somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিতলেন দুই নেত্রী, হারলো বাংলাদেশ

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
জিতলেন দুই নেত্রী, হারলো বাংলাদেশ


অবশেষে বাংলাদেশের চলমান সহিংসতার আন্দোলন, অবরোধ ও দাবী না মানার লড়াইয়ে দুই নেত্রী যার যার অবস্থানে অনড় থেকে জিতে গেলেন। আর তাদের এ গোঁয়ার্তুমিতে পুরো মাত্রায় হেরে গেল বাংলাদেশ তথা বাংলাদেশের আপামর জনগণ। আমেরিকান কংগ্রেসম্যানদের সই জাল করা ও ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজিপি’র সাধারণ সম্পাদকের ফোন আসা জনিত বারাবারি মিথ্যাচার এ দেশকে যতোটা খাটো করল, তার চেয়ে অনেক বেশি খাটো করলেন দুই নেত্রী তাদের সভ্যতা বিচ্যুত আচারণে।
যেই জনগণের দোহাই দিয়ে তারা রাজনীতি করছেন সেই জনগণকেই তুলোধুনো করে, জ্বালিয়ে - পুড়িয়ে মারার রাজনীতি করছেন একজন। অন্যজন এই জ্বলে-পুড়ে যাওয়া মানুষের শারীরে মলম পট্টির যাবতীয় খরচ জোগানোর ঘোষণা দিয়ে দ্দিব্বি আনন্দে প্রতিসমাবেশ করছেন ও বিরোধী দলকে হেনস্থা করতে এ গুলোকই তুলে ধরছেন বিশ্ববাজারে।
কি অদ্ভুত আমাদের রাজনীতিকদের জাতি স্বত্ত্বাবোধ?


সেই ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনকে ঘীরে শুরু হওয়া দুটি দলের মধ্যকার যুদ্ধ আজ এতোটাই প্রকট যে একে ‘সাপ আর বেজীর লড়াই’ না বলে অন্য কিছু বলা যাবেনা।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার শহীদ পিতার আদর্শকে পুঁজি করে যে রাজনীতির চর্চা শুরু করেছিলেন, সেই রাজনীতিতে তিনি এখনো কতটা আছেন তা বলাবাহুল্য। তবে তার নব রাজনীতিক কৌশলে মিথ্যাচার আর প্রবঞ্চণা এতোটাই যে, গত ৬ বছরে তার সরকারের গৃহিত যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকান্ড, সে তুলনায় অতি ম্লান।বিশেষ করে সম্প্রতী, বেগম জিয়াকে তার পার্টি অফিসের সামনে অতিপুলিশ, জলকামান, ইট-বালু বোঝাই ট্রাক ফেলে পথ আটকে রেখেও যখন বললেন তিনি বন্দি না, এর চেয়ে মিথ্যাচার আর কি হতে পারে?
অন্যদিকে ‘ঠাকুর ঘরে কেরে, আমি কলা খাইনা’ প্রবাদটিকে বার বার সত্য প্রমাণ করছেন বি.এন.পি নেত্রী খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ যখনই বলছে - বিএনপির আন্দোলন করার মুরোদ নেই, তখনই তিনি বা তারা আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে আর নিজে পার্টি অফিসে বসে কলা-ই খাচ্ছেন।যদিও আপাতদৃষ্টিতে সরকারই তাকে কলা খাওয়াচ্ছেন, সরকারি অবরোধের মাধ্যমে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে। সম্প্রতী তিনি যে অবরোধ ডাকলেন, সেটাতে কেউ সমর্থন করুক বা না করুক, আমি অন্তত করছি, কারণ এ অবরোধটা দু’দিন আগে সরকারই শুরু করেছেন বিএনপির সমুহ সমাবেশ ঠেকাতে।তবে এই অবরোধের নামে যে জ্বালাও পোড়াও চলছে আমি এর তীব্র নিন্দ ও ঘৃণা জানাই। পরিস্থিতির বিবেচনায় বলা যায়, আন্দোলন আর অবরোধের ডাক দিয়ে বেগম জিয়া যেন নিজেই এখন মহা বিপাকে। তার নেতা কর্মীরা কেউ মাঠে নেই এ কথা আরসবার সাথে সরকারী দলের নেতাকর্মীরাও বার বার বলছেন। তাহলে পেট্রোল বোমার ধ্বংসযজ্ঞ কে বা কারা চালাচ্ছে?
২১ জানুয়ারী সকাল ৯টার সংবাদে বণানী থানা পুলিশ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ কোনো এক জামায়াত নেতাকে মহাখালী থেকে ধরেছেন বলে সংবাদ সম্মেলন করলেন।খুব সম্ভব এটাই প্রথম সংবাদ সম্মেলন যেখানে আসামী উপস্থিত নেই।কেমন রহস্যময় নয় কি?
গত ১৮ দিনের অবরোধে আঙ্কুর আর আকরাম ছাড়া কোনো হামলাকারীকে গ্রেফতার বা আটক করা গেলনা। অথচ অগ্নিদগ্ধ মানুষের আহাজারী ক্রমশ বাড়ছে বার্ণ ইউনিটে। ছোট্ট শিশুটিও রেহাই পাচ্ছেনা।
এক মিলন আর নূর হোসেনের লাশ স্বৈরাচার এরশাদকে বিবেকবান করে তুললো অথচ শত শত নিরিহ মানুষের লাশ বাংলাদেশের দুই নেত্রীর বিবেককে এতোটুকু স্পর্শ করতে পারলো না।কি অসাধারণ এদের ক্ষমতা ধরে রাখার লিপ্সা?
এবার একটু অতীতের দিকে তাকাই। ফিরে যাই ২০০৬ সালের প্রেক্ষাপটে। খালেদা জিয়ার বিখ্যাত উক্তি - ‘শিশু আর পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়’, তাই বিএনপির অধীনে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানালেন তিনি। শুরু হলো লগি-বইঠার ভয়াভহতা। সাপের মত মানুষকে পিটিয়ে মারা হলো।দাবি একটাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অনেকগুলো প্রাণ ঝরে গেল সেই আন্দোলনে। ১১ দিনের মাথায় দাবি মেনে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন পাশ করে ক্ষমতা ছাড়লেন খালেদা জিয়া সরকার। প্রশ্ন এখানেই, যে খালেদা বা বিএনপির অধিনে হাসিনা বা আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিলোনা সেই হাসিনার অধিনে খালেদা কি করে নির্বাচনে আসবে।সুতরাং বিএনপির দাবি ছিল যৌক্তিক। ৫ই জানুয়ারির নিয়ম রক্ষার নির্বাচনে অনেক স্থানেই ব্যাপক কারচুপি ঐ সময় মিডিয়া তুলে ধরেছে, যা প্রমাণ করেছে হাসিনা সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি যদি সত্যিই নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চাইতেন তাহলে সর্বপ্রথমে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতেন এবং নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব থাকতো ঐ নির্বাচন কমিশনের। তা না করেই, তারা গণতন্ত্রের নামে প্রহসণ করছেন আর দেশের আপামর জনগণকেই শিশু ও পাগল বানিয়ে রেখেছেন।
একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন ও একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি হতে পারতো বিএনপির আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার। যেখানে ১৬ কোটি মানুষকে তারা যুক্ত করতে পারতেন। বিশ্ববাজারে যখন তেলের দাম কমে গেল, আমাদের দেশে তখনো একই দর। এ নিয়ে মন্ত্রীদের একজন যখন বললেন, ‘দেশে তেলের দাম কিছুতেই কমানো হবে না’।
তখনই বিএনপির উচিৎ ছিলো এ নিয়ে আন্দোলনে যাওয়া। জাতীয় কোনো সংকটে বিএনপির আন্দোলন নেই। ভারতের রাজনীতিবিদ এসে এ দেশে সাম্প্রদায়ীক উস্কানী দিলেন। বিএনপি চুপ। অর্থাৎ তাদের শুধু ক্ষমতাই চাই। জনগণ বাঁচলো না মরলো তাতে কিছুই আসে যায় না। অথচ শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ছিলো - ‘গ্রামের সাধারণ মানুষের বাঁচার নিশ্চয়তা আগে। কৃষকের উন্নয়ন আগে, তারপর ধনি ও বণিকদের কথা ভাববো।’ জিয়াউর রহমানের এ শিক্ষা বিএনপির নের্তৃত্বের কোথাও নেই।
একই কথা বলা যায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে নিয়েও, জাতির স্থপতি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে দু’পায়ে মাড়িয়ে তারা এখন এতোটাই অন্ধ যে, সাধারণ মানুষ কি চায় তা বোঝার কোনো চেষ্টাই নেই, বরং তারা কি চান, সেটাই মানুষকে বোঝাতে জোর যার মূল্লুক তার নীতি চালু করছেন। বলা যায়, আজকের এই সহিংসতার ৮০ ভাগ দায় ই তাদের ঘাঢ়ে বর্তায়। রাজনীতির অপ বলে যা কিছু আছে, তার সবটাই তাদের থেকে শিখছে অন্যরাও। হয়তো বলবেন, একটা প্রমাণ দেখানতো?
কত প্রমাণ চান, ব্যংক কেলেঙ্কারী, শেয়ার বাজার, এ গুলো কীভাবে ধামাচাপা পড়ে গেল ভাবুন। সাগর রুনির হত্যার বিচার কি পেয়েছেন? গতকালের হত্যার বিচার যে আজ করতে পারে না, তার কাছে ৪৪ বছর আগের হত্যার বিচার কি ন্যায্য হবে? এটা খুবই স্বাভাবিক প্রশ্ন। এখানেও বিএনপির যুক্তি অকাট্য, তবে আন্দোলনের ধারা ভুল।
সবশেষে বলবো, এই দুটি দলের কাছে ক্ষমতা-ই সব, জনগণ তুচ্ছ। তাই এদের বয়কট করতে শিখতে হবে আমাদের। নতুন কাউকে, নবীন কাউকে হাল ধরতেই হবে। বেরিয়ে আসতে হবে এই পারিবারিক ধারার রাজনীতি থেকে। কবে হবে তা। আল্লাহ আমাদের সহায় হোউন।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×