
না... এরা কোন বড়লোকের কিউট কিউট বাচ্চা না... এরা হচ্ছে পথশিশু যাদের অনেকেই কটাক্ষ করে টোকাই বলে ডাকে...
একটা কথা আছে, নাই কাজ তো খই ভাজ... আমার মতো কিছু মানুষের কাজ নাই যাদের তারা একটা সংগঠন গড়ে তুলেছে এই সব পথশিশুদের কিছুটা হলেও দেখভাল করার জন্য। Mastul - মাস্তুল ...
জাহাজের মাস্তুল... রবীন্দ্র সরোবরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই সংগঠন এর কার্যক্রম... তাদের সাথে জয়েন করার পরে থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার যাওয়া হয় রবীন্দ্র সরোবরে, বিকেলটা কাটিয়ে আসি কিছু বাচ্চার সাথে...
আজকেও গেছিলাম... ভোর ৮ টা থেকে ৩.৪৫ পর্যন্ত ক্লাস করে বৈকালিক ঘুম এর তোয়াক্কা না করেই চলে গেছিলাম সেখানে ৪.৩০ এর দিকে... একটু আগেই যাওয়া হয়েছিল মনে হয়... দেখি কেউ কোথাও নাই... শুধু কাপল আর কাপল... একটু বসতে না বসতেই দেখি একটা পিচ্চি হাত বাড়িয়ে দিছে... না টাকা চাওয়ার জন্য না... হাতে হাত মেলানোর জন্য। মুখে একটা লাজুক হাসি ঝুলিয়ে রেখে জিজ্ঞেস করল, “ভালো আছেন ভাইয়া? আর ভাইয়ারা কই?”
- আসতেছে...
– সাইকেলটা চালাই একটু...?
– নিয়া যাও। খালি ফালাইও না...
খুব খুশি মনে নিয়া গেল সাইকেল নিয়া... পাশেই এক কাপল ছিল বসে, ছেলেটার আবার সাইকেল। কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “সাইকেল নিয়া পালাবে তো। তখন কি করবেন...?”
- নারে ভাই... এরা আমার আপনার মতো এতোটা লোভী না। এদের এতো টাকার দরকার নাই যতটা না আমার আপনার দরকার... এদের দরকার একটু আনন্দ... তাকিয়ে দেখেন কতোটা আনন্দ নিয়ে সাইকেল চালাচ্ছে... এ সাইকেল নিয়া কোথাও যাবে না...”
কিছুটা লজ্জাই পেল মনে হয়... একটু পরে চা নিয়া আসলাম খাব বলে... মাঝে মাঝে আমি রবীন্দ্র সরোবরে আসি শুধুমাত্র এই চা খাবার জন্যই। অনেক ভালো লাগে আমার। দুই চুমুক দিছি মনে হয়। এমন সময় আরেক পিচ্চি এসে হাজির... হাসিমুখে হাত মিলানর জন্য হাত বাড়িয়ে দিছে। হাত মিলায়া পাশে বসিয়ে চা খাওয়ালাম ওকে। বোতল কালেকশন এর বস্তা আমার কাছে রেখে সাইকেলের পিছে দৌড়... আয়েস করে বসে আরেককাপ চা নিয়া আসলাম। আরেকজন এসে হাজির...
ওকেও দিলাম চা... (পুরো সময় জুরে ৩ কাপ চা এর নেবার পরেও ১ কাপ চাও পেটে গেছে কিনা সন্দেহ...)
দেখতে দেখতে আর সকলেই চলে এল, পিচ্চিরাও কেমন করে জানি টের পেয়ে গেছে আমাদের উপস্থিতি...
...দেখতে দেখতেই কেটে গেল অনেক সময় পিচ্চিদের নিয়া... ধুলি কাদায় মাখামাখি হয়ে দৌড়-ঝাপ করেই কেটে গেল সময়। এখন বেশ পরিচিত হয়ে গেছি এদের সাথে... দেখলেই চিনে ফেলে... হাসি মুখে ভাইয়া ভাইয়া ডেকে হাতে হাত মিলায়... যেগুলা বেশি পিচ্চি সেগুলা আবার কোলে উঠার জন্য দুই হাত বাড়িয়ে দেয়... কিসের কাপড় নোংরা হবার ভয়? কিসের গায়ে ধুলি-কাদা লাগার ভয়? কিসের কি...? একটি নিষ্পাপ শিশু ভালবেসে হাত বাড়িয়ে দিছে... সেটা ফিরাই কেমন করে? সাথে সাথেই তুলে নেই বুকে... পাশে বসে থাকা কেউ হয়তো চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে দেখে... অনেকেই হয়তো আফসোস ও করে...
আসেন, দেখেন আমাদের কার্যক্রম... মিশে দেখেন পিচ্চিদের সাথে... দেখবেন আপনার জীবনের অনেক ভালো কিছু মুহূর্ত কাটবে এদের সাথে... আগামী কাল এই পিচ্চিদের জন্য আমরা আয়জন করেছি ফুচকা বিলাস নামের এক ইভেন্ট এর। অনেক তো ফুচকা খেলেন... বিএফ/জিএফ, ভাই-ব্রাদার অনেকের সাথেই খেয়েছেন, কিন্তু কখনো এই পিচ্চিদের সাথে খেয়ে দেখেছেন কি...? ইচ্ছে হলেই চলে আসতে পারেন আমাদের সাথে এই আনন্দ ভাগাভাগিতে... আজ শুক্রবার ৩ টার সময় থেকে শুরু হবে...
আমরা সকলেই সব সময়ে জন্মদিন পালন করে থাকি, কিন্তু এই পিচ্চিরা কখনো করে না... তাদের জন্য আয়জন করা হয়েছে সবার কমন জন্মদিন এর কেক কাটা। এছারা তাদের জন্য থাকবে বেশ কিছু মজাদার গেম শো...
ইচ্ছে হলে ঘুরে দেখতে পারেন আমাদের কিছু বাউন্ডুলে ছেলের “ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর” কাজ... ইচ্ছে হলে আসিয়েন... কথা দিচ্ছি সারাটা বিকেল অসাম কাটবে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




