somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গীতা-সীতা উপাখ্যান ; সমীপে জাস্টফ্রেন্ড

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তখনো আন্তপাড়া ক্রিকেট খেলি। আমি উত্তরপাড়ার শতবর্ষী বিখ্যাত "ইয়াং স্টার ইলেভেন" এর ভাইস ক্যাপ্টেন কাম ডান হাতি লেগস্পিনার। সাথে ব্যাটিংও করি ভালো। ডানহাতি। আমার ব্যাপক চাহিদা। আমার কী-; এই ক্লাবে আমার বাবা খেলেছেন, তাঁর বাবা আই মিন আমার দাদা খেলেছেন। দুর্বলসূত্রে জানা যায় তাঁর বাবা অর্থাৎ আমার দাদার বাবা (আমরা তাঁকে বড়বাবা বলি) খেলেছেন। লোকমুখে প্রচলিত থাকা কথাবার্তার সারমর্ম করলে দাঁড়ায়, আমার বাবার, তাঁর বাবার, এবং তাঁর বাবারও ব্যাপকতর চাহিদা ছিল। বাবার খেলা আমি দেখি নি, তাঁর বাবার খেলাও দেখি নি, তাঁর বাবারও না। দেখলে নিশ্চিত আমি "বাবাবেলার দিনগুলোতে ক্রিকেট", "দাদাবেলার দিনগুলোতে ক্রিকেট" টাইপের কিছু বই লিখতাম। এসব না লিখেও আমি বহুল পরিচিত। কারণ আমি তো বাবার ছেলে আর দাদার নাতি। আমি তো সাকসেসর। উত্তরাধিকারী। তবে খেলছি যোগ্যতাবলে।

সারাদিন খেলা নিয়ে থাকতাম তখন। ক্লাবের ঐতিহ্য নিয়ে প্রচুর ভাবতে হতো। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টি ভার্সনে আমাদের ক্লাব আন্তপাড়া, আন্তমহল্লা, আন্তগ্রাম, আন্তইউনিয়ন পর্যায়ে খেলতো ফি বছর। তাই ভাবতে হতো বেশি। কিন্তু এতসব ভাববার মাঝেও মাঝেমাঝে হঠাৎ কষে ব্রেক ধরতে হতো। কারণ সেই বিখ্যাত দুউ বোন। "গীতা" ও "সীতা"। একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে তাদের মনের গভীরের প্রেম কখনো কখনো মন বেয়ে উপচিয়ে পড়তো। ফলতঃ পারিবারিক বিশেষ তলবে আমাকে তাদের বাসায় বিশেষ হাজিরা দিতে হতো।

এই বিশেষ হাজিরায় আমাকে যেসব বিষয়ের সমাধান করতে হতো তা ছিল এমন- আমাকে রঙিন জার্সিতে ভালো দোখায় নাকি সাদা জার্সিতে, আমি প্রথমে বল করবো নাকি পরে, আমি হেলমেট পরে ব্যাটিংয়ে নামবো নাকি সাহেবি টুপি। এসব সমাধান করতে আমাকে নানা কায়দার আশ্রয় নিতে হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সমাজের নানা উঠতি মাঝারি, নিম্ন-নিম্ন মধ্যবিত্ত, দীর্ঘ, ক্ষুদ্র, নানা আকারের তাত্ত্বিকগণের সরকারি-ফরমায়েশি কায়দা। তবুও এসব ফৌজদারি বিষয়াদি সমাধা করতে আমাকে বেশ বেগ পেতে হতো। প্রায় সব ক্ষেত্রেই আমার ডাক আসতো কাকীমার কাছ থেকে।



সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলির গোষ্ঠীসংঘর্ষ বা নিজেদের মধ্যে এলাকা দখলের লড়াইতে সাধারণ নীচু তলার কর্মীদের প্রাণহানি ঘটার ক্ষেত্রে যে ভয়াবহতা আমরা লক্ষ্য করি, গীতা সীতার 'শুভেন্দু দা' কে দখলে রাখার প্রচেষ্টা এহেন কর্মকান্ডের কম নয় ; শুধু প্রাণহানিটাই বাকি থাকতো। আর কিছুটা সুখানুভূতি সত্ত্বেও আমি অনুভব করতাম দলিত, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষজনের উপর সম্পন্ন ও প্রভাবশালীদের অত্যাচারের ন্যায় একপ্রকার ভালোবাসা মিশ্রিত অসহ্য অদ্ভুদ ভালোত্যাচার (ভালোবাসা+অত্যাচার)।

এসব অত্যাচার যে শুধু গীতা আর সীতা-ই করতো, ব্যাপারখানা কিন্তু এমন না। তাদের সাথে ঊর্বশী নামের আরেক কাঙালের যোগ ছিল। এসব ভালোত্যাচারে আমার জীবন ছ্যারবা ছ্যাবরা হয়ে যাচ্ছিল প্রায়। সেই সময়টাতে আমি তাদের ভালোত্যাচার থেকে বাঁচতে আমার পারিবারিক স্মৃতি বিজড়িত ইয়াং স্টার ইলেভেন ক্লাবটা ত্যাগ করতে হলো, সাথে ত্যাগ করতে হলো আমার নিজের পাড়াটাকে।

তুমি গীতা সীতার ব্যাপারে জারতে চেয়েছো বলে আজকে এই চিঠির অবতারণা। তোমার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, সবশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী গীতা, সীতা এবং ঊর্বশী- প্রত্যেকের দুই বা ততোধিক বাচ্চা আছে। ৬০/৭০ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনের কিছু কাজ তারা ইতোমধ্যে এগিয়ে নিয়েছে। আপাতত তাদের ভবিষৎ পরিকল্পনা জানাতে পারছি না বলে রাগ করো না।

প্রিয় জাস্টফ্রেন্ড,
পরবর্তী চিঠিতে আরো বিস্তারিত জানানোর প্রয়াস থাকবে। তোমার ফিরতি চিঠিতে তোমার যাবতীয় জিজ্ঞাসা লিখে পাঠিয়ো।


ইতি-
তোমার শুভেন্দু দা

২৬ ভাদ্র ১৪২৬
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:২৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×