ফেসবুকে আমার বন্ধুতালিকায় নেই ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। তবে আর যাদের সঙ্গে আমার বন্ধু আছে তাদের সুবাদেই ছবিটা দেখলাম। বাংলার `ভেরন' তার টাক মাথায় ব্রাজিলের পতাকার রঙে রাঙিয়ে জার্মানি-ফ্রান্স ম্যাচ দেখছেন গ্যালারিতে। জয় গেছেন ব্রাজিলে ফুটবল বিশ্বকাপ সরাসরি দেখতে। তা তিনি যেতেই পারেন। কিন্ত আমাদের মন্ত্রী কি কখনো ভেবে দেখেছেন এভাবে অন্য দেশের রঙে নিজকে না রাঙিয়ে কবে নিজেদের লাল-সবুজ আকতে পারব।
আমরা বাঙালিরা শুধু বিশ্বকাপ এলেই ফুটবলের প্রেমে পড়ি। রাত নেই, দিন নেই চায়ের কাপে রোনালদো, মেসি, নেইমার। ঘরে ঘরে জার্সি আর পতাকার ধুম। কিন্তু ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে ভাবার কি সময় আছে তাদের?
জয় সাহেব ছিলেন বিজএমসির পরিচালক। মন্ত্রী হওয়ার পর পদটা ছেড়ে দিতে হয়েছে। বিজএমসি ফুটবল দলের এমন দৈন্যদশা সেটা এক কথায় লিখে বোঝানো সম্ভব না। বিদেশিরা অনুশীলনে আসেন না, দেশীরা বেতনের অভাবে খেলতে চান না। কোচ শুধু হা হুতাশ করে।
ফুটবলের একটা একাডেমি হওয়ার কথা সিলেটে। সেখানে সিলেট বিকেএসপিতে শেয়াল চরে। কবে এটা আলোর মুখ দেখবে কেউ জানে না। দুই ডাচ কোচ কাজ না পেয়ে ঘুমান। ছুটি কাটান। অলস বসে থাকেন।
ফুটবল উন্নয়নে বাজেট নেই। পরিকল্পনাও নেই। সংসদে কোনোদিন এসব নিয়ে আলোচনাও হয়না।
সম্প্রতি ভারতের একটি বাংলা দৈনিকে সাক্ষাতকার দিয়েছেন রাজনীতিক প্রসুন বন্দোপাধ্যয়। এখন সাংসদ। তাই রাজনীতিকই বললাম। তবে একসময় ছিলেন মাঠ কাপানো ফুটবলার। ভারতে কেন ফুটবল হচ্ছেনা এই নিয়ে আক্ষেপ করলেন, `এ দেশের ফুটবলের কিছু হওয়ার নয়। অনেকে বলেন এখানে নাকি ফুটবল খেলার পরিবেশ নেই। চেহারা শক্তিতেই নাকি ভারত অনেক পিছিয়ে। ভুল কথা। তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কিছু আফ্রিকান আনলেই স্কিল রপ্ত করা যায় না।' তিনিও একই কথা বললেন, `খেলার প্রতি আমাদের প্রশাসকদের দায়বদ্ধতা নেই।' আর দর্শকেরা? মাঠে কেউ যায় না বললেই চলে।
কবে যে আমরা দেশের ফুটবলকে ভালো বাসতে শিখব?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





