শিং যখন বড় হয়ে যায়
কিছু ষাঁড় তখন আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে,
তখন তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য
নাকে রশি ঢুকানো হয়,
যাকে বলা হয় "নত" লাগানো।
এটা লাগানোর সময়
ষাঁড় যন্ত্রণায় লাফালাফি শুরু করে,
তাই তাকে ভালোভাবে দঁড়ি দিয়ে বেঁধে
উপরে বাঁশ ফেলে পাঁচ-ছয় জন ধরে রাখে
যেনো ষাঁড় কোনোভাবেই নড়তে না পারে।
তারপরে তার "নত" লাগিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
বলে রাখা প্রয়োজন যে, এই সব কিছুই করা হয় ষাঁড়ের ভালোর জন্য।
যারা গ্রামে থাকেন বা কখনো গ্রামে গেছেন
তারা এই ব্যাপারটি জানার কথা।
উপরের বিষয়টি বলার উদ্দেশ্য হয়তো ইতিমধ্যে সবাই আন্দাজ করতে পারছেন।
সাকিবুল হাসান বাংলাদেশের গর্ব।
আমাদের অহংকার।
আজকের সাকিবুল হাসানের পিছনে এই দেশের ষোল কোটি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রয়েছে।
সে বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ রিপ্রেজেন্টিভ।
সে আমাদের জন্য অনেক সুনাম বয়ে নিয়ে এসেছে।
তার অবদান কম নয়।
আর এইজন্যেই তার জন্য এই দেশের মানুষ এতো পাগল।
তাকে ভালোবাসে বলেই আইপিএল খেলার সময় সবাই মিলে কলকাতা নাইট রাইডারসকে সাপোর্ট দেয়।
কিন্তু সব কিছুর একটা সীমা আছে।
সে প্রথম অন্যায় করে সাবেক বিসিবির সভাপতি মোস্তফা কামালের পায়ে পড়ে মাপ চেয়ে ক্ষমা চাইলো।
আমরা তখনও তার পক্ষে কথা বলেছি।
তারপর আবার এই দেশের মানুষের শারীরিক সক্ষমতা-অক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললো!
তাতেও আমরা তার পাশেই ছিলাম।
বউয়ের জন্য ভক্তকে পিটিয়েছে,
তারপরেও আমরা চুপ।
কিন্তু এইবার সে এই দেশ, যে দেশ তাকে সাকিবুল হাসান বানিয়েছে, সেই দেশকে অবজ্ঞা করলো।
বিদেশ থেকে এসে আবার বীরদর্পে তা অস্বীকার করলো।
কিন্তু আড়ালে গিয়ে আবার সেই মাপ চাওয়া।
আর কত!?
সব কিছুর একটি মাত্রা আছে।
সে এই মাত্রা অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে।
বিসিবির সভাপতিকে ধন্যবাদ।
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য।
আশা রাখি, তার ইতিবাচক ব্যবহারের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রদত্ত শাস্তি কমানো হবে।
যারা সাকিবুল হাসানের সকল অপরাধকে খাটো করে দেখে অন্ধভাবে তার পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছেন,
তারা প্রকৃতপক্ষে সাকিবুল হাসান বা এই দেশের ভালো চান কিনা,
সেই ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
মনে রাখতে হবে,
ষাঁড়ের ভালোর জন্যই কিন্তু তার "নত" লাগানো হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




