
পেশায় আপনি কর্পোরেট কিম্বা মুদি দোকানি; গৃহিনী অথবা ব্যবসায়ী। সুখ ধরার ধান্দাতেই দিন পার করছেন, এটা স্বীকার করতেই হবে। কখন ধরা দেবে সুখ, আছে কি এর কোন সূচক, কিম্বা অর্থ মূল্য?
উত্তর খোজাঁ বোকামি। এটা বলবেন?
উত্তর খুজঁতে মরিয়া ছিলেন ড. থমাস গিলোভিচ-ও। নিউ ইয়র্কের এ মনোবিজ্ঞানি রীতিমত রাত দিন গবেষণা চালিয়ে সম্প্রতি সুখী হওয়ার একটি দূর্দান্ত মন্ত্র দিয়েছেন। ড. থমাস গিলোভিচ পেশায় কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ্যার অধ্যাপক।
তিনি দাবি করছেন, বস্তুগত সম্পদের চেয়ে ঘোরাঘুরিই আমাদের বেশি সুখী করে। কারণ যখন পকেটে টাকা থাকে তখনই নিজেকে সুখী মনে হয়, যে কোন নতুন কিছু কিনতে পারার ভিতরেও সুখ আছে। তবে তার ব্যাপ্তি সীমিত সময়ের জন্য। কারণ সময়ের সাথে সাথে সেটি পুরোনো হয়ে যায়। আসে নতুনের নতুন আগ্রহ। তার গবেষণায় দেখা গেছে, পুরোনো বস্তু আর আনন্দ দেয়না। আবার নতুনের দিকে ঝোঁক বাড়ে।
অপরদিকে একটি ভ্রমণ আপনাকে আনন্দ দিবে আজীবন, যা পুরোনো হলেও তার স্মৃতি মনে করে আপনি নস্টালজিক হবেন বার বার। ছবি কিম্বা ভিডিও-তে চোখ বুলোলে, স্মৃতির থলে থেকে উৎগরিত হবে নানান সুখ স্মৃতি। পুলোকিত করবে আপনাকে বারংবার। সে আপনার বয়স ৩০ হোক কিম্বা ৯০।
তার এ তত্ত্বে অবশ্য বাধ সেধেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের দাবী, একজন মানুষকে সুখী হতে হলে একটি সুন্দর সমাজ এবং টাকাই যথেষ্ট। কারণ টাকা আপনার মৌলিক চাহিদা পূরণ করবে। তবে এখানে একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যায়, টাকা যেহেতু একটি সীমিত সম্পদ...!! সাথে যুক্ত আছে “চাহিদা” নামক অসীম এ শব্দখানি। সুতরাং....
আসলে সুখ একটি আপেক্ষিক জিনিস যা অনুভব করা যায় কিন্তু বর্ণনা করা যায়না। জন-মত-পথ-শ্রেণীর সাথে সাথে সুখ তার সংগা ও ধরণ পরিবর্তণ করে, অথবা আমরাই পাল্টাই, নাম দেই সুখের।
সুখী হওয়ার জন্য টাকা অন্যতম একটি বিষয় কিন্তু প্রধান ও একমাত্র বিষয় নয়। এক কাড়ি টাকা থাকলেও যেমন সুখী হওয়া যায় না, আবার কোন মতে দিনাতিপাতের সামর্থ যাদের, তাদের পক্ষেও সুখী হওয়া সম্ভব।
শেষ করতে চাই, ড. থমাসের গবেষনার সূত্র ধরে আপনি নিজের জন্য এমন সময় কিছুটা ব্যায় করেন, যা বেঁচে থাকবে আপনার স্মৃতিতে আজীবন, অম্লান হয়ে। দেখবেন সেই সময়ের কথা ভেবে অন্তত কিছুটা সময় সুখী হবেন আপনি।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ সকাল ১০:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




