somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বিভক্ত আত্মা
সময় অনেক কম, কাজ অনেক বেশি। সংবাদ মাধ্যমের চেয়ে উৎকৃষ্ট এই সিটিজেন জার্নালে অন্তত চটি লেখক মার্কা লোক নেই-আমি এতেই সুখ অনুভব করছি। লিখতে শুরু করেছি-লিখতে লিখতেই হয়তো একদিন ফুড়িয়ে যাবো। তারপরেও সকল মানুষের কল্যান কামনা করেই যাবো

রৌদ্র আর বৃষ্টির অভিসারই রংধনু

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বোধ হারিয়ে যখন শুধুই ভাবনাগুলো নির্লজ্জের মত হাসছিল...............
সেখান থেকে তাকিয়ে দেখলে দেখা যাবে, কেউ নাই সাথে। স্বপ্নে বিভোর মানুষ ঈশ্বরকে ছোবার স্বপ্নে হয়ে উঠে বিলাসি। কটাক্ষ করে পৃথিবীর মানুষ উড়তে চায়। দুর পাহাড়ের ওপরে উঠে চেষ্টা করে উড়তে। হায়রে বোকা মানুষ, নিচেই পড়ে যায়।
জীবনের সব যুক্তি মুহ্যমান হয়ে গেলেও-এটা প্রাকৃতিক সত্য, মৌলিকতার সাজটাই ভিন্ন। যৌগিকতাপূর্ন মানুষের দেহ থেকে এ সময় দেহজ প্রান আলাদা হয়ে যায়। নিজ ধর্ম নিস্ব হয়ে সে পরিনত হয় ভিন্ন ধর্মাবলম্বি। সে তার গন্ডির মধ্যে থাকেনা। শেষ পর্যন্ত আলাদাই হয়ে যায়, সে আর কারো হতে পারে না। তার সব চাওয়াগুলোর মধ্যে মৌলিকত্ব না থাকায় নিজস্ব অস্তিত্ব হারায়।
আমারও দিন-রাত সব এক হয়েছে, ম্লান হয়েছে জীবনের সব হাসি-খুশি। জীবনের নাম যদি কম্প্রমাইজ হয়-তবে, আমি আমার জীবনটাকে নিয়ে যে কম্প্রমাইজ করলাম, তার মূল্য হয়তো এক আনাও নাই। আমি আজ ঈশ্বরকে অভিশাপ দিচ্ছিনা, তবে বলছি, সুখে থাকো তাই চাই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি সুখি হবে ? বাস্তবতা বলে দেয়, সুখি হয়তো হবে না।
সৃষ্টির জৈবিক চাহিদা মানুষকে তাড়িত করে নিয়ে যায় নরকের কাছাকাছি। যুক্তি জীবনকে নিয়ে যায় ধ্বংসের কাছাকাছি। এক এক করে সব বদলালে বাস্তবতার কাছে কি উত্তর হবে, সবাই খারাপ-শুধু নিজেই ভালো? ভালো মানুষ জুটছে না ?
আমি যথেষ্ট খারাপ, তারপরো বলবো, ততটা খারাপ নই, যাতে আমার অস্তিত্ব ধ্বংসের দিকে যায়। যুক্তি হয়তো অনেক আছে। কিন্তু জীবনতো একটাই, আর কত চাই ? ভোগাবেগী মানুষগুলো হয়তো মাঝে মাঝেই শিহরিত হবে-অভিসারের কথা ভেবে ভেবে, কিন্তু সাহস করে আপন কি হবে কেউ ? আখ্যা দেবে ঠিক এভাবে, ধুর, সি/হি হেজ নো পার্সনালিটি-আমার সাথেও.....কাটিয়েছে। জীবনের সায়াহ্ন বেলায় এসব মনে পড়লে লজ্জা আর অপমানে নিজের প্রতি ঘৃনা আসবে, তখন সঙ্গ দেবার কেউ থাকবে না। তারপরো আমি চেয়েছিলাম, ভেবেছিলাম একদিন হয়তো মৌলিকতা ফিরে আসবে। আমি ভাবিনি আমি উচ্ছিষ্টের মধ্যে তলিয়ে যাচ্ছি। আমি ভাবিনি-ওই ওই উচ্ছিষ্টের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে অনেক কামুক নারী-পুরুষের নির্যাস, আমি ভাবিনি, ওই উচ্ছিষ্টে লেপ্টে রয়েছে অনেক রক্ত, পূঁজ আর আর । আর সেসব আমাকে ছুয়ে যাচ্ছে আমাকে।
তারপরো ভেবেছিলাম হয়তো মৌলিকত্ব আসবেই একদিন। যুক্তি দিয়ে আমাকে সরানো যাবে-এটা ঠিক, কিন্তু কতটা দিয়েছি বা পেয়েছ, তার পরিমাপ কি করতে পারবে আদৌ ? দেখো চেষ্টা করে------যদি কিনারা পাও, যদি আবারো কোন সু-জন গ্রহণ করে। তারপর তারপর.....আগামি প্রজন্মের কাছে নিশ্চই প্রশ্ন জাগবে-তাহলে কি এরা সবাই নষ্ট ছিল.......যে কারনে কারও সাথে জীবনভর কাটেনি? তারাও সরে পড়বে, যখন তারা উত্তর খুজে পাবে। জীবনের সাথে মেলাও, এইজন ছাড়া আসলে কি আর কেউ তোমার সাথে ছিল? যুক্তি দেখাতেই পারো। তবে শত তালিকার মধ্যে আমি অতি ক্ষুদ্রকার হলেও খুব আগলে রেখেছিলাম-এবং এই মাপ কাঠিতে আমি শ্রেষ্ঠত্ব না পেলেও নিশ্চই খুব ক্ষীন হবো না। আজ যাকে তুমি সরিয়েছ, তার চাওয়া কি ছিল ? হরণ, বিলাস, স্বর্গ নাকি যৌনতা নাকি ভালোবাসা ?
দেহজ সম্পর্কের তালিকায় নিশ্চই আমিও উপনিত হবো, তবে ভালোবাসার তালিকায় খারাপ স্থানে থাকবো না হয়তো। আমরা যতই যুক্তি আর তর্ক দেখাই, বাস্তবতা এটাই যে, প্রকৃতিগত ভাবেই নারী আর পুরুষ বিভাজন করে তাদের স্বকীয় ধর্মের অবতাড়না করেছে। এখন আমাদের মানুষদের সব চেষ্টাই বৃথা। বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতা করা, তা মোটেই কার্যকর নয়, কারন প্রকৃতির রহস্য আমরা কেউ জানিনা। আমাকে হুমকি দিয়ে কি লাভ বলো........ কেউ কি আজ পর্যন্ত পেরেছে কোন পূজারীর মন থেকে তার আর্চনার বিষয় কেড়ে নিতে। আমাকে হুমকি দিয়ে, সমালোচনা করে, বিচার করে কি হবে ? আমি হয়তো চাপেই চেপ্টা হয়ে থাকবো, কিন্তু আমার মনের ভেতরের যে স্বপ্ন-সে স্বপ্নটা কে ভাঙতে পারবে ? আমি তোমাকে অনেক অনেক ঘৃনা করি, কিন্তু ভালোবাসার প্রশ্নে আমি অবিচল। তোমরা আমার দেহটাকে, আমার পারিপার্শ্বকতাকে ছিড়ে, কেটে কুটে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারবে, কিন্তু সরিয়ে ফেল দেখি মনের ভেতরে যে ঈশ্বর বসে আছে তাকে। সে ক্ষমতা তোমাদের নেই। আমি হয়তো পূণ্যবান নই, তবে আমার ঈশ্বর আমাকে প্রতিনিয়ত কাঁদায়, মাঝে মাঝে হাসায়, আবার কখনো ক্ষোভ প্রকাশ করি। একাকিত্ব আর অন্ধকার আমার আপন হয়েছে। আমি অনেক ভালো থাকি সে সময়গুলোতে। তোমার অভিযোগ, আমার জীবনে অনেক অশান্তি ও অনেক অবর্ণনিয় নির্যাতন, শাস্তির কারন হয়েছে স্রোতের সাথে না মিলিয়ে চলা। এটা ঠিক, তারপরেও কি পেরেছে, আমার ঈশ্বরের কাছ থেকে আলাদা করতে। এখন হয়তো চোখ খুললেই দেখি এমন নয়, তবে চোখ বন্ধ করলেই দেখি, আমার ঈশ্বরের কপালে একটা গোলাকার লাল বৃত্ত। যার সন্ধানে আমি ছিলাম। আমার অপূর্নতা সম্পূর্ন হয়েছিল, সেই ঈশ্বর আমার কাছেই আছে। তোমাদের মত কদর্যপূর্ন মানুষের সাধ্য নাই, আমার ঈশ্বরকে আমার ভেতর থেকে বের করে ফেলে। আমি জানি, অনেক ভালো আছ। উচ্চাশার অনেক স্বপ্নে বিভোর। হয়তো সেখানে আমার কোন ঠাই নাই।
রুদ্র কি কম কষ্টে অনুভব করেছিল, “ভালো আছি ভালো থাকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো”। নষ্ট মানুষ ছিল সে তাই না? সে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল। তাই সেই প্রত্যাখ্যাত হওয়া রুদ্রের জীবনের পরের দৃশ্য ঠিক এটাই। বিখ্যাত, অখ্যাত যাই হও, অনুতাপের রেখা কেউ দেখতে না পেলেও, কেউ না বললেও, কেউ চিন্তা না করলেও তা রঙধনুর মতই ফুটে উঠে। রৌদ্র আর বৃষ্টির অভিসারের ফলই হলো রঙধনু।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:৩৪
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×