somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাসুম এইচ বিল্লাহ
প্লিজ, পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন; আমি দশ মিনিটের মধ্যে আসছি... (~_^)

একটি পুরানা রম্য গল্প

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একবার এক গ্রামের এক পন্ডিত মশাইয়ের কাশির সাথে খুব ছোট পালকের মত কিছু একটা বের হয়ে এসেছিলো। এটা দেখে তো পন্ডিত মশাই খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন। খুব ভয়ও পেয়ে গেলেন তিনি। না জানি এটা কোথা থেকে আর কেমন করে তার পেটের মধ্যে গিয়ে ঢুকলো? তিনি বেশ চিন্তায় পড়ে গেলেন।

দুপুরে বাড়িতে গিয়ে খাবার দাবার খেয়ে পন্ডিত মশাই দুশ্চিন্তার সাগরে ডুবে ডুবে পাখির পালক খুঁজতে লাগলেন, ভাবতে লাগলেন আর কাহিনী উদ্ধারের চেষ্টায় পড়ে গেলেন।

তখন তার বিবিজান মানে তেনার গিন্নী সাহেবা তেনার এইরাম মনমরা মুখ দেইখা কিছুটা অবাক হইলেন। তার সোয়ামী সাধারনত এরকম হয়ে মনমরা থাকেন না। জিজ্ঞেস করলো,
"কি গো সোয়ামি, আপনের মুখটা আইজকা অমন হুকনা ত্যানার মত হুকাইয়া রইছে ক্যান? কি হইছে, মাথা ঘুরাইতেছে? আমি তেল মালিশ করে দিই!"

বিবিজানের কথা শুইনা ত্যানা বদনে পন্ডিত সাহেব বললেন,
"না গিন্নী, মাথা ধরে নাই। আইজ একখান খারাপ ঘটনা অই গেছে গিন্নী। এখনো পর্যন্ত কাউরে কিচ্ছু কই নাই। তোমারে কইলে তুমি কাউরে কইবা না তো?"

হস্ত কচলিত করতে করতে হকচকিত হইয়া গিন্নী সাহেবা বলিলেন,
"আস্তাগফিরুল্লাহ। আপনের ইস্তিরিরে আপনে অবিশ্বাস করেন? :'( সোয়ামির গোপন কথা কি কোন বউ কোনোদিন কাউরে কয়? আল্লার কিরা কইলাম আমি কাউরে কিচ্ছু কমু না।"

তারপরে সোয়ামি পন্ডিত তার গিন্নীকে এক নিঃশ্বাসে পালক সম্পর্কিত সমস্ত কাহিনী কইয়া তারপর এক মগ পানি ডগ ডগ শব্দে পান কইরা ইয়া বড় এক ঢেকুর দিয়া হাঁফ ছাড়িলেন।

গিন্নী পালকের কাহিনী শুইনা কয়েক পলক কি ভাইবা কইল, "ঠিকাছে, আমি কাউরে একথা কক্ষনো কমুনা।"

কিন্তু কাহিনী শুনার পর থেকে তো গিন্নী সাহেবের পেটের ভিত্রে মোচরামুচরি শুরু হইয়া গেছে। কথাটা কোনোমতেই তার পেটের মধ্যে হজম হইতেছে না। কাউরে না বললে যেন তার শান্তি নাই এরকম। হয়তোবা মেয়ে জাতির পেট বলে কথা.... (এইটা কিন্তু আমি মনে মনে বলছি)

সন্ধ্যায় গিন্নী গ্রামের পুকুর থেকে পানি আনতে গেল। আর সেখানে তার ছোটকালের সখী কাকুলির সাথে তার দেখা।
এবার পন্ডিতের গিন্নী আর কাকুলির ডায়লগ লাইভ শুনেন...

গিন্নীঃ কাকুলি, তুই হইলি আমার পরানের সঁই। আমি কি তোরে আমার পরাণের হগল কথা না কইয়া কখনো থাকবার পারি? ক...?

কাকুলিঃ ক্যান, কি হইছে কমলা বু...?

গিন্নীঃ কেমতে যে তোরে আমি কইতাম, হেইতেনে তো আমারে কিরকা দিয়া কাউরে কথাডা কইতে মানা কইরা দিছে।

কাকুলিঃ আরে কি কইবা তারাতারি কও তো। আর একটা দুইটা কিরকা ভাঙলে কিচ্ছু হয় না। আমি কত কিরকা ভাঙছি তার হিসাব নাই। তুমি নিশ্চিন্তে কইতে পারো...

অতঃপর পন্ডিত সাহেবের একমাত্র বউ গিন্নী সাহেবা কাকুলীকে ঘটনাটা গোপন রাখিবার শর্তে সবিস্তারে কাহিনী খানকি ছিলো তা বর্ননা করিলেন।

কাকুলি পুরা কাহিনী শুইনা কইল....,
"ঠিকেছে বু। আমি এই কথা জিন্দেগিতেও কাউরে কমু না। এমনকি কাক পক্ষীও আমার এই কথা কোনোদিন জানবার পারব না। বিশ্বাস না হইলে আমি মা কালির দিব্যি খাইলাম।"

দিন গিয়ে রাত হলো। রাত পেরিয়ে সকাল এলো। আর পন্ডিতমশাইর ঘুম ভাঙলো। কিন্তু বাইরে শোরগোল মনে হইলো তার। লোকজনের শোরগোলের আওয়াজ শুনে পন্ডিত মশাই ঘুম থেকে উঠে তার গিন্নীকে ডাকতে লাগলেন। কিন্তু তিনি গিন্নীর কোনো সাড়া শব্দ তিনি পাইলেন না। শোরগোল কেবল বাড়তে থাকলো॥


এবার এট্টু খেয়াল কইরেন...
গোপন কথাটা প্রথমে শুধু পন্ডিত মশাই জানত। পন্ডিত তার গিন্নীকে জানালেন, আর গিন্নী থেকে কাকুলী, কাকুলী থেকে শ্যামলী, শ্যামলী থেকে নিলুফা, নিলুফা থেকে হনুফা, হনুফা থেকে তার স্বামী মফিজ, মফিজ থেকে তার ভাই রমিজ, রমিজ থেকে জব্বর, জব্বর থেকে গ্রামের মাতব্বর, মাতব্বর থেকে তার বোন শালেকা,,,
আর এভাবেই হয়ে গেলো পুরা এলাকা।
তবে সবাই কিন্তু গোপন রাখার শর্তে কথাটা শুনেছিলো।

আর সর্বশেষে কথাটার লেজ গজাতে গজাতে গ্রামবাসী জানলো যে গতকাল দুপুর থেকে নাকি পন্ডিত মশাইয়ের মুখ দিয়ে নানান রঙ বেরঙের পাখি বেরুচ্ছে আর একের পর এক পাখি আকাশে নাকি উড়াল দিয়া দিয়া চলে যাচ্ছে। এরকম দৃশ্য দেখার জন্য এই কারণে সকাল সকাল পন্ডিতের বাড়িতে মানুষের এত শোরগোল ছিল।


[গল্পটা প্রধান না, গল্পের শিক্ষাটাই প্রধান]
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×