
বড়ো আদর করে খাবার এনেছে আট বছরের মেয়ে
উল্লাসে তাই বাবার বুকে খুশিতে গিয়েছে ছেয়ে।
গামছা বাধা বাটিবুটি আর সিলভার জগে পানি
ছোট ছোট পায়ে হেঁটে এসেছে অনেকটা পথ জানি!
বাবা তুমি কই? খাবার এনেছি এইখানে বসো আলে
সাদা ভাত আর আলুর ভর্তা আমড়া দিয়েছি ডালে।
পুঁইশাক আর মরিচ পোড়া সঙ্গে চিংড়ি গুড়া
পটলের সাথে টেংরা মাছে দিয়েছি লম্বা সুরা।
গামছা খুলে সানকি ভরে দিয়েছে ভাত বেড়ে
বাবার দাড়িতে ধুলোবালিগুলি দিয়েছে হাতে ঝেড়ে
বাবা ভাত খায় মেয়ে খালি দেখে এটা ওটা দেয় ঠেলে
শরীর তোমার ভেঙ্গে পড়ে যাবে সবগুলো না খেলে।
মেয়ের আদর-শাসনে খেয়ে খুশিতে আটখানা
সন্ধ্যা অবধি মনের আনন্দে কাজ করে একটানা।
এগারো বছর পরে...
বিয়ে হয়ে গেছে মেয়েটুকু তার, মন বসে না ঘরে।
সবকিছু আছে ঠিকঠাক মতো শর্ষেক্ষেত ও নদী
আগের মতোই কলকল করে পানি চলে নিরবধি।
মেয়েটুকু আর ভাত নিয়ে এসে ডাকে না ক্ষেতের আলে
বলে না বাবা আরো ভাত খাও টক দিয়েছি ডালে।
শর্ষেক্ষেতে বাতাস যখন দোলখেয়ে চলে যায়
মনে হয় যেন মেয়েটা আসে নূপুর পরা পায়।
এমনই অনেক দুঃখ আছে বাবাদের মনে মনে
হঠাৎ হঠাৎ কুঁকড়ে ওঠে স্মৃতি রোমন্থনে...!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

