somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বদিউজ্জামান মিলন
সহেনা যাতনা দিবস রজনী

একদিন প্রতিদিন

০১ লা জুলাই, ২০১৪ রাত ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘরে ঢুকতেই শ্বাশুড়ি মার প্রশ্ন, `বাবা, ইফতারি কি দেব?' বাদল না করতেই বউয়ের অগ্নিমূর্তি। ও, বাড়ির ইফতার কেন ভালো লাগবে? বলেই শ্বাশুড়ি মায়ের দিকে আরেকবার মুখ ঝামটি। তুমি কেন বেহায়ার মতো ওকে বলতে যাও।
কথাটা শুনে বেশ চটে গেল বাদল। বেশ কিছুদিন হলো মেয়ের বাড়ি বেড়াতে এসেছেন ভদ্রমহিলা। তার সামনে তাই কিছুই বলল না বাদল। প্রথম রোজার দিনই বউ বলেছিল, বাসায় এসে ইফতারি কোরো। অন্তত প্রথম রোজাটা। কিন্তু বাদল কথা শোনেনি। আসলে বাদলের কথা শোনার মতো উপায় নেই। চাইলেই ইফতারির আগে অফিস থেকে বের হতে পারে না। প্রাইভেট কোম্পানি। নামী কোম্পানি হলে যা হয়, নানান ফ্যাকড়া। এরপর বসকে বলে অফিস থেকে বের হতে হলেও ঘ্যান ঘ্যান করতে হয়। এ যুক্তি ওই যুক্তি দিতে হয়। কিন্ত এসব মোটেও ভালো লাগেনা বাদলের। তার ওপর অফিসের ইফতারির খরচের টাকাটা তার হাতেই থাকে। প্রতিবছর রোজা এলে থালা, বাটি, জগ, গ্লাস, চামচ কিনতে হয়। অফিসের চোর পিয়নের হাতে এত টাকার বাজার করতে দিতে মোটেও ইচ্ছা হয় না। এর সঙ্গে প্রথম রোজার জন্য একটু ভালোমানের ইফতারি কেনার ইচ্ছা থাকেক। এসবের সঙ্গে রাস্তার দুঃসহ যানজট তো আছেই। বাদলের মোটরবাইক আছে। তবুও যদি ইচ্ছা করে বিকেল চারটায় বের হতে, তবুও এক-দেড় ঘন্টায় কারওয়ান বাজার থেকে মিরপুর পৌঁছানো সম্ভব কিনা তা শুধু খোদাই মালুম। তাই বাদল ভাবে ইফতারিটা শান্তিমতো করে ফাঁকা রাস্তায় এক টান দেবে।
ঘরে ফিরেই বাদলকে দেখতে হয় ফুল ভলিউমে চলছে স্টার প্লাসের সিরিয়াল। এটা শেষ হলে জি বাংলা, এরপর স্টার জলসা..রাত বারোটা অবদি চলতেই থাকে কোনো না কোনো সিরিয়াল। মাঝে মাঝে বাদলের এতটাই বিরক্ত লাগে যে মনে হয়, এই সিরিয়ালের যন্ত্রণায় নির্বাসনে চলে যাই। বাড়িতে অবশ্য দুইটা টিভি। কিন্তু বাদলের ইচ্ছাও করে না ড্রয়িং রুমের ফ্লোরে গিয়ে অন্য কোনো চ্যানেল ঘোরায়। ইচ্ছা করে টিভিটা বন্ধ থাক। বউয়ের সঙ্গে দুটো সুখ দুঃখের প‌্যাচাল পাড়ি।
কিন্তু বউয়ের সঙ্গে তার কিছুতেই মেলেনা। এই যেমন সিরিয়াল দেখার কথা তুলতেই একটু আগে রিমোট তুলে দিয়েছে ইচ্ছামতো এক আছাড়। যত দোষ যেন ওই রিমোট ব্যাটার। ভাঙতে ভাঙতে আর স্কচ টেপ লাগাতে লাগাতে ব্যাটার চেহারার জিওগ্রাফিই পাল্টে গেছে।
বউয়ের সঙ্গে মিলবে কি করে? মাঝে মাঝে আফসোস করে বাদল, ক্যান যে জীবনে প্রেম করে বিয়ে করল না। প্রেম অবশ্য একটা করেছিল সে। এলাকার এক বন্ধুর বোন তাকে ভালোবেসেছিল। কিন্তু সম্পর্কের ট্যাবুটা এমনই ছিল যে ওই বন্ধুর মাকে সে দাদী ডাকতো। ফুফুর সঙ্গে অসম প্রেমটাকে জলাঞ্জলী দিয়ে মায়ের জোর করে বিয়ে দেওয়া মেয়েটাকেই মেনে নিয়েছে। এমনই এক মেয়ে বাদলের জীবনসঙ্গীনি যে না শোনে রবীন্দ্রনাথ, না দেখে খেলাধুলা। না আগ্রহ আছে বিশ্ব রাজনীতির বারাক ওবামা বা ইরাক-লিবিয়া নিয়ে। না আগ্রহ আছে বোদলেয়ার, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কোস অথবা হুমায়ুন আহমেদ (মেয়েটা কিন্তু শিক্ষিত এবং ভদ্র ঘরের)। বাদলের হয়েছে মহা যন্ত্রনা। অফিস থেকে ফিরে তাই পত্রিকায় মুখ গুজলে বা ব্লগ, ফেসবুক, ইন্টারনেট নিয়ে বসলেই বউ বলে, `তুমি থাকো তোমার দুনিয়া নিয়ে।'
আরে আমার দুনিয়া নিয়ে না থেকে কিই বা করব? তোমার দুনিয়ায় আদেৌ কি কিছু আছে? সংসার, বেতন, সন্তান উৎপাদন আর হিন্দি বাংলা সিরিয়াল....এর বাইরে কি আদৌ তোমার কোনো দুনিয়া আছে?
রাগে গজগজ করতে করতে বাইরে বেরোনোর সময় বাদল দেখে, বউ ইনিয়ে বিনিয়ে মোবাইলে কার কাছে যেন নালিশ করছে আর কাঁদছে।
বয়েই গেছে বাদলের, ওই কান্নায় গলে যেতে।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×