somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিয়াউর রহমানের শাসনের উপর একটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং তৎকালীন বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ১৯৭৬ সালের ২৩ নভেম্বর একটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ''দ্য জার্নাল'' পত্রিকা। ঐ প্রতিবেদনেরই একটা অ্যানালাইসিস করার চেষ্টা করলাম এখানে।

প্রথমেই হেডিংটা লক্ষ্য করা যাক- ''Malnutrition remains constant, but Bangladesh problems ease'' অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশের অপুষ্টির সমস্যা একইরকম থাকলেও অন্যান্য সমস্যাগুলো কমে আসছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।



এবার প্রথম তিনটা প্যারার দিকে নজর দেওয়া যাক-


প্রথম দুই প্যারায় বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে ওভারঅল ভালো বলে জানানো হচ্ছে যে পরপর দুইবার ভালো ফলন হওয়াতে উক্ত বছরে কেউ অনাহারে মারা যায়নি অথচ মাত্র দুই বছর আগেই হাজার হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষে মারা গিয়েছিল। মুদ্রাস্ফীতির রেট যা আগের বছর ৬০ শতাংশের বেশী ছিল তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তখনো অপুষ্টি বিদ্যমান থাকলেও চাল-ডাল ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বিস্ময়করভাবে ১৯৭৪ সালের দামের অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে।

পরবর্তী তিন প্যারা-


এখানে বলা হচ্ছে যে অফিস আদালত থেকে শুরু করে গ্রামের ক্ষেত পর্যন্ত আগের চেয়ে ভালো অবস্থা বিরাজ করছে। একজন বৃদ্ধ কৃষক তা স্বীকার করে নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যেন পরিস্থিতি আগের মত না হয়ে যায়। অর্থাৎ আগে কেমন পরিস্থিতি ছিল তা অনুমান করা যাচ্ছে। অবস্থার উন্নতির কারণ হিসেবে প্রথমেই আল্লাহ প্রদত্ত আবহাওয়ার পরিবর্তনকে দেখানো হয়েছে। একইসাথে নতুন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকেও ক্রেডিট দিতে দেখা যাচ্ছে। কেন তা পরে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এরপর বাঙালি জাতির অন্যতম প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা উল্লেখ আছে।


দেখা যাচ্ছে এই অংশে শেখ মুজিব এবং জিয়ার শাসনের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে। শেখ মুজিবকে অতি অবশ্যই বাঙ্গালির অত্যন্ত প্রিয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করে সাথে এটাও বলা হচ্ছে যে তিনি জীবনের শেষ দিকে এসে ব্যাপক সমালোচনা এবং তীরস্কারের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কারণ হিসেবে তার সরকারের দুর্নীতি এবং অকার্যকারিতাকে দায়ী করা হয়েছে। পক্ষান্তরে জিয়ার সামরিক সরকার (তখন পর্যন্ত) চোরাকারবারি এবং দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারদের নির্মূল করেছে যার ফলে দেশের সার্বিক কর্মক্ষেত্রের আউটপুট ভালো হয়েছে। এমনকি জনসংখ্যা সমস্যা নিয়েও জিয়া সরকারের তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে।

নেক্সট-


এই অংশে জিয়া পরবর্তীতে প্রতিশ্রুত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশকে ফিরিয়ে নিবেন নাকি নিজের সামরিক শাসন অব্যাহত রাখবেন সেই সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে এক সাক্ষাৎকারে জিয়া নির্বাচনের বিপক্ষে কোন কথা বলেননি বরং নির্বাচনের পক্ষেই থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে পজিটিভ ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এবার একটা মজার অংশ-


যারা জিয়ার সাথে খন্দকার মোশতাকের লিংক খুঁজে পান তাদের জন্য দুঃসংবাদ। এখানে দেখা যাচ্ছে যে মোশতাক শুধু জিয়ার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীই নয় বরং সে বলেছে যে সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার সময় এসে গিয়েছে। অর্থাৎ সে জিয়ার শাসনের সম্পূর্ণ বিরোধী। অনেক রাজনীতিবিদকে আবার দেশে গণতন্ত্র ফিরবে কিনা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। পচাত্তরে বাঙালি জাতির অত্যন্ত বিশ্বস্ত মানুষ শেখ মুজিব যখন একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে পারেন তখন মাত্রই বছরখানেক আগে ক্ষমতায় আসা জিয়ার ব্যাপারে এ ধরনের উদ্বেগ জন্ম নেওয়া খুবই স্বাভাবিক।


প্রতিবেদনের এই পোরশানে দেখা যাচ্ছে জিয়া সব দলের উপর থেকে ব্যান উঠিয়ে সবাইকে পুনরায় রাজনীতি করবার সুযোগ করে দিয়েছেন। তবে সমাজতান্ত্রিক উইং এর ব্যাপারে জিয়ার অবস্থান রিপোর্টার খতিয়ে দেখছেন। এই বাম সমাজতান্ত্রিক উইংকে রিপোর্টে 'র‍্যাডিক্যাল' বা মৌলবাদী আখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের নেতাদের সামরিক আদালতে বিচারের ব্যাপারেও আলোকপাত করা হয়েছে।

ফাইনালি-


প্রতিবেদনের শেষ পর্যায়ে এসে জিয়ার আমলের সেইসব সামরিক বিচার (কর্নেল তাহেরসহ) এবং তা নিয়ে অপজিশন এর তোলা প্রশ্নগুলোর উপর রিপোর্টার দৃষ্টি দিয়েছেন। দেখা যাচ্ছে এসব প্রশ্নের উত্তরে জিয়ার সমর্থকগোষ্ঠী আবার মুজিবের আমলে বন্দী অসংখ্য রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তির দিকে ইঙ্গিত করছেন। প্রতিবেদনে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে উক্ত মৌলবাদী বাম সমাজতান্ত্রিক উইং দেশে কমিউনিস্ট বিপ্লবের আশা পোষণ করত। আর যে দেশের ৫% মানুষও সরাসরি কমিউনিজম এর সমর্থক না সেই দেশে বিপ্লব ঘটিয়ে জনগণের উপর কমিউনিস্ট ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়াটা রীতিমিত জুলুম হত। অবশ্য তৎকালীন বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের কথা বিবেচনা করলে এ ধরনের কিছু সামরিক বিচারের জাস্টিকফিকেশনর ক্ষেত্রে একটা ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে। অন্তত ভূতপূর্ব বাকশাল আমলে চীনপন্থী বামদের উপর চলা দমননীতির কথা বিবেচনা করলে এসব সামরিক বিচারকে নেহাতই শিশু বলতে হয়।

(আমি এখনও জেনারেল হইনি। সামু কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি)

ফেসবুকে আমি
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:৪০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বকশিস

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৫

বকশিস
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

খুশি হতে বেশি কিছু লাগে না
যা ভাগ্যে জোটে তাতে সুন্তুষ্ট
হলে মন ভরে উঠে আনন্দে
একদিন বাসে চড়ে ফিরছিলাম ঘরে
ঈদের দিনে, বাসের কন্ডাক্টর
ভাড়া সংগ্রহ করছিল
প্রতি যাত্রীদের কাছ থেকে
অতিরিক্ত ভাড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতির বিদায়ঘণ্টা: রাজনীতি ও নৈতিকতা

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের
পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তি বা কোন একটি বিশেষ পদের পরিবর্তন নয় বরং এটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×