ব্লগ পড়ছি বেশ কিছুদিন যাবৎ। তবে লিখছি এই প্রথম। ঈদ নিশ্চয় ভালো কাটল সবার? অনেক ধুমধাম হয়েছে,আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে,বন্ধুদের সাথে হৈ-হুল্লোড় আরও কত কি! অথচ দুনিয়ার আরেক প্রান্তে তখন কিছু মানুষ শান্তিতে ঈদের নামাজটাও পড়তে পারছেন না। প্রতিনিয়ত তাদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। তাদের জন্য ঈদ বয়ে আনে না বন্ধুদের আড্ডা কিংবা নতুন কাপড়ের গন্ধ। ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে বলছিলাম। জী,গত ৬০ বছরের অধিক সময় ধরে যারা পুঁজিবাদী দুনিয়ায় গণ্য হচ্ছে সাব হিউম্যান ক্যাটাগরিতে সেই ফিলিস্তিনিদের ঈদ কেমন কাটল? তার আগে কিছু বিষয় আমলে নেওয়া যাক।
কিছুদিন আগে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ঘোষণা করে যে তারা গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব স্বীকার করেনা। উল্লেখ্য পশ্চিম তীরে পূর্ব জেরুজালেমও অবস্থিত যেখানে জেরুজালেমের ওল্ড সিটি রয়েছে। ইইউ এর সাথে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সকল চুক্তিতে পশ্চিম তীর ও গাজাকে বাদ দেওয়া হবে এবং পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনে ইইউ ফান্ড করবে না বলেও ঘোষণায় বলা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নেতানিয়াহু সরকার। তারা ইইউকে এন্টি সেমিটিজম এর অভিযোগে অভিযুক্ত করে এবং ইইউ মত পরিবর্তন না করলে তাদের সাথে কোন চুক্তিতে যাবেনা বলেও উল্লেখ করে। এমতাবস্থায় ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তির দাবি অগ্রাহ্য করে পশ্চিম তীরে আরও ৮০০ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বিল পাশ করে।
এবার আসি ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে। তারা তো এমনিতেই অবরুদ্ধ। ইইউ এর ঘোষণায় কিছুটা হলেও তাদের ভেতর আশার সঞ্চার হয়েছিল। রমজান মাসে এ যেন এক নতুন চাঁদ হাতে এসেছিল তাদের। কিন্তু ইসরায়েলের রক্তচক্ষু যেন তাদের সেই চাঁদের গায়ে একে দিল কালিমা। ঈদ আর তাই তাদের জন্য নিয়ে এলোনা স্বাধীনতার আশা। এই চরম দুর্দিনে মুসলিম ভাইদেরকেও তারা খুব একটা পাশে পেল না। তাদের থেকে কিছু দুরেই হয়ত গালফ স্টেটগুলোতে তাদের ধনাঢ্য আরব ভাইয়েরা শরাব,নারী আর পয়সা লুটিয়ে ধুমধাম করে ঈদ উদযাপন করছে। হতভাগা ফিলিস্তিনিরা সেখানে অবাঞ্ছনীয় কারণ বেশুমার দৌলতের মোহ কাটিয়ে ইসরায়েলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করার মত সাহস ও সদিচ্ছা তাদের ভাইদের আছে বলে মনে হয়না। থাকলেও পুঁজিবাদী দুনিয়ায় তা ধোপে টিকবে না। তাদের ঈদ তাই কাটে নিভৃতে চোখের জল ফেলে।
যাই হোক, লিখতে পারিনা আর বড্ড বেশি বোর করে দিলাম হয়ত। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি। ঈদ মুবারক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


