somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বিভক্ত আত্মা
সময় অনেক কম, কাজ অনেক বেশি। সংবাদ মাধ্যমের চেয়ে উৎকৃষ্ট এই সিটিজেন জার্নালে অন্তত চটি লেখক মার্কা লোক নেই-আমি এতেই সুখ অনুভব করছি। লিখতে শুরু করেছি-লিখতে লিখতেই হয়তো একদিন ফুড়িয়ে যাবো। তারপরেও সকল মানুষের কল্যান কামনা করেই যাবো

আমরা নিজ দেশেই শরনার্থী, আমরা নিজ দেশেই যেন আমি অবৈধ অভিবাসী।

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৮:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি শুধু সংবাদ সম্পর্কিত কাজ জানি। এছাড়া অন্য কাজ আমি করতে পারিনা। কোন ঘটনা, দুর্ঘটনা, অন্যায় অবিচারে আমার কলম প্রতিবাদ করে উঠে। আমার প্রতিবাদের ভাষা খুব কড়া। আমি ধর্ম, বর্ণ, জাতী, গোষ্ঠি সবকিছু সমান ভাবে দেখতে শিখেছি। আমি শিখেছি নারী ও শিশুদের প্রতি সংবেদনশীল হতে। আমি চিৎকার করে কেদে উঠি, যখন কোন নারী ধর্ষনের শিকার হয়। আমি চিৎকার করে কেদে উঠি, যখন মানুষগুলো ক্ষুধায় কষ্ট পায়। আমি চিৎকার করে কেদে উঠি, যখন দেখি কোন হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি খালাস পায়।
আমি উপলব্ধি করতে শিখেছি, সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষের সমান অধিকার আছে। আমি বিশ্বাস করতে শিখেছি, মানবতাই প্রধান ধর্ম।
আমার এই উপলব্ধি আর চেতনা এ দেশের উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারেনি। সরকার আমার গলা চেপে ধরে আছে। সংবাদ মাধ্যমের কর্তৃপক্ষ আমার কলম দড়ি দিয়ে বেধে রেখেছে। তারপরেও যখন আমরা ছুটতে থাকি, প্রতিরোধের ভাষা বলি, তখন হয় আমাদেরকে পুলিশ নির্যাতন করে, অথবা কোন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা নির্যাতন করে। তারপরেও আমরা কথা বলতে চাইলে, আমাদেরকে হত্যা করা হয়।
বাংলাদেশে প্রতিদিন সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। প্রতি বছরই সাংবাদিক হত্যা করা হচ্ছে। আজ পর্যন্ত সাংবাদিক নির্যাতন বা হত্যার কোন বিচার বাংলাদেশে হয়নি।
অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, যে দেশে আমি জন্ম গ্রহণ করেছি, আজ আমি সেই দেশেরই একজন শরণার্থী।
এইখানে সামাজিক অব্যবস্থা, সরকার দলীয় বা অন্য কোন রাজনৈতিক নেতার খারাপ দিক সম্পর্কে কথা বলতে গেলে নির্যাতন অথবা হত্যার শিকার হতে হয়। অন্যদিকে যে সংবাদ মাধ্যমে চাকরী করি, সেই সংবাদ মাধ্যমের অসংগতি, অপরাধ, মিথ্যা বা কারো পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকতার প্রতিবাদ করলেই, কোন কারণ ছাড়াই চাকরীচ্যুত হতে হয়। আদালতে ন্যায় বিচার চাইলেও, বিচার পাওয়া যায়না। অবস্থাটা এমনই যে, চাকরী করতে হলে, একজন গৃহপালিত এর মত আচরন নিয়ে চাকরী করতে হবে। সংবাদ মাধ্যম অন্যায় ভাবে ব্যক্তিগত লাভের আশায়, যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কখনই লিখতে বা বলতে চায়না, সে সম্পর্কে সাংবাদিকরাও কোন কিছু বলতে পারবেনা। এক কথায়, নিজের বিবেককে বিসর্জন দিয়ে এই দেশে সাংবাদিকতা করতে হবে। নয়তো চাকরীচ্যুত অতবা হত্যা নির্যাতনের শিকার হতে হবে।
দীর্ঘ ১৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে আমার মনে হয়েছে, দেশের সরকারগুলো, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দয়া করে এই দেশে আমাদেরকে বাস করতে দিয়েছে। আমাদের বেচে থাকাটা তাদের ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম আমাদেরকে তাদের ইচ্ছামত কিছু টাকা দেয়। আবার যাদের ইচ্ছা হয়না, তারা কোন টাকা দেয়না। আমরা সংবাদ মাধ্যমে চাকরী করলেও, সংবাদ মাধ্যমের কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে তাদের কৃতদাস মনে করে। তাই, যখন ইচ্ছা হয়, তখন চাকরী থেকে বের করে দেয়, আবার যখন ইচ্ছা হয়, তখন বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয়, মানসিক নির্যাতন করে।
সংবাদ মাধ্যম, সরকারের ওপর আর এক সরকারের ভূমিকা পালন করছে। দূর্নীতিগ্রস্থ সরকার বা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা কর্মীরা বা সমর্থন দাতারা সংবাদ মাধ্যম পরিচালনা করছে। এতে করে সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যম কোন ভূমিকাই রাখে না। এদেশের সংবাদ মাধ্যমে একজন সাংবাদিকের জীবনের মূল্য নাই।
যখন কোন সাংবাদিক নির্যাতন বা হত্যার শিকার হয়, তখন সংবাদ মাধ্যমগুলো লোক দেখানো প্রতিবাদ, সভা সমাবেশ করে। বিচারের দাবিতে বড় বড় বক্তব্য দেয়, মানব বন্ধন করে। আসলে এসব আন্দোলন লোক দেখানো। প্রকৃত পক্ষে সংবাদ মাধ্যমের কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাই চান না যে, সাংবাদিক হত্যা বা নির্যাতনের বিচার হউক। এসব নেতা কর্মীরা সরকার বা বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থন করে। অবৈধভাবে ব্যক্তিগত লাভের আশায় এরা সাংবাদিকদের জীবনকে তুচ্ছ করে দেখে।
স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে যত সাংবাদিক নির্যাতন বা হত্যার শিকার হয়েছে, কোনটি ঘটনারই বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি।
এদেশে আমরা জন্ম গ্রহণ করলেও, সাংবাদিক হবার কারণে, আমরা যেন মানুষের সমাজ ব্যবস্থা থেকে আলাদা হয়ে অন্য কোন জীবে পরিনত হয়েছি। তাই, আমার জন্মভূমিতেই আমি পরবাসী। আমার এই দেশেই আজ আমি শরণার্থী।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৮:১৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রামের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি?

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৭


সম্মানিত ব্লগার,
বাংলাদেশের সবরকমের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্লগারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতায় আমাদের সামু ব্লগারেরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি অনুরোধ করছি না। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×