটে ইভটিজিং করে অনলাইনে এসে চটি পড়ে
# ফেবুতে নীতি কথার ঝুড়ি
নিয়ে না বসে, লাইক- কমেন্টের ধান্ধা বাদ দিয়ে অনলাইন নয়,
অফলাইনে আমরা একটু হলেও আমাদের দেশপ্রেম দেখানোর
চেষ্টা করি।অন্তত রাস্তের পাশের পথশিশু কিংবা যে
মুক্তিযোদ্ধা বাবাটা আজ রিক্সা চালাচ্ছে তাদের জন্য কিছু
করে দেখাই। দেশটাকে ভালবাসি, দেশের সম্মানের জন্য কিছু
করি।
.
দেশটাকে দুর্নীতির শীর্ষস্থানে না নিয়ে, উন্নতির
শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়ার পথে হাঁটি।
শপথ করি, # ইন্ডিয়ার_সাহায্য_নয়_নিজের_সামর্থে_এগিয়ে_যাবো_ইনশাল্লাহ্
.
সবশেষে, কালকের ম্যাশ ভাইয়ের কথা দিয়ে শেষ করবো,জীবন
কারো জন্য থেমে থাকেনা......
.
-------
অন্ধকার আকাশ্
-------
.
#অভ্র
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×