somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিকল্প গণমাধ্যম হিসেবে বাংলা ব্লগ ও আমাদের সামু।

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলা ব্লগিং যে কত বড় পরিসররের একটা মুক্তচিন্তা প্রকাশের বা চর্চার প্লাটফরম তা আমাদের চিন্তারও বাইরে। বলা হয় গণতন্ত্রের মজবুত ভিত হিসেবে গণম্যাধম এখন একটি অঙ্গ হয়েছে। সামাজিক গণমাধ্যম হিসেবে বাংলা ব্লগ বিশেষ করে সামু’র গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা ব্লগিং করতে এসে পরিষ্কার বুঝতে পারছি যারা আমাদের কাছে অনেকে বিশিষ্ট কলাম লেখক, সমালোচক, বুদ্ধিজীবী হয়ে বিশেষ করে একমুখী ভাবে প্রকাশিত বা প্রচারিত বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক অথবা মাসিক পত্র-পত্রিকাতে বা টেলিভিশনে তাঁদের লেখা বা মতামত প্রকাশ বা প্রচার করে থাকেন তার বেশীর ভাগ বিষয় যেমন বেশ বিতর্কিত তেমনি অনেক ক্ষেত্রে ডাহা মিথ্যা। কিন্তু আমরা প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে পারিনা একমুখী প্রচার মাধ্যম বা ব্যাবস্থার কারণে। আমরা বহু সময় নষ্ট করেছি তাঁদের অনেকের চাপিয়ে দেওয়া মিথ্যা, বিতর্কিত, বানোয়াট লেখা পড়ে। এই ব্লগিং-ই আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে দ্বিমুখী প্রচারণা বা প্রকাশনার। আমরা কেউ একটি লেখা লিখলে অনেক চিন্তা,গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত্য যাচায় করে তারপর লিখি যেন কেউ ভূল প্রমাণিত করতে না পারে।কারণ কেউ মিথ্যা বা বানোয়াট এমনকি বিতর্কিত বিষয় ব্লগে প্রকাশ করলে সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য। মন্তব্য যে সব সময় ইতিবাচক হবে তার কোন গ্যারান্টি নেই। লেখা ভাল হলে ইতিবাচক আর না হলে নেতিবাচক হবে তা অনুমেয়। তবে সব ব্লগার এবং পাঠক বন্ধু সমীপে আবেদন মন্তব্য যেন অশ্লীল না হয়। পত্রিকার সম্পাদক বলেছে তারাতারি লেখা পাঠান পণ্ডিত সাহেব না হলে যে পত্রিকার সব পাতা ভরা মানে পূরণ হবে না। বিজ্ঞাপন দিয়ে তো আর সব পাতা ভরা যাচ্ছে না। সম্পাদকের জরুরী অর্ডার আবার রুটি রুযীরও তো ব্যাপার আছে তাই না? তাই যা মনে আসে তাই লিখে পাতার পর পাতা ভরে ফেলে। পড়াশোনা নেই, গবেষণা নেই বুদ্ধিজীবী তকমা লাগিয়ে টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে গিয়ে হাজির। কিসের মধ্যরাত আর কিসের শেষ রাত!তর্ক-বিতর্ক অনেক সময় অশ্লীলতায় রূপ নেয় এমনকি হাতাহাতি পর্যন্ত হয়, বাধ্য হয় অনুষ্ঠান বন্ধ করতে। আর যাইহোক আমার মধ্যে একটি ধারণা হয়েছে যে, যারা ব্লগিং করেন তাঁরা অন্তত পড়েন। হতে পারে কোন কারণে বায়াস বা পক্ষপাতিত্ব কিন্তু তাঁরা পড়েন। এমন কি যারা মন্তব্য করেন তাঁরাও বেশ ভাল ভাবে পড়েন অন্তত আমার পক্ষে তাই ঘটে। গত কয়েক দিন ধরে একুশে টেলিভিশনে মধ্যরাতের একটি অনুষ্ঠান ফলোআপ করছি, যেটা জনাব অঞ্জন চৌধুরী এর উপস্থাপনায়। “একুশের রাত” নামে অনুষ্ঠানটি লাইফ প্রচার হচ্ছে। সেখানে দুটি টেলিফোন নাম্বার দেওয়া হয় যথাক্রমে ৮১৮৯৫১১ এবং ৮১৮৯৫১২ অতিথিদের সাথে সরাসরি কথা বলে মন্তব্য জানানোর জন্য। বেশ কয়েক দিন ধরে লাগাতার চেষ্টা করলাম। ফোন বাজে কিন্তু ধরে না। পরে ভাল করে খেয়াল করে দেখি তাঁদের বা উপস্থাপকের সামনে কোন টেলিফোন নেই। অন্য এক মাধ্যমে আমার এক ঘনিষ্ঠ একজনের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারলাম যে আগে মানুষ ফোন করে মতামত দিত বা প্রশ্ন করত অতিথিদের তাঁরা দর্শকদের কোন যথার্থ উত্তর না দিতে পেরে বিব্রত হত তাতে অনুষ্ঠানের আমেজটা নষ্ট হয়ে যেত। তাই এখন ফোন রিসিভ করা হয়না। পুরো অনুষ্ঠান ধরে একটি ফোন এলো না এটা কি অনুষ্ঠানের সুনাম কমে না? সরল উত্তরস্বরূপ অভিব্যাক্তি আর কত কমতে বলেন আপনি?
এর আগে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক জনাব সোহরাব হাসান তাঁর নিজের পত্রিকা সেইজন্য যা ইচ্ছা তাই লিখেছেন। পুরো মিথ্যা একটা ইতিহাস পাতা ভরে লিখেছেন। আমি তাঁর অসংগতি গুলো চিঠি আকারে লিখে ইমেল করেছি কয়েকবার কিন্তু তিনি কোন উত্তর দেননি। তিনি একটা জায়গায় লিখেছেন ১৯৭১ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ হয়েছে। আমি তাকে চ্যালেঞ্চে করেছি যে কোন তথ্যের ভিত্তিতে আপনি বলেন যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ না হয়ে পাক-ভারত যুদ্ধ হয়েছে।
অনেক পত্রিকা এখন অনলাইন ভার্সন আছে যেখানে আপনি কমেন্ট করতে পারেন। কিন্তু সেখানেও বিপদ আপনি আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে পড়ে মন্তব্য করলেন কিন্তু মন্তব্য যদি তাঁর বা কর্তৃপক্ষের অনুকূলে না হয় সে মন্তব্য প্রকাশ করবে না আর প্রকাশ হলেও তাঁরা আপনার মন্তব্যে কোন জিজ্ঞাসা থাকলে তাঁর প্রতিমন্তব্য করবে না।
আমাদের প্রচলিত গণ মাধ্যমগুলো এই সমস্ত অসঙ্গতির আঁতুড় ঘর হওয়া আর বাংলা ব্লগের আধুনিক সংস্করণ এর জন্য বাংলা ব্লগ বিশেষ করে সামু(http://www.somewhereinblog.net) মুক্তবুদ্ধি চর্চার এক অনন্য সামাজিক গণমাধ্যম যা প্রচলিত গণমাধ্যম এর সংজ্ঞা-ই বদলে দিতে সক্ষম।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৪৫
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×