somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাকাশে উন্মুক্ত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হলে আপনি যেমন অনুভব করবেন

২৯ শে আগস্ট, ২০১৩ রাত ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমরা অনেকেই সাই-ফাই মুভিতে এ ধরনের ঘটনা নিশ্চয় দেখেছি। আর দেখে মনে মনে আশা করেছি, 'ইস! একবার যদি যেতে পারতাম!' প্রকৃতপক্ষে ফিল্মের জগত আর বাস্তব জগত একেবারেই ভিন্ন। রুপালি পর্দার মহাকাশ ভ্রমণ আর রিয়েল লাইফ স্পেস ট্র্যাভেল এক তো নয়ই বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভিন্ন। সিনেমার পরিচালক নিশ্চয় আপনাকে স্পেস ট্র্যাভেলের নামে হরর সিন উপহার দিতে চাইবেন না? আর সেজন্যই মুভিগুলোতে মহাকাশ ভ্রমণ খুবই রোমাঞ্চকর এবং আনন্দদায়ক। তবে এই পোস্টে মুভির মহাকাশ ভ্রমণ নয় বরং বাস্তবিকই কাউকে কসমসে উন্মুক্ত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হলে তার অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা কেমন হবে সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।

মহাকাশ বলে আলাদা কিছু আসলে নেই। আমাদের আকাশটাই মহাকাশ। কিন্তু বোঝার সুবিধার্থে পৃথিবীর এটমস্ফিয়ারের বাইরের উন্মুক্ত আকাশকেই মহাকাশ বা আউটার স্পেস (Outer Space) বলা হয়। এক্ষেত্রে সী লেভেলের ১০০ কিমি উঁচু থেকেই আউটার স্পেস হিসেবে ধরা হয়। আউটার স্পেসে যেতে হলে আপনাকে মিনিমাম ২৮১০০ কিমি/ঘন্টা গতিসম্পন্ন কোন বাহনে যেতে হবে। সুতরাং আপনাকে স্পেসশিপই ব্যবহার করতে হবে কারণ কনভেনশনাল এয়ারক্র্যাফটে এত গতি থাকেনা। আর এক্ষেত্রে আপনাকে স্পেসশিপ নির্বাচন করতে হবে খুবই সতর্কতার সাথে। কারণ মহাকাশে যদি কোনভাবে আপনার স্পেসশিপের এক্সটেরিয়র অংশ লিক করে তাহলে আর রক্ষা নেই! আউটার স্পেস এক বিশাল Vaccum এর ন্যায় যা সম্পূর্ণ বায়শুন্য। সুতরাং সেখানে বায়ুচাপও নেই অথচ আপনার স্পেসশিপ বায়ুচাপ সম্পন্ন। আর স্পেসশিপ সামান্য লিক হওয়া মানেই পদার্থবিদ্যার সুত্রমতে বায়ু উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের স্থানে ধাবিত হবে এবং এখানেই গলদ। মহাকাশের বিশাল (অসীম বলতে পারেন) চাপশুন্য এলাকার তুলনায় আপনার স্পেসশিপকে নিতান্তই অস্তিত্বহীন বলা চলে। আর এই বিশাল চাপশুন্য স্থান আপনার স্পেসশিপের বায়ুকে চোখের পলক ফেলার আগেই সাক আউট করবে। আর এর গতি এতই তীব্র হবে যে স্পেসশিপের ভেতরের অংশগুলোও ভেঙ্গেচুরে চলে আসবে। আর আপনি? আপনাকেও চোখের নিমেষেই টেনে নিবে মহাশুন্য। স্পেসশিপের কোন অংশের সাথে ধাক্কা না লেগে যদি আপনি বেচেও যান তবুও আপনাকে বাকি জীবন কাটাতে হবে মহাকাশের অসীম শূন্যতায় (প্রকৃতপক্ষে একেবারেই শুন্য নয়) ভেসে ভেসে এবং একেবারেই নিঃসঙ্গ অবস্থায়। আর এই নিঃসঙ্গ ভাসমান অবস্থার অভিজ্ঞতা নিয়েই আমার এই পোস্ট।

এবার আসুন আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থায়। পৃথিবীর স্বাভাবিক এটমস্ফিয়ারের অভাবে আপনার শরীরে ৭০ ভাগ পানি আর তরল অবস্থায় থাকবে না। একেবারে গ্যাস না হলেও তা বাষ্পে পরিণত হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই আয়তনে প্রসারিত হবে। ফলে আপনার শরীরও বেলুনের মত ফুলে উঠবে এবং স্বাভাবিক আকারের দ্বিগুণ আকার ধারণ করবে। যদিও আপনার ত্বক ফেটে বেরিয়ে আসার মত বাষ্পচাপ তৈরি হবে না তারপরও বেলুনের মত ফুলে উঠে নিশ্চয় আপনি আরামেও থাকবেন না!!! ;)

সূর্যের কথাও ভুলে গেলে চলবে না। পৃথিবীতেই সূর্যের কড়া রশ্মি দেহে পড়লে কেমন লাগে তাতো জানেনই। উল্লেখ্য পৃথিবীর বায়ুমন্ডলেই কিন্তু মহান আল্লাহ এমন ব্যবস্থা করে দিয়েছেন (বিস্তারিত বললাম না) যাতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি আপনার ত্বকে না পড়ে। আর মহাকাশে নিশ্চয় কোন বায়ুমণ্ডল থাকবে না? তাহলে ভাবুন তো সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মিতে আপনার শরীরের কি অবস্থা হবে? আপনার ত্বক খুব বীভৎসভাবে বার্ন করবে এবং সূর্যের দিকে সরাসরি তাকালে তো কথাই নেই! অন্ধও হয়ে যেতে পারেন।

অক্সিজেনের কথা মনে আছে তো? অবশ্যই মহাকাশে নতুন অক্সিজেন পাবেন না। পৃথিবীর বায়ুচাপের অনুপস্থিতিতে আপনার রক্তে উপস্থিত অক্সিজেন আর দ্রবীভূত হবে না এবং আপনার কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেম ফেইল করবে। কয়েক সেকেন্ডেই আপনার ত্বক নীল হয়ে যাবে এবং ১০ সেকেন্ডের ভেতরেই আপনি টোটালি ব্ল্যাকআউট হয়ে যাবেন।

বাই দ্য ওয়ে, আপনি হয়ত চিন্তা করছেন স্পেসশিপ থেকে বের হওয়ার আগ মুহূর্তে একটা লম্বা নিঃশ্বাস নিলে আপনি আরও কিছুক্ষণ বেচে থাকবেন। আপনি যদি এটা ভেবেই কাজ করেন তবে তা হবে রীতিমত সুইসাইড। আগেই বলেছি বায়ুচাপের কথা। এখন কল্পনা করুন মহাকাশের বিশাল চাপশুন্য এলাকায় আপনার ফুসফুসে অল্প একটু বায়ু আছে। বুঝছেন তো কি ঘটতে চলেছে? স্পেসশিপের মতই আপনার ফুসফুসের বায়ুকে মহাকাশ এত জোরে সাক আউট করবে যে শুধু আপনার ফুসফুসই নয় বরং আপনি নিজেই ফেটে যাবেন বেলুনের মত। :-*

আর্দ্রতাও বায়ুচাপের ধর্মই (উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের স্থানে প্রবাহ) অনুসরণ করে। একারণেই গরমের দিনে আপনার শরীর থেকে ঘাম বের হয়ে শরীর ঠাণ্ডা রাখে। শীতকালে ঘাম তুলনামূলক কম হয় কারণ এসময় বায়ুতে আর্দ্রতা বেশি থাকে। আর্দ্র বায়ুর বাষ্প গ্রহণের প্রবণতা কম। এখন ভাবুন মহাশুন্যে তো আর্দ্রতাই নেই। তাহলে? আপনার শরীরের ভেতরের গরম পানি বাষ্পরূপে এত জলদি বের হয়ে যাবে যে আপনি রীতিমত ফ্রিজড হয়ে যাবেন।

রক্তই বা বাদ থাকবে কেন? স্বাভাবিক বায়ুচাপের অভাবে সব তরলেরই স্ফুটনাংক একেবারেই কমে যাবে। আপনার রক্তের স্ফুটনাংক কমতে কমতে আপনার শরীরের তাপমাত্রায় চলে আসা মাত্রই রক্ত ফুটতে আরম্ভ করবে। এবার ভাবুন অবস্থা!!! :-/

ধরে নিলাম এত কিছুর পরও কোনভাবে আপনি সারভাইভ করলেন। কিন্তু এতেও খুশি হবার তেমন উপলক্ষ নেই। আপনি মহাকাশে উন্মুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই সাব এটমিক পার্টিকেল যেমন গামা রে,এক্স রে,উত্তেজিত প্রোটন ইত্যাদি আপনার শরীরে প্রবেশ করা শুরু করবে। এসব পার্টকেল এতই ক্ষুদ্র যে আপনার কোষে ঢুকে DNA এর গঠনই চেঞ্জ করে দিবে। না ভাববেন না আপনি কমিকস বইগুলোর মত সেলুলার মিউটেশনের মাধ্যমে কোন সুপারহিরোতে পরিণত হবেন! :D বরং রেডিয়েশন পয়জনিং এর ফলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবেন আপনি।

এবার বলেন কে কে মহাকাশে যেতে চান? :P

ইউ ক্যান ফলো মি অন ফেসবুক
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৩ বিকাল ৩:১০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বকশিস

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৫

বকশিস
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

খুশি হতে বেশি কিছু লাগে না
যা ভাগ্যে জোটে তাতে সুন্তুষ্ট
হলে মন ভরে উঠে আনন্দে
একদিন বাসে চড়ে ফিরছিলাম ঘরে
ঈদের দিনে, বাসের কন্ডাক্টর
ভাড়া সংগ্রহ করছিল
প্রতি যাত্রীদের কাছ থেকে
অতিরিক্ত ভাড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতির বিদায়ঘণ্টা: রাজনীতি ও নৈতিকতা

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের
পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তি বা কোন একটি বিশেষ পদের পরিবর্তন নয় বরং এটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×