somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেমন গেল আমার পহেলা বৈশাখ...?

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেমন আবার যাবে...! আগের মতোই। তবে একটু অন্য রকম ভাবে। পহেলা বৈশাখ নিয়ে আমার খুব একটা মাথা ব্যথা নাই বললেই চলে। ঢাকায় আসার আগে যখন বাসায় থাকতাম বা কলেজের হোস্টেলে থাকতাম তখন একটু আধটু পহেলা বৈশাখে ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু ঢাকায় আসার পর থেকে একেবারেই কিছু করা হয় না। কিছু না করারও কিছু না কিছু কারন আছে। ইসলামে এরকম মঙ্গল শোভাযাত্রা এর মত র‍্যালি বা মিছিল নিয়ে কিছু বিধিনিষেধ আছে। না জেনে অনেক কিছুই করা যায়, কিন্তু জেনে শুনে তো আর ভুল কিছু করতে পারি না।
এজন্যই কখনোই আমার মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাওয়া হয় নাই,
ইভেন সামনাসামনি এখনও দেখা হয়নাই জিনিসটা কি... :D যাওয়া ঠিক কি ঠিক কিনা সেটা নিয়ে আলোচনায় গেলাম না। গেলে অনেক দূর জেতে হবে, আমার স্বল্প জ্ঞান দিয়ে এতদুর যাওয়া সম্ভব না বলে আলোচনাটা এখানেই বাদ দিচ্ছি। তবে আমি জতদুর জেনেছি, পড়েছি এবং বুঝেছি তাতে মনে হয়েছে যে ইসলামে এরকম করা নিশেধ আছে, আর এজন্যই গেলাম না বা কখনোই যাই না।
...যাক আজকের দিনটার কথা বলা যাক। আগেই বললাম যে পহেলা বৈশাখ নিয়ে আমার খুব একটা আবেগ কাজ করে না, এক দিনের জন্য আমি বাঙালি হতে চাই না। আমি জেরকম বাঙালি সেরকম সব সময়ে থাকতে চাই। এটাই আমার আদর্শ। অনেক কেই দেখলাম ঠিক রাত ১২টা বাজার সাথে সাথেই “শুভ নববর্ষ” বলার জন্য হিড়িক ফেলে দিল। এমনকি অনেকেই আমাকে ফেসবুক এ বা মোবাইল এও মেসেজ দিল। আমি তাদের মেসেজ এর কোন রিপ্লাই দেই নাই পর্যন্ত। কারন আর কিছুই না, যাদের বাংলা সম্পর্কে আইডিয়াই নাই তাদের আর উইস করেই বা কি হবে। তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে ইংরেজি দিন শুরু হয় রাত ১২ টায়, হিজরি দিন শুরু হয় সূর্য অস্ত যাবার সাথে সাথে, আর আমাদের বাংলা দিন শুরু হয় সূর্য উদয়ের সাথে সাথে... সুতরাং... (বুঝে নিন...)

পহেলা বৈশাখ নিয়ে আগে থেকে কোন প্লান ছিল না। তবে সপ্তাহ খানেক আগে একবার প্লান করেছিলাম যে মানিকগঞ্জের বালিহাটি জমিদার বাড়ি সাইকেলে করে যাবো, সারাদিন সেখানে থেকে আবার বিকেলে ফিরে আসব। যাওয়া আসা মিলে ১২০+ কিমি. হত। মোটামুটি সব ঠিক ছিল, কিন্তু ইদানিং যে রকম গরম পরেছে তাতে এই প্লান টা বাদ দিয়ে দিলাম।
আগের দিন সব স্টুডেন্ট কে জিজ্ঞেস করলাম যে আমি পড়াতে আসব কিনা, না করলো সবাই, বুঝলাম হয় সবাই কাপল বা সবারই কোন না কোন প্লান আছে। খালি আমারি প্লান নাই। ভেবেছিলাম অন্তত স্টুডেন্ট পড়াবো সেটাও হল না, ফলাফল সারাদিন ঘুমানোর প্লান করলাম ১৩ই এপ্রিল। অনেক দিন শান্তি করে ঘুমানো হয় না। :D
এখন হুট করে তো সারাদিন ঘুমানো যায় না, এজন্য আগের রাতে (১৩ এপ্রিল) দুইটা এনিমেশন মুভি দেখলাম। তারপর চিন্তা করলাম অনেক দিন আমার ব্লগ এর ডেভলপমেন্ট এর কোন কাজ করা হয় না আজকে কিছু করা যাক, এই চিন্তা করে বসে পড়লাম আমার ব্লগটা আবার নতুন করে ঢেলে সাজানর কাজে। প্রায় ৪০০০+ লাইন এর HTML এডিট এর কাজ করলাম, বেশ কিছু নতুন এবং চমকপ্রদ ফিচার অ্যাড করলাম। এই কাজ করতে করতেই দেখি চখ একেবারে বন্ধ হয়ে আসতেছে। পিসি এর ঘড়ির দিকে চখ যাওয়াতে চোখ একেবারে ছানাবড়া হয়ে উঠলো। :O
৫.১৯ বাজে... কি আর করার আরও কয়েকটা কাজ ছিল হাতের কাজটা শেষ করে বাকি কাজগুলো অসমাপ্ত করে ঘুমাতে গেলাম। তখন ঘড়িতে ৫.২৮ বাজে।

ঘুম ভাঙল একেবারে দুপুর ১২.৪৫ এ। উঠেই দাঁত ব্রাশ করলাম, পিসি অন করলাম, আগের রাতের অসমাপ্ত কাজ শেষে বসে পড়লাম। কাজের ফাকে ফাকেই ২৫০গ্রামের চানাচুরের প্যাকেট শেষ করে ফেললাম। কাজ আবারো সমাপ্ত রেখে নামাজ পরে এসে আবার কাজে বসে পড়লাম। এর মদ্ধে একবার টায়ার্ড লাগায় শুয়ে শুয়ে “বিগ ব্যাং থিওরি” এর একটা এপিসোড দেখে মনটা ভালো করে নিলাম। :D

কাজ শেষ করে ব্লগটা ঘুরে এলাম একবার। ভালোই লাগলো। পেটে একটু ফাকা ফাকা লাগাতে সময় দেখলাম, ৩.৪০ বাজে। গোসল সেরে নিয়ে গিয়ে খাওয়া সেরে এসে একটু মুভি দেখতে বসলাম। দেখতে দেখতে শুয়ে পড়লাম, শুয়ে শুয়ে দেখতে দেখতেই ঘুমিয়ে গেলাম। স্বপ্ন দেখলাম ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে। স্বপ্নে দেখলাম যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত হাতিরঝীল এ সাইকেল চালিয়ে পার্সোনাল কয়েকটা রেকর্ড করলাম। (বেশ কিছু দিন থেকেই এইটা প্লান করতেছিলাম)।
ঘুম ভাঙল ঠিক ৬.৪৫ এ। ঘুম থেকে উঠেই নামাজ পরে সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম স্বপ্নে দেখা কয়েকটা রেকর্ড ব্রেক করার জন্য। কিন্তু হাতিরঝীল এ যে পরিমান জ্যাম দেখলাম তাতে বুঝলাম যে আজকে আর এই রেকর্ড ব্রেক করা সম্ভব না। এবং আসলেই সম্ভব হয় নাই। তবে যে প্লান ছিল হাতিরঝীল এ সেই প্লান শেষ করেছি। ৩টা ল্যাপ কমপ্লিট করেছি। এরপরে হলে চলে এলাম সোজা। এসেই ফ্রেশ হয়ে লিখতে বসেছি...
সংক্ষেপে এই ছিল আজকের আমার দিনলিপি।



এবারে আসুন আমরা পহেলা বৈশাখ নিয়ে কিছু কথা বলি...
ইসলামের দিক থেকে বলতে গেলে অনেক কিছুই বলা সম্ভব, সেদিকে গেলাম না। কারন আমার জ্ঞান অনেক কম। কিছু করা ঠিক কি ঠিক কিনা সেটা নিয়ে আলোচনায় গেলাম না। গেলে অনেক দূর জেতে হবে, আমার স্বল্প জ্ঞান দিয়ে এতদুর যাওয়া সম্ভব না বলে আলোচনাটা এখানেই বাদ দিচ্ছি। তবে আমি জতদুর জেনেছি, পড়েছি এবং বুঝেছি তাতে মনে হয়েছে যে ইসলামে এরকম করা নিশেধ আছে। সে কথা থাক... আমরা সামাজিক এবং বাঙ্গালিপনা দিক থেকে কিছু কথা বলি... তার আগে ফেসবুক থেকে পাওয়া একটা প্যারডি গান দেই, দেখেন, অনেক মজা পাবেনঃ
“>বৈশাখী থিম সং <
.
এক দিনের বাঙ্গালী..
ফোরটিন ফোরটিন..
পান্তা ভাতের
কাঙ্গালি.. হাউ
এক্সাইটিং.. .
ভন্ডামি ওয়েটিং..
টেনশন টেনশন..
ধিন ধিতান ধিন ধিন..
রমনাতে আগুন দিন.. .
বৈশাখ
শেষে হৈ হৈ বাঙ্গালীরা গেল
কৈ।? বৈশাখ
শেষে হৈ হৈ বাঙ্গালীরা গেল কৈ।?

তেঁতুল দেখে..
লালা ড্রপিং লালা ড্রপিং..
চেতনার লীলাখেলা.. জাস্ট ওয়েটিং জাস্ট
ওয়েটিং..
পুলা মাইয়া শাউটিং..
চেতনা রকিং..
শিয়ালেরা চিয়ারিং এভরিবডি হিয়ারিং.

তেঁতুল খাদকদের
জমবে লড়াই..
খুশির সীমা নাই..
দেখবে দুনিয়া চলবে খেলা.. একি সাথে সবাই.... নাই নাই বাধা যে নাই
বৈশাখি মেলায় যাইইইইই....!!!”

স্বীকার করেন আর নাই করেন আমরা কিন্তু এরকম বাঙালি।


যে দেশে মানুষ তিন বেলা না, দুই বেলাই ঠিক মত খেতে পারে না সে দেশে ২৪ হাজার টাকা দিয়ে এক হালি ইলিশ খাওয়া নিতান্তই ফ্যাসন ছাড়া আর কিছুই না। আর এক দিন পান্তা ইলিশ খেলেই বাঙালি হওয়া যায় না। আমি দেখেছি, যখন গ্রামে ছিলাম তখন। মানুষ পান্তা খায় কাবার কিছু না পেয়ে। আবার গ্রামে যারা একটু সচ্ছল তাঁরা পান্তা খায় গরমের জালায়। আর তোমরা করতেছে কি? পান্তা খাচ্ছ বাঙ্গালিপনা দেখাতে... ট্র্যাডিশন মেইন্টেইন করতে...!!!
ক্ষুধার জালায় একটাবার খেয়ে দেখ...
আরে আমরা এমন বাঙালি যে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে আমরা ইংরেজি বা হিন্দি গান বাজাই, সেই গানের তালে তালে আবার ডিজে পার্টি করি...!!! :D এমন বাঙালি আমরা...

মঙ্গল শোভাযাত্রা করলেই বাঙালি হওয়া যায় না, শুধুমাত্র একদিন পান্তা ইলিশ খেলেই বাঙালি হওয়া যায় না, একদিন পাঞ্জাবি আর শাড়ি পরে ঘুরলেই বাঙালি হওয়া যায় না... কিভাবে হতে হয় সেটা আমি তোমাদের শেখানোর জন্য লিখতেছি না, পারলে নিজে শিখে নিও।



সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১২:৩৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×