somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বদিউজ্জামান মিলন
সহেনা যাতনা দিবস রজনী

ভালোবাসার জার্সি, জার্সিতে ভালোবাসা

০৯ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের টাকা জমানো তাঁর শখ। ইদানীং শখের তালিকায় যোগ হয়েছে আরেকটি বিষয়—জার্সি সংগ্রহ। বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে আমজাদ হোসেন মজনুর এই শখ পেয়েছে নতুন মাত্রা। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের স্টাইল স্পোর্টসের মালিক নিজে একজন ক্রীড়াসামগ্রী বিক্রেতা। বিশ্বকাপ সামনে রেখে তাঁর দোকানে চলছে সমানে জার্সি বিক্রির ধুম। তবে বেচা-বিক্রি হোক বা না হোক, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জার্সি দোকানে ঝুলিয়ে রাখাতেই তার অন্য রকম আনন্দ।
দোকানে ঢুকতেই দেখা গেল হ্যাঙারে টানানো সারি সারি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার জার্সি। আছে ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, রাশিয়া, মেক্সিকো, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড, উরুগুয়ে, কলম্বিয়া, ইংল্যান্ড, ইতালি, নাইজেরিয়া, জাপান, ক্যামেরুন, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, ও হন্ডুরাসের জার্সি। বাকি ১২টি দেশের জার্সি জোগাড়ের চেষ্টা করছেন আমজাদ।
জার্সি বিক্রির তালিকায় সবচেয়ে ওপরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এই চিত্র শুধু গুলিস্তান বা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়েরই নয়, রাজধানীজুড়েই একই অবস্থা। মিরপুরের বাগদাদ মার্কেটের বিক্রমপুর ফ্যাশনের মোহাম্মদ সাগর এবং দেশ হোসিয়ারির হাবিবুর রহমান বেশি বিক্রি করছেন এই দুই দলের জার্সিই। নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহীন ২০ বছর ধরে জার্সির ব্যবসা করছেন। এবার জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলেই জানালেন তিনি, ‘অন্যান্য বিশ্বকাপের তুলনায় এবার জার্সি বিক্রি অনেক বেড়েছে। আমরা জার্সি অর্ডার দিয়েও পাচ্ছি না। চীন থেকে যেসব জার্সি আনি সেগুলোর প্রতিটি গত কয়েক দিন ৫ ডলার বেশি দামে কিনে নিয়ে যাচ্ছে অন্যান্য দেশ।’ তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই তাঁরা নারায়ণগঞ্জ ও বঙ্গবাজার থেকে জার্সি এনে ক্রেতাদের সরবরাহ করছেন। বাড্ডা থেকে জার্সি কিনতে আসা চিকিত্সক আসিফ বিন আহমেদ জানালেন, ‘এখনকার তরুণ, যুবকদের বেশির ভাগই ইংলিশ লিগ, স্প্যানিশ লিগ দেখে বড় হচ্ছে। তাদের প্রিয় তারকা যখন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ওই দেশের জার্সি কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠছে সবাই।’ আসিফ আহমেদ নিজে বসুন্ধরা থেকে বেশি দামে আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছেন। কিন্তু বাড়ির অন্য সদস্যদের জন্য একটু কম দামে জার্সি পেতে নিউমার্কেটে এসেছেন। নিউ মার্কেটের সিয়াম স্পোর্টসের বিক্রেতা মোহাম্মদ স্বপন চীনের প্রতিটি হাফ হাতা জার্সি ৬০০ ও ফুলহাতা জার্সি ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে স্থানীয় কাপড়ে তৈরি জার্সিগুলো পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যেই। সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ধুমসে বাংলাদেশের জার্সি বিক্রি করেছেন তিনি। আক্ষেপের সঙ্গে জানালেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বকাপে একদম ভালো করেনি। যদি ভালো করতো, তাহলে আরও অনেক বেশি জার্সি বিক্রি করতে পারতাম।’

পছন্দের জার্সি কিনতে এসে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিলেন রাজধানীর বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফ কলেজের ছাত্র ফখরুল হাসান। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে জার্সি মিলছে না তাঁর, ‘ব্রাজিলের জার্সি কিনতে এসেছি। কিন্তু বাজেট অনুযায়ী ব্রাজিলের ভালো জার্সি পাচ্ছি না। সুযোগমতো এবার অনেক বেশি দাম চাচ্ছে দোকানিরা।’

জার্সির সবচেয়ে বড় বাজারটা ধরে রেখেছে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। ফেসবুক আর টুইটারের কল্যাণে ইদানীং হন্ডুরাসের মতো অজনপ্রিয় দলের সমর্থকও পাওয়া যাচ্ছে দু-একজন। আছে আইভরি কোস্টের সমর্থকও। স্টাইল স্পোর্টসের আমজাদের কাছে হন্ডুরাসের জার্সি থাকলেও নেই দিদিয়ের দ্রগবার দেশের জার্সি। তাইতো আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘আইভরি কোস্ট ও গ্রিসের জার্সি কিনতে এসে ফিরে গেছেন দুই সমর্থক। দেখি এই দুই দলের জার্সি খুঁজে পাই কি না।’

শুধু জার্সি নয়, নানা রঙের পতাকায় ছেয়ে গেছে মার্কেটগুলো। ফুটপাতেও জার্সির পাশাপাশি সস্তায় বিকোচ্ছে এসব পতাকা। অনেকে মেসি, রোনালদো, রুনির থ্রিডি স্টিকার কিনছেন। কিনছেন নিজের প্রিয় দলের লোগো সংবলিত রিস্ট ব্যান্ড ও পোস্টার।

বরিশাল থেকে ব্রাজিল, আরমানিটোলা থেকে আর্জেন্টিনা—প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে শেষ পর্যন্ত জার্সিটাই যেন হয়ে উঠেছে ভালোবাসার বড় সেতুবন্ধ।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×