somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যান্ত্রিক দাবাড়ুঃ দ্য তুর্ক

১৫ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকের এক হেমন্তের বিকেল। সালটা ছিল ১৭৬৯, হাঙ্গেরিয়ান অভিজাত শ্রেণীর এক ব্যক্তিকে হাঙ্গেরির সম্রাজ্ঞীর কোর্টে বিনোদনমূলক শো দেখাতে ডাকা হল। সেই ব্যক্তির নাম ওয়লফগ্যাং ভন কেম্পেলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তার শো দেখে জনগণ এবং সম্রাজ্ঞী তেমন আনন্দ পেল না। তবে কেম্পেলেন অত্যন্ত আত্মসম্মানবোধ ধারণ করতেন। তাই তিনি ছয় মাসের সময় চাইলেন এক অভিনব শো উপহার দেওয়ার জন্য। তার আবেদন মঞ্জুরও হল। পরের বছরের শুরুতেই কেম্পেলেন সবাইকে চমকে দিলেন তার আশ্চর্যজনক সৃষ্টি দ্বারা। তিনি যা বানালেন তা হল একটা যন্ত্রমানব যার সামনে ছিল কাঠের তৈরি কেবিনেট। তবে এর বিস্ময়কর ক্ষমতা ছিল যে এটা দাবা খেলতে পারত। কেম্পেলেন এর নাম দিলেন ''দ্য তুর্ক'' এবং তুর্কি পোশাকেই তাকে সজ্জিত করলেন। এই নামকরণ অবশ্য তৎকালীন সময়ে হাঙ্গেরির সাথে অটোম্যান খিলাফতের সুসম্পর্কেরও একটি নিদর্শন।



দ্য তুর্ক এবার সমগ্র ইউরোপের টুরে বের হল। প্রত্যেক শো এর আগে কেম্পেলেন তুর্কের কেবিনেটের ড্রয়ারগুলো খুলে জনগণকে তা পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ দিতেন। কিন্তু তুর্ক সর্বদাই সাদা গুটি নিয়ে খেলবে এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রথম চালও দিবে এমন শর্ত দেওয়া থাকত। তুর্কের বাম হাত থাকত কেবিনেটের উপর এবং ডান হাত দিয়ে সে গুটির চাল দিত। প্রতিপক্ষ অবৈধ চাল দিলে সে মাথা নাড়িয়ে অসম্মতি প্রকাশ করত। সাধারণভাবে ৩০ মিনিটের ভেতরেই প্রতিপক্ষ ধরাশায়ী হত এবং প্রায় সব খেলাই তুর্ক জিতে যেত।



'দ্য তুর্ক' নিয়ে এসময় ইউরোপ জুড়ে নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। এমনকি বইও লেখা হল এর উপর। কেউ বললেন যে কোন বামন বা বানর দ্বারা এটা নিয়ন্ত্রিত হত। কেউ বললেন এটা ছিল বেশ বড়সড় একটা পাপেট, আবার কেউ বললেন ম্যাগনেটের কারবার। কেউ কেউ তো বলে বসলেন কেম্পেলেন 'থিংকিং মেশিন' বানিয়ে ফেলেছেন। এমনকি নামী-দামী সব বিজ্ঞানিরাও ধাঁধায় পড়ে গেলেন।

কেম্পেলেনের জীবনকালে তুর্কের আসল রহস্য কেউ ভেদ করতে পারেনি। রহস্যের জাল খোলা শুরু করে অনেক পরে। কেম্পেলেনের মৃত্যুর দীর্ঘদিন পর ১৮৫৪ সালে এক অগ্নিকান্ডে 'দ্য তুর্ক' ধ্বংস হয়ে যায়। ১৮৫৭ থেকেই শুরু হল এর রহস্যভেদ করার প্রয়াস। ১৮৫৯ সালে ফিলাডেলফিয়ার এক সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশ পায় যে তুর্কের কেবিনেটের ভেতর মোমবাতি থাকত। ১৮৯৯ সালে আমেরিকান চেস ম্যাগাজিন নেপোলিয়ানের সাথে তুর্কের খেলা হয়েছিল বলে জানায়। অবশেষে ১৯৪৭ সালে হারকনেস এবং ব্যাটেলের চেস রিভিউ তে রহস্যভেদ করেন এবং জানান তুর্কের কেবিনেটের ভেতর মানুষ বসে খেলা পরিচালনা করত। ১৯৬০ সালে আমেরিকান হেরিটেজ আর্টিকেলে তুর্কের বিস্তারিত বর্ণনা ও কার্যপ্রণালীতে দেখানো হয় কিভাবে কেবিনেটের ভেতর মানুষ বসে তুর্কের মাধ্যমে খেলা নিয়ন্ত্রণ করত।



অনেক সুত্রমতে তুর্কের সাথে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনেরও খেলা হয়েছিল এবং যথারীতি তুর্ক জিতেছিল। তুর্ক যদিও নকল চেস মেশিন হিসেবে প্রমাণিত হয় কিন্তু অনিচ্ছাকৃতভাবেই তা অটোম্যাটিক মেশিন এবং কম্পিউটারের বিবর্তনে বৈপ্লবিক মোড় এনেছিল। পরবর্তীতে তুর্ককে ঘিরে অনেক গোয়েন্দা উপন্যাসও লেখা হয়। আমেরিকায় এর আদতে তৈরি হয় দ্য ইজিপশিয়ান। বর্তমানে 'দ্য তুর্ক' এর একটি পুনঃনির্মিত ভার্শন আছে যা ২০০৩ সালে লস এঞ্জেলসে প্রদর্শিত হয়। এটি বানিয়েছেন জন গগ্যান।



অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিগুলো ক্ষমাসুন্দরদৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি। ভালো থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১০:৫৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বকশিস

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৫

বকশিস
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

খুশি হতে বেশি কিছু লাগে না
যা ভাগ্যে জোটে তাতে সুন্তুষ্ট
হলে মন ভরে উঠে আনন্দে
একদিন বাসে চড়ে ফিরছিলাম ঘরে
ঈদের দিনে, বাসের কন্ডাক্টর
ভাড়া সংগ্রহ করছিল
প্রতি যাত্রীদের কাছ থেকে
অতিরিক্ত ভাড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতির বিদায়ঘণ্টা: রাজনীতি ও নৈতিকতা

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের
পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তি বা কোন একটি বিশেষ পদের পরিবর্তন নয় বরং এটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×