somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিশেল ফুকোর বায়োপলিটিক্স, আমাদের বাস্তব জীবন এবং শিক্ষক-অভিভাবক-ভাইবোন ও যাবতীয় মুরুব্বীগণ

১৬ ই জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মিশেল ফুকো (১৯২৬) তাঁর History of sexuality বইতে বায়োপলিটিক্স (Biopolitics) নিয়ে আলোচনা করেছেন। মূলত History of sexuality বইয়ের ১৩৩ পৃষ্ঠায় এই আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি শুরু করেছেন Biopower কথাটি দ্বারা। ছোট একটি অধ্যায়ে রাষ্ট্র কর্তৃক জনগণকে শাসন করার কথা এবং শাসন করার সময় "তোমার ভালোর জন্যই তোমাকে নিয়ন্ত্রণ (শাসন) করছি" কথাটি বলার কারণ, প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। ফুকো একজন রাজা (King) তার রাজ্যের কাউকে যে ইচ্ছা করলেই হত্যা করতে পারতেন তথা জীবনের মালিকও রাজা ছিলেন- সে কথাটিও বলেছেন। আজকে আমি এই আলোচনায় রাজনৈতিক দর্শন টানবো না, তাই Biopolitics and Biopower, Genology of Biopower, State racism কিংবা Global context of Biopolitics ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কোন আলোচনা হবে না। তবে ফুকোর বায়োপলিটিক্স দর্শনের সব দিক (অ্যাঙ্গেল) বাদ দিয়ে আজকের আলোচনা এগিয়ে নেওয়াও সম্ভব নয়। কোন্ কোন্ অ্যাঙ্গেল ব্যবহৃত হবে তা জানার আগে জানা দরকার আজকের আলোচনার প্লাটফর্ম কি এবং এর পরিসর কতটুকু। সেক্ষেত্রে বলা ভালো আজকের আলোচনার প্লাটফর্ম হচ্ছে "তোমার ভালোর জন্যই তোমাকে নিয়ন্ত্রণ (শাসন) করা হচ্ছে" এবং পরিসর হচ্ছে আমার ব্যক্তিজীবন (ব্যতিক্রমসহ)।

তবে আজকের আলোচনায় ফুকোর চিন্তার তিনটি বিষয় ব্যবহৃত হবে। সেগুলো হচ্ছে-
i. Normalizing politics
ii. Regressive politics
iii. Anatomy politics of the body
এখানে যে বিষয়গুলোর কথা বলা হবে সেগুলো আমার জন্য নরমাল বলে মনে করা হয়। নরমাল বিষয়গুলো মানলেই আমার জন্য উত্তম হবে (anatomy politics of the body) কিন্তু এটা আমার জন্য Regressive politics এর অবস্থা নির্ধারিত হচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। আমার ক্ষেত্রে যারা "আমার ভালোর জন্যই আমাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন" তারা হলেন-
১. মা-বাবা
২. ভাই-বোন
৩. কাকা-কাকীমা গোত্রীয় অভিভাবক
৪. শিক্ষক
৫. প্রেমিক অথবা প্রেমিকা*
৬. বন্ধু-বান্ধব**
তাদের যাবতীয় (ভিন্ন ভিন্ন) কর্মকান্ড কিভাবে জীবনকে কিভাবে দুর্বিষহ করে ফেলছে তা নিয়ে এবার আলাপ করা যাক।
[এক তারকা (*) চিহ্নিত চিহ্নিত বিষয়টি এবং দুই তারকা (**) চিহ্নিত বিষয়ের উদাহরণ কিছুটা ব্যতিক্রম]

১. মা-বাবা :
জীবনের শুরুতেই এই শাসন শুরু হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না যে "তোমার ভালোর জন্যই তো আমরা এটা বলছি / এটা করছি / এটা দিচ্ছি / এটা নিচ্ছি" এসব শুরু হয়। তবে আমাদের জীবনে বেশির ভাগ এমন ওয়াজ শুনতে হয় সম্ভবত ইনজেকশন নেয়ার সময়। সাধারণ-বিশেষ টিকা ছাড়াও খুব কম বাচ্চাই আছে যারা ছোটবেলার খেলার সাথীর সাথে মারামারি করে মাথা ফাটায় নি। আমি বাপু কমের দলে থাকবো কেন? অবশ্যই বেশির দলে। সুতরাং এটিএস টাইপ ইনজেকশন নেয়ার সময় "ভালোর জন্য......" শুনতে হতো। এতো গেল একদিক। আরো আছে। স্কুলে যাওয়া, মামাবাড়ি যাওয়া না-যাওয়া, মায়ের সাথে রাতে ঘুমানো না-ঘুমানো, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে/খেলতে যেতে দেয়া না-দেয়া ইত্যাদি বিষয়গুলোর বেলায় একটা আদেশ জারি হতো আর যুক্তি হতো তোমার ভালোর জন্যই তো আমরা তোমাকে এটা/এসব করতে দিচ্ছি/দিচ্ছি না বাপু। বাপরে একেকজন যেন মিশেল ফুকোর অবতার! তাও আবার সনাতনী দেবী দুর্গার মতো দশ হাত নিয়ে! আমার একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা আছে, বলি। ছোটবেলায় আমার খুব জ্বর হতো। বড়বেলায় এসে এই জ্বর হাতে গোনা পাঁচ বারও হয় নি। রেশিও মোতাবেক আরো বেশি হবার কথা, যদিও স্রষ্টার কাছে একবারও প্রত্যাশা করি না। শুধু জ্বরের না, যে কোন রোগের মেডিসিন হিসেবে ট্যাবলেট আমার গলা দিয়ে নামতো না। পানি চলে যেতো পেটে আর ট্যাবলেট বাবাজি থাকতো মুখে। সাধারণত ট্যাবলেটের স্বাদ হয় তিতে, কোন ক্ষেত্রে তীব্র তিতে। ফলে ট্যাবলেট আমার মুখে রাখা সম্ভব হতো না, ফেলে দিতাম। তখন আমার পিঠে এবং মাথার পিছনে হাতের উপস্থিতি টের পেতাম। বাবা! কি আওয়াজ আর কি ব্যথা! আমার বড় ৪ ভাইবোন আর বাবা-মা দুইজন, যখন যারা এই দায়িত্বে থাকতেন তখন তারা পিঠে ব্যথা করে দিতেন। সাথে শুনাতেন একটা ফুকোডিয়ান বাক্য– "তোমার ভালোর জন্যই তোমাকে আমরা ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছি আর বানাচ্ছি.........!"

২. ভাই-বোন :
তাদের কথা ইতোমধ্যে একটু এসেছে। কিন্তু তাদের কর্মের পরিধি এতো বেশি যে লিখতে গেলে মহাকাব্য হয়ে যাবে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাকাব্য লিখেন নি বলে তাঁর সম্মানে আমিও বিস্তৃত আকারে তাদের (ভাইবোন) মুরুব্বিয়ানা তুলে ধরা থেকে নিজেকে বিরত রাখলাম। তবুও কিছু কথা যদি না বলি তবে তো তাদের প্রতি অবিচার(!) করা হবে। কোন কাজ যখন ভাইবোনদের উপর বর্তায় তখন সেটা স্লিপ করে চলে আসে ছোটদের প্রতি। আমি সবার ছোট ছিলাম বলে এখানে ইশারা-ইঙ্গিতে আমার কথাই বলছি। কাজ করা তো দোষের কিছু না, বরং কাজ করেই তো জগতে কতশত মানুষ চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তবে সমস্যা কোথায়? সমস্যা হচ্ছে ভাইবোনেরা, বিশেষত আমার ভাইবোনেরা আমাকে দিয়ে কাজ বের করিয়ে নেয়ার সময় যুক্তি দিতেন এসব নাকি আমার ভালোর জন্য। এদের প্রত্যেকের চরিত্রে ফুকোডিয়ান চিহ্ন। কন্ঠে ফুকোডিয়ান সুর। আবার আমি যদি "বিদ্রোহী" হতে চেয়েছি তখন আমাকে বলা হয়েছে "তোমার কপালে দুঃখ আছে"। দুঃখ ছিল কি-না তার চেয়ে বিবেচ্য হচ্ছে এটাও নাকি আমার ভালোর জন্য! এসব তো গেল কাজের কথা। রাতের কোন ভাই/বোনের সাথে ঘুমাবো, কোন ভাই/বোনের সাথে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যেতে পারবো-কার সাথে পারবো না ইত্যাদি বিষয়, কার কতটুকু কাজ করে দেব, অন্যদের মনোমালিন্য (কখনো কখনো ঝগড়ার সময়) আমি কার পক্ষে অবস্থান করবো এসব বিষয় নির্ধারিত হতো ভাই-বোনদের মধ্যে কার ঘুষি-থাপ্পরের শক্তি বেশি- তার উপর। কারণ পক্ষে না পেলে তো আবার শেষে কারো না কারোর হাতে "ভালোর জন্য হালকার উপর ঝাপসা মাইর খেতে হবে"! তো খেতেই যখন হবে তবে খুঁজে-টুজে কম শক্তির "ভালোর জন্য জিলাপি খাওয়ার" উত্তম হবে! তাই নয় কি?

৩. কাকা-কাকীমা গোত্রীয় অভিভাবক:
ভাষার যত রকম জটিলতা আছে তার মধ্যে সম্পর্ক বুঝাতে কিছু শব্দের প্যাঁচ-ই বোধহয় বেশি। এসব প্যাঁচময় শব্দগুলোর মধ্যে আন্টি ও আংকেল শব্দ দু'টি বেশি গোলমেলে! আরো একটা শব্দ আছে। আরো ভয়াবহ। কাজিন। এই শব্দ দিয়ে অন্তত আট শ্রেণির বনি আদমকে বুঝানো হয়। এদের মধ্যে চাচাতো ভাই ও বোন, মামাতো ভাই ও বোন, খালাতো ভাই ও বোন, ফুফাতো ভাই ও বোন বিদ্যমান আছে (এবং শাখা খালাতো, প্রশাখা ফুফাতো সম্পর্কগুলো ভদ্রতাবশত বললাম না) । আমার কাজিনের বিয়ে কথাটা শোনার পর আমি কোনদিনও বুঝি নি যে বক্তা মূলত কোন গোত্রের কাকে বুঝাচ্ছে(ন)! এই কথাটা- কথার কথা না বরং পাড়ার সকল নেড়ি কুত্তার দিব্যি খেয়ে বলতে পারি এটা সত্য কথা। ভাষাবিজ্ঞানীদের মনের অবস্থা স্বয়ং ফ্রয়েড বুঝেছেন কি-না এ বিষয়ে আমার পূর্ণ ডাউট আছে। আজ ভাষা নিয়ে বলবো না। মূল কথায় আসি। মা-বাবাদের যাবতীয় সিদ্ধান্ত-অনুসিদ্ধান্তের ভিড়ে যখন হাফ সাইড যায় যায় করছে, সাথে ভাই-বোনদের অতিরিক্ত ভালোর জন্য নানা কাহিনি জীবনে থার্ড সিগন্যাল দেখায় তখন আন্টি আংকেলের "ভালোর জন্য যাবতীয় সু-পরামর্শ" জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তোলে। সু-পরামর্শগুলো কি কি একটু দেখি। ধরুন, আপনার ভালো লাগে বাসায় থেকে মায়ের হাতের রান্না খেয়ে স্কুলে/কলেজে যাওয়া, ঘরোয়া পরিবেশে থাকা। অথচ আপনার আন্টি শ্রেণিয় এসে আপনার আম্মুকে বললেন, "ভাবী....(তিন আলিফ টেনে), শুভ কে হোস্টেলে দিয়ে দ্যান। আমাদের সুপ্রিয় কেও তো হোস্টেলে দিছি গতবছর। ওর রেজাল্ট এবার ভালো হইসে। রোল নম্বর এক।" এসব বলছে আর মুখে একটা অহংকারের ভাব বজায় রাখছে। তো এবার যখন এসব শুনে প্রতিবাদ করবেন তখন আন্টি বলবে "তোমার ভালোর জন্যই তো বলছি বাবা!" এবার "ভালোর" ঠ্যালা সামলে নিন। আবার উল্টা কেসও হতে পারে। আপনি হোস্টেলে থাকতে চান।ধরুন আপনার বদমায়েশির লেভেল বড় ভাইবোনদের নজর অতিক্রম করতে পারে না। তখন হোস্টেলে যাওয়ার বায়না করলেন তখন আপনার আংকেল বা আন্টি গোত্রীয় কেউ এসে আপনার আম্মু বা আব্বুকে বললেন "ভাবী......(হযতো ছয় আলিফ টেনে), এই কাজ কইরেন না। দরকার হয় পড়াশোনা করাবেন না, তবুও হোস্টেলে দিবেন না। হোস্টেলে দিলে পড়াশোনা তো হবে না-ই পাশাপাশি ও অমানুষ হয়ে যাবে। বাসায় থাকলে অন্তত মানুষ থাকবে!" এরকম আরো হাজার উদাহরণ হতে পারে। আমার জীবনের এরকম ঘটনা কিছু যে ঘটেনি এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে তাদের অভিশাপে "অমানুষ" হয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজের "ভালোর জন্য শাসন" নিয়ে মুখ খোলা থেকে বিরত থেকে ঠোঁট সামান্য ফাঁক করে বলে দিলাম "নো কমেন্টস"।



৪. শিক্ষক :
আমাদের ভালোর জন্য যারা আমাদেরকে শাসন বা নিয়ন্ত্রণ করেন তাদের মধ্যে এই শ্রেণির উদ্দেশ্য এবং কার্যবিধি উভয়ই যৌক্তিক। তবে আমাদের ছাত্র-মন সেটা মানলেও সহ্য করতে চায় না। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে হোস্টেলে থাকাকালীন ফজরের আগে একঘন্টা পড়তে হতো। যদি 'কর্তব্যরত' শিক্ষক এসে কোন ছাত্রকে ঘুমে দেখতেন তবে তিনি ঘুমেই পিটানোর কাজটা শুরু করে দিতেন। নিশ্চয়ই 'ভালোর জন্যই' হবে আরকি! চারজন শিক্ষক পালাক্রমে এই দায়িত্ব পালন করতেন। চারজনই সিদ্ধহস্ত। এটা ছাড়াও বহু বিষয়ে তারা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতেন। একবার ক্লাস টেনে যোহরের নামাজ না পড়ার কারণে উত্তম-মধ্যম দিতে দিতে আমাকে মাটিতে শুয়ানো হয়েছিল। ভার্সিটি লাইফের শিক্ষকগণ তো আরো বেশি বেশি "ভালোর জন্য নিয়ন্ত্রণ" করেন। তারা সাথে সাথে রেখে এটা-সেটা করান তা কিন্তু নয়। তারা আপনাকে সাত দিনের মধ্যে ফিল্ডওয়ার্কের রিপোর্ট জমা দিতে বলবে, সকালে সিআর কে জানাবে আজ প্রেজেন্টেশন দিতে হবে, ক্লাসে হঠাৎ এসে বলবে এখন পরীক্ষা দিতে হবে (এর সুন্দর একটা নামও দেয়া হয়েছে "সাডেন-টেস্ট"), তবে ভার্সিটির এমন দরদী শিক্ষকের খোঁজ পাওয়া গেছে যাঁরা বলেন "আজ তো বৃহস্পতিবার, আগামী সোমবার তোমাদের একটা সাডেন-টেস্ট হবে"। তাদের আরও এমন অনেক "ভালোর জন্য" টাইপ কাজ আছে, যেমন- বেশি বেশি হোমওয়ার্ক দিবে, মিডটার্ম বেশি নিবে, চারঘন্টা ব্যাপিয়া প্রেজেন্টেশন নিবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব আপনার ভালোর জন্য করা হচ্ছে বলা হলেও আপনার জীবন অতিষ্ঠ হতে হতে থার্ড সিগন্যালে পড়ে যায়। তবুও আপনাকে মেনে নিতে হবে যে "আপনার ভালোর জন্য আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে"।

৫. প্রেমিক অথবা প্রেমিকা :
প্রেমের ক্ষেত্রে প্রেমিক প্রেমিকাকে বেশি নিয়ন্ত্রণ করে নাকি প্রেমিকা তার প্রেমিককে বেশি নিয়ন্ত্রণ করে সে কথা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক তর্ক চলতে পারে, এমনকি চলাটা স্বাভাবিক এবং চলমান প্রেমসংক্রান্ত সম্পর্ক-তে চলাটা জরুরি। তবে কম-বেশি'র তারতম্য মেনে নিয়ে একটা সাধারণ সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, উভয় শ্রেণির প্রাণিই একে অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যেখানে নিয়ন্ত্রণভার একপাক্ষিক সেখানে হয় একজন (যে নিয়ন্ত্রণাধীন, সে) খুবই বিনয়ী, বলা যায় গাধা শ্রেণিয় বিনয়ী এবং অন্যজন আসাদ আল বাশার বা মুয়াম্মার গাদ্দাফি টাইপ জেনারেল (শব্দটা জাদরেল হওয়া ঠিক ছিল)। কে কোনটা হবে সেটা নির্ভর করবে দুজনের সৌন্দর্য, বিত্ত, চিত্ত, পড়াশোনা, রাগ, অহংবোধ এবং বিশেষ করে ছাড় দেয়া বা ধৈর্যের রেশিও এর উপর। প্রেম বিষয়ে আমার অনভিজ্ঞতা হয়তো উদাহরণ হিসেবে আমাকে হাস্যকর ও বিশেষ ধরণের অনুপযোগী করে তুলবে। সুতরাং নাটক সিনেমার অভিজ্ঞতা ও পরিচিতজনদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার সারমর্ম বলা যাবে। ব্যক্তি-বিশেষে "ভালোর জন্য নিয়ন্ত্রণ করা"র ধরণ ভিন্ন ভিন্ন হলেও নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি কিন্তু মোটামুটি একই রকম। প্রেমিক-প্রেমিকারা চোখের ইশারায়, কথা না বলে, ফোন রিসিভ না করে, করলেও হঠাৎ ফোন কেটে দিয়ে, টেক্সটের রিপ্লে না দিয়ে, চোখ উল্টিয়ে, চোখ লাল করে, কখনোবা ধমক দিয়ে, গভীর প্রেমের সম্পর্ক-তে কান্নাকাটি করে একজন অন্যজনকে প্রভাবিত করে। এভাবে প্রভাবিত করার মধ্য দিয়েই মূলত নিয়ন্ত্রণ করে। এটা মূলত সরল প্রেমের উপর ভিত্তি করে আলোচনা করা হয়েছে। ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, পঞ্চ, ষষ্ঠ....অষ্ট...সপ্তদশ কিংবা পঞ্চবিংশ ঘরানার প্রেমের ক্ষেত্রে কি হতে পারে তা বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ফ্রয়েড, ফুকো, দেরিদা কিংবা আমার গুরু জ্য জ্যাক লাঁকা কিছু বলেছেন কি না সে বিষয়ে এখনো এলেম জোগার করতে পারি নি। জোগার হয়ে গেলে আরেকটি তাত্ত্বিক ঘরানার আলোচনা (পড়ুন, আলোচনা নয় খিচুড়ি) পেশ করবো। আপাতত এই-ই থাক।

৬. বন্ধু-বান্ধব :
জগতের এই এক শ্রেণির প্রাণি মানব জীবনে বেশি উপকার করে আবার এরাই সবচে' বেশি বাঁশ খাওয়ায়। কথা হচ্ছে এদের (বন্ধুশ্রেণিয় প্রাণিদের) বেলায় নিয়ন্ত্রণ করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠবে কি-না- তাত্ত্বিকভাবে এই প্রশ্ন পাঠকসমাজ তুলতে পারেন বটে, তথাপি এতে আমি কোন "দোষ" দেখতে পাই না। একইসাথে আমি এটাও বলতে পারি বন্ধুদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার ঘটনা হরহামেশাই ঘটে এবং সবার জীবনেই এ কথা সত্য। নিয়ন্ত্রিত হওয়ার ধরণ ও প্রসঙ্গ অনেক বেশি আলাদা হতে পারে কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করার কায়দা কিন্তু একই (রকম)। বন্ধুরা কি কি বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তার তালিকা হয়তো অনেক লম্বা হবে তবে তাদের অ্যাপ্রোচ প্রায় একই; একটা বলা যাক। ধরুন, আপনি ছ্যাকা খেয়ে বেকা (বাঁকা) হয়ে হতাশার সাগরে বাতাসা খাচ্ছেন, তখন আপনার বন্ধু আপনাকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য অনেক বেশি সময় ধরে সঙ্গ দিবে। একসময় আপনাকে বলবে- "বন্ধু, কোন কিছুই তো স্থায়ী না। দেখ, আমার সাথে গত মাসে নাতাশা'র বিচ্ছেদ (আধুনিক ছেলেপেলেরা এটাকে ব্রেকআপ বলে) হয়ে গেছে। আমি তো তখন তোকে বলিও নি। যে যাবার সে যাবেই। তার জন্য বসে থেকে লাভ নেই। তুই "কিছু একটা" হয়ে দেখা, দেখবি তার চেয়ে ভালো মেয়ে তোর পেছনে ঘুরবে এবং তখন তোর এক্স-গফ (কথাটা হওয়া উচিৎ প্রাচীন বালিকা বন্ধু) শুধু পুড়বে আর জ্বলবে, নিজের কান নিজে মলবে।" আপনি বন্ধুর কথায় বাস্তবতা ফিরে পেলেন। তারপর স্বাভাবিক হয়ে গেলেন কিছুটা, আস্তে আস্তে পুরোটা। আসলে কথা হচ্ছে আপনি বন্ধুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেন। কিছুদিন পর দেখলেন আপনার বন্ধু পার্কে বসে নাতাশার সাথে বাদাম খাচ্ছে! সুবিধাজনক সময়ে আপনি যখন বন্ধুকে জেরা করবেন তখন বন্ধু বলবে- "তোর ভালোর জন্যই তো আমি এগুলা বলছি, তুই তো মোটাদাগে কষ্ট পাচ্ছিলি। যদি সিগারেট খাওয়া শুরু করিস! এটাও তো আমকে ভাবতে হয়।"
কিন্তু আপনি প্রেমে ছ্যাকা খাওয়ার পর আবার বন্ধুর হঠকারীতায় সিগারেট না খেয়ে একেবারে গাঁজা ধরলেন কি-না তা হয়তো নাতাশার বয়ফ্রেন্ডের জানার বিষয় না। হয়তো(গাঁজা খাওয়া) ধরবেনও। তাতে কি! ওর তো কিছুই আসে যায় না। বন্ধু তো এটাই চেয়েছিল! কারণ তার একটা গাঁজা খাওয়ার পার্টনার দরকার ছিল! আরেকবার নিয়ন্ত্রিত হলেন! বুঝলেন? বুঝলে বুঝপাতা, না বুঝলে আরো বেশি করে গাঁজা খান (সব জায়গায় তেজপাতা বলা ওস্তাদের নিষেধ)!

(আমাদের রাজ্যে নিজের প্রেমের কথা বলা নিষেধ। এখানে প্রেমকে ভাসুর বলা হয়। শাস্ত্র বলে "ভাসুরের নাম মুখে নিতে নেই। এছাড়া আমি ভালো ছেলে ইউ নোউ! আমার দ্বারা এসব প্রেম নামক (অপ)কর্ম হয় না!)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:২৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান কেন বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু?

লিখেছেন রায়হানুল এফ রাজ, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫০



জাপানী সম্রাট হিরোহিতো বাঙ্গলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘যতদিন জাপান থাকবে, বাঙালি খাদ্যাভাবে, অর্থকষ্টে মরবেনা। জাপান হবে বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু’! এটি শুধু কথার কথা ছিলো না, তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার লেখা প্রথম বই

লিখেছেন ফারহানা শারমিন, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:১৩



ছোটবেলা থেকেই প্রচন্ড রকম কল্পনাপ্রবণ আমি। একটুতেই কল্পনাই হারিয়ে যাই। গল্প লেখার সময় অন্য লেখকদের মত আমিও কল্পনায় গল্প আঁকি।আমার বহু আকাংখিত বই হাতে পেয়ে প্রথমে খুবই আশাহত হয়েছি। আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির আয়নায়

লিখেছেন নিভৃতা , ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:০৪





কিছুদিন আগে নস্টালজিতে আক্রান্ত হই আমার বাসার বুয়ার জীবনের একটি গল্প শুনে। স্মৃতিকাতর হয়ে সেই বিটিভি যুগে ফিরে গিয়েছিলাম।

এই বুয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন জীবন- নয়

লিখেছেন করুণাধারা, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:০২



আগের পর্ব: নতুন জীবন- আট

অবশেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমার বোন পেট্রার জন্মকে স্বীকৃতি দেয়া হল। আমাকে জানানো হল আমার একটা বোন হয়েছে। আমি বোন দেখতে গেলাম, দেখি মায়ের পাশে ছোট একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন নীল আকাশ, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:৩৬



[সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম দীনের অনুসারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×