আমি শুনেছি,
সেই কাতর ধ্বনি ভোরবেলাকার
অজস্র ঝংকার জল ঝরে পড়ার
নিশির সমাপন যবে স্থল পবন
বাধাহীন, স্বাধীন সেই উদয়ের সমীরণ
সিন্ধুর হাওয়া নিয়ে গেছে মোরে,
বহুদূরে, যেথায় নিশ্চিহ্ন উদয়ের ভোরে।
আমি শুনেছি,
সেই শনশন তোলা নোনা বাতাস
আজ মোরে করেছে যে পরিহাস
কখনও নোনা জল মুছে
বর্ষার শীতল অতল স্নানে ধুয়েছে
মোরে দিয়েছে অজর অমৃতের স্বাদ
সিন্ধুর ঢেউ ভেঙেছে যত বাঁধ
আজ সেই সিন্ধুর পানে চাহি ফিরে
নোনাজল সরে গেছে অস্পৃশ্যের ভিড়ে।
আমি শুনেছি,
সিন্ধুতীরে বসে জলের কোলাহল
মেঘের নাদ যেথায় সিন্ধুর বিন্ধ্যাচল
গগনভরা স্ফীত শীতল অহংকার
অচলে ঝরে সেই মেঘের ঝঙ্কার
সিন্ধুপ্রসূত ঝরায় রুপালি জল
সিঞ্চিত সেই পাষাণ, টলটলে বিমল
উষর ধুলো ছেপে উঠে স্নিগ্ধ বান
পাষাণের বুকে যেন পদ্মপ্রশান্তির আহবান।
আমি দেখেছি,
জলাশয় বিহারি ঘুমকাতুরে মাছরাঙা
আকাশে চেয়ে থাকা ঈর্ষাতুর ডানাভাঙা
কাক; তোমাদের এই পৃথিবীর
মায়া জড়ানো সকল অধীর।
অনেক দেখেছি আমি, বসন্তের অঝোর
শুকনো ফুলের পাশে যেমন সজীব স্বার্থপর।
আমি দেখেছি,
পূর্বের দিকচক্রে নেশার টানে
ভোরের ঘ্রাণ নিতে যেতে আঙিনাখানে
এরকম দিন এসেছিল রোজ
তবু প্রতিদিনই প্রাণবন্ত তার খোঁজ
আজ দাগে ভরা ক্যালেন্ডারের পাতা
তবু সেই উৎকণ্ঠা অযথা
হারিয়ে ফেলেছি, শুধু শত শত
বছরের স্মৃতি খেলা করে চলন্ত ছবির মত।
আমি জানি,
আসিবেনা আর সেদিন, কোনদিন
আমরা যে নই বাধাহীন, স্বাধীন
শাশ্বত সময় আমাদের কারিগর
আমরা যে নই তার মত অজর
তবু তার স্রোতের এক বিন্দু
জোয়ারে ভাসিয়ে দেয় নোনাজলের সিন্ধু
আমরা পারিনা করিতে বাখান
তবে কেন তোমাদের মিথ্যা সে আহবান?
একদিন দিয়েছ যে ভালোবাসা,
আজ ভুলে গেছি সে ভাষা, তার পিপাসা
আজ আমার গায়ে ঝরে
তোমাদের হিয়া কভু এই নোনাজল বরে?
তোমরা চোখ রাখোনা সেই অবসানে?
কতখানি বুকের রক্ত এক ফোঁটা নোনাজল মানে,
জানোনা তোমরা? নিজেদের করেছে অস্পৃশ্য
তোমাদের অতীত যে অবিমৃষ্য
ভালোবাসাহীন ব্যর্থ এই অনন্ত চরাচর
এই অমৃত ছাড়া শূন্য সকল বহর,
স্বার্থপর, স্বার্থপর এবং স্বার্থপর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





