
দেশের আইন কানুন সব কিছু জনগণের বিপক্ষে । সংবিধান জনগণের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার কোন ভাবেই নিশ্চিত করতে পারছে না। এই কাটা ছেড়া অসম্পূর্ণ সংবিধান কোন ভাবেই জনগণের উপকারে আসছে না। নতুন ভাবে দেশের ও জনগণের জন্য পরিপূর্ণ সংবিধান প্রণয়নয় এখন সময়ের দাবী। সংবিধান জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করতে পারেনি। আবার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকেলও জনগণ তাঁদের ভোট যথাযথ যোগ্য ব্যাক্তিকে দিতে পারে না। যেমন একদল কোন সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, অবৈধ ভাবে উপার্জিত অঢেল অর্থের মালিক ও অসৎ ব্যাক্তিকে নমিনেশন দিলে অন্য দলগুলো তার সাথে পেড়ে ওঠার জন্য ঠিক তেমনি আরেক জন সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, অবৈধ ভাবে উপার্জিত অঢেল অর্থের মালিক ও অসৎ ব্যাক্তিকে নমিনেশন দেয়। আবার সৎ লোক যেন নির্বাচনে না আসতে পারে সেই পথও রুদ্র করে রাখে। ফলে জনগণ সংবিধানিক ভাবে অসৎ ব্যাক্তিকেই ভোট দিতে বাধ্য। আবার যদি জনগণ সৎ লোক না পেয়ে ভোট প্রদানে বিরত থাকে তাহলে বিনা ভোটেই সংবিধান প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে। গত কেয়ারটেকার সরকারের সময় ব্যালট পেপারে "না" ভোট প্রতীক রেখেছিল যদি কোন প্রার্থীই যোগ্য না হয় তাহলে জনগণ "না" ভোট দিয়ে অসৎ প্রার্থীদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করবে। কিন্তু আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গিয়ে প্রথম সংসদ অধিবেশনে আইন টি রহিত করেছে। আবার যদি কেহ প্রার্থী হতে চাই জাতীয় নির্বাচনে তাহলে দেশের যে কোন স্থানে নির্বাচন করতে পারবে সংবিধান তাঁকে সেই অধিকার দিয়েছে কিন্তু জনগণ/ ভোটার দেশের যে কোন স্থানে তাঁর ভোট প্রদান করতে পারবে না নিজের এলাকা ছাড়া । সংবিধান জনগণের সেই অধিকার হরণ করেছে। সারা বিশ্ব যখন সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা বারবার পিছনে ফিরে যাচ্ছি। আমরা চল্লিশ বছর পরে আবার ৭২'র সংবিধানে ফিরে গেছি শুধু রাজনৈতিক হীন উদ্দেশে। যে সংবিধান জনগণের অধিকার সংরক্ষণ করে না, যে সংবিধান সুশাসন ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করে না, যে সংবিধান দলের প্রধান আর রাষ্ট্র প্রধান আলাদা করতে পারে না সেটি আসলে কিসের সংবিধান? তবে ভুলে গেলে চলবে না যে এই সংবিধান আমাদের দেশের রাজনীতিকরাই প্রণয়নয় করেছে তাদের নিজেদের সুবিধার জন্য। কাটা ছেড়া সংবিধান দিয়ে তো আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। পশ্চিমা বিশ্বে কমবেশি সব দেশেই প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র আছে তারপরেও জার্মান বংশদ্ভুদ আমেরিকান কবি ও লেখক চার্লস বুকওয়স্কি বলেছেন যে, "গণতন্ত্র আর স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য হল গণতন্ত্রের জন্য আগে ভোট দিতে হয় তারপর শোষিত হতে হয় আর স্বৈরতন্ত্রের জন্য ভোট দিয়ে সময় নষ্ট করতে হয় না"। অপেক্ষাকৃত প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের প্রতি তিনি এমন ধরনা ব্যাক্ত করেছিলেন তাহলে কল্পনা করা যাই আমরা কোন গণতন্ত্রের মধ্যে বাস করছি। ব্রিটেনে আগামী ৭ মে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী আমেজে দেশ মুখরিত সেখানে বিভিন্ন মাধ্যমে এই কথাগুলো খুব বেশি শোনা যাচ্ছে ...If you don't do Politics, Politics will do you,your vote is most valuable..... তাই ব্রিটিশ-বাংলাদেশীরাও বসে নেই তাঁরাও ব্রিটেনে মূলধারার রাজনীতি করছে। এবার ১১জন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁদের মধ্য অধিকাংশ বিজয়ী হওয়ার সম্ভবনা আছে। বিজয়ী হলে অনেকে মন্ত্রী হওয়ার প্রবল সম্ভবনা আছে। রাজনীতি আপনি না করলেও রাজনীতি আপনাকে করবে। তাই আসুন দেশ ও জনগণের ভাল হয় এমন কাজের জন্য আমরা রাজনীতি করি।
জয় হোক মেহানতি মানুষের।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৫ ভোর ৪:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




