somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘুড়ি ছেঁড়ার দিন (১)

১২ ই মে, ২০১০ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেবেলা, কৈশোর ও একটি ঝাপসা আয়না!

কিছু কিছু দিনেরা হয় অন্যরকম। অনেকটা ছেঁড়া ঘুড়ির মত। যেন চলে যাওয়ার জন্যই যাওয়া। গোত্তা খেয়ে উড়তে থাকে বেখেয়ালে-যেন দলছুট কোন মেঘের টুকরো। কখনো কখনো ছুটে চলা তার পিছু পিছু-কখনো বা হাল ছেড়ে দিয়ে টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে আরেকটি ঘুড়ির সরঞ্জাম কেনার প্রত্যয়। জানিনা ঘুড়িরও এমন মনে হয় কিনা। হয়তো কোন ডোবার ধারে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে। কিংবা অন্য কোন দূরন্ত শিশু কোন গাছের ডাল থেকে পেড়ে নেয় অসহায় হয়ে ঝুলতে থাকা ঘুড়িটাকে। তারপর নতুন মনিবের শুশ্রূষায় মেঘের সন্তান আবার আকাশে। এভাবেই চলতে থাকে ঘুড়িচক্র।

নচিকেতার গান তখন যেন বিশল্যকরণী। ধাক্কাটা সামলে উঠতে সময় লেগেছিল। বন্ধুদের থেকে অনেকটা দলছুট হয়ে গিয়েছিলাম। হাঁটতাম কারণে-অকারণে। দলছুট কয়েকজন মিলে ছোট্ট একটা দলও ভারী করে ফেলেছিলাম। গন্তব্য সেই ছোট্ট দ্বীপ-যেখানে আমরা একহাঁটু পানি ভেঙ্গে গিয়ে বসে থাকতাম। কিছুনা। এমনি। হয়তো বসে আছি, কারো মুখে কোন কথা নেই। বয়সের সন্ধিক্ষণ গুলো খুব নিষ্ঠুর আচরণ করে মাঝে মাঝে। হয়তো শৈশবের সবচে কাছের বন্ধুটিকে সে বিনা বিচারে বাতিল ঘোষনা করে, অথবা সারাক্ষণ পেছনে লেগে থাকা বিরক্তিকর মানুষটাকেও হাতে তুলে অধিকার দিয়ে দেয়। আমরা বসে বসে গাই জীবনমুখী গান-
"ঠিক তক্ষুণি গোনা হয় প্রণামীর থালা
লাভের ভাঁড়ার হয় পূর্ণ
দেবতাকে দিয়ে ঘুষ; জমা রেখে সব পাপ
মানুষ বাড়ায় তার পূণ্য"


জানিনা হঠাৎ নিজের ভেতরে কিসের যেন একটা প্রত্যয়! হতে পারে নিজের না পাওয়াটাকে অন্য কোন খাতে ঢুকিয়ে দেবার চেষ্টা! নিজের ভেতর একটা তাগিদ-কিছু তো করো! কিছু একটা কর। কিন্তু কি করব-তার কোন হদিশ নেই-অনেকটা কেটে যাওয়া ঘুড়ির মতই...

আমার বন্ধু সেদিন ক্লাসে ফিসফিস করে বললোঃ 'চল পালাই।'
পালালাম।
টোকে'র ঘাটে বসে সে বললোঃ 'টিলাবাজারের রাস্তায় যাবি?'
আমি বললামঃ 'চল'। কোন কিছুতেই 'না' নেই আমার। আগ্রহ হচ্ছেনা, তাই জিগ্যেসও করলাম না কেন। যাবই যখন, কথা বাড়ানোর কি দরকার?
সাইকেল ঠেলে নিয়ে দুইজন এগিয়ে যাচ্ছি। টুকটাক গল্পও করছি। আমাদের সাহিত্য সংগঠনের নতুন ত্রৈমাসিকের প্রচ্ছদ, কিংবা সাজু ভাইয়ের নতুন 'লিমেরিক'; জিন্নাহ নানার ছন্দের অপটুতা...এইতো' আরো হাবিজাবি। হঠাৎ আমার বন্ধু আমাকে থামিয়ে দিল।
একটা চলে যাওয়া রিকশা দেখিয়ে বললো-ওই মেয়েটা। ভালোবাসি।
রিকশার পেছনে নৃত্যরত সিনেমার নায়িকার ছবি। আমি অবাক হয়ে জিগ্যেস করলামঃ ওই নায়িকা!
ও বললোঃ না গাধা! ওই রিকশায় যে বসা ছিল, ঐ মেয়েটা। তুই দেখিসনি?
আমি বললামঃ হ্যাঁ দেখেছি। তার চুলের বেণীটা শুধু। তা, তুই কি ওকে দেখার জন্যই এই ৩ কিঃমিঃ আমাকে হাঁটিয়ে নিয়ে এলি? আজব তো!
-'যাহ, শালা! মিস হয়ে গেল! ভেবেছিলাম তোকে দেখাব'।
-পরিচয় কিভাবে? আগে বলিসনি তো!
-পরিচয় হয়নি। বাসার সামনে দিয়ে যায়, তাই চিনি। বহু কষ্টে নামটা যোগাড় করেছি।
-আমি টিপ্পনি কেটে বললামঃ আমি দেখিনি তো কি হয়েছে? তুই তো দেখলি! চল এবার বাড়ি যাই।
-ও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, 'আমিও দেখিনিরে! এখানকার রিকশা গুলো বড্ড জোরে চলে! আজ রাতের ঘুমটাই হারাম হয়ে গেল!

সেদিন আমরা সেই মেয়েটির বাসার সামনের পুকুর পাড়ে ঠায় বসে ছিলাম সারাটা বিকেল। আমার বন্ধুর ঘুমের দোহাই দিয়ে এমন অনেক বিকেল কে সন্ধ্যা বানানো যায়। তাতে কার কি?
"অভিলাষী মন চন্দ্রে না পাক, জোছনায় পাক সামান্য ঠাঁই।
কিছুতো চাই! কিছুটাতো চাই!"


মেয়েটাকে ওইদিন আর দেখতে পাইনি। ঠেকাতে পারিনি বন্ধুর রাতজাগা।
মাঝে মাঝে ইচ্ছের মেয়েরা যে কোথায় লুকায়!

চলবে...

ঘুড়ি ছেঁড়ার দিন (২)

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ৮:২৫
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লাগেনি সুন্দর

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫১

লাগেনি সুন্দর
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তারে দেখিতে লাগেনি সুন্দর
তাঁর কথা শুনে উৎফুল্ল অন্তর!
সে দ্বীনদার কন্যা, সে অনন্যা
তাঁর গুণাবলী জ্যোতি যা প্রেরণা।

ফজরের পূর্বে উঠে করে সিজদা।
বুদ্ধিমতি তাকে জেনে আমি ফিদা।
নিয়মিত আদায় করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনূস স্যার ক্ষমতায় থাকলে রোহিঙ্গারা এই বছর ঈদ করত মিয়ানমারে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


সেদিন উখিয়ার তপ্ত বালুর ওপর দাঁড়িয়ে প্রফেসর ইউনূস যখন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক টানে ঘোষণা করলেন—"তোয়ারা আগামী ইঁদত নিজর দেশত ফিরি যাইবা", তখন মনে হচ্ছিল মুহূর্তের জন্য পুরো বিশ্বটা বুঝি স্ট্যাচু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সজিব কখনো তারেক নয়॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা হচ্ছে - সজীব ওয়াজেদ জয় কি সার্চ ইঞ্জিন আবিষ্কার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার কি ভালো লাগে, ভূত না জ্বীন?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



হ্যা ভূতের গল্প ভালো লাগে।
নলে অবাক হবেন, আমি নিজেও ভূতের কবলে পড়েছি অনেকবার। অথচ জ্ঞানীগুণীরা বলেন, ভূত বলতে কিছু নেই। এই আধুনিক যুগে আমি নিজেও বিশ্বাস করি ভূত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামস সুমন: এক মধ্যবিত্ত অভিনেতার নিঃশব্দ রুচিকর প্রস্থান

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭

শামস সুমন বিষয়ক সংবাদটি যখন স্ক্রীণে পৌছালো ততক্ষণে আমরা ঋদ্ধি ক্যাফেতে, মিরপুর। বসে আছি মাঝখানের টেবিলে। আমি দরজামুখি, ওপাশে রমিন এবং তার পাশে আরো দশ মিনিট পরে এসে বসবে ফরহাদ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×