somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিতে লাভ লোকসান

১০ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়টা তখন ১৯৮২-৮৩ সাল, ক্লাস টুতে পড়ি। কতই বা বয়স ছিলো, ৭ কি ৮ বছর বয়স। তখন আমরা থাকতাম সিদ্ধেশ্বরী স্কুলে মাঠের পাশে একটা ভাড়া বাসায়। স্বাভাবিকভাবেই বাড়িওয়ালার ছেলে, আমারই সমবয়সী, আদনান এর খেলার সময় মাতব্বরী সবসময় সহ্য করতো হত। ওই বয়সে আমাদের অন্যতম প্রধান খেলা ছিলো বেলুন নিয়ে, তাও আবার বিভিন্ন রকম উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে। মনে আছে একটি বেলুনের দাম ছিলো আট আনা থেকে এক টাকা। বাবার সীমিত আয়ে তাও সবসময় কপালে জুটতো না। তাই দেখা যেত বেশিরভাগ সময়ই বেলুনের সাপ্লাই আসতো আদনানের বাসা থেকে, আর উপরি হিসেবে ছিলো ওই বেটার আলগা মাতব্বরী।

এমনি সময় আমাদের কপাল খুলে গেলো। আমরা যে ফ্ল্যাটের একতলায় থাকতাম তার দোতলায় এলেন এক নতুন আঙ্কেল আর আন্টি, দুজনেই কম বয়সী আর আমাদেরও খুব আদর করেন। দেখা হলেই আদর, চকলেট সব কিছুই জুটতো। উনাদের নাকি নতুন বিয়ে হয়েছিল, তাই বাচ্চা কাচ্চাও ছিলো না।

কিন্তু আসল ঘটনা সেখানে না, ঘটনা হচ্ছে উনাদের আসার পরদিন সকল থেকেই উনাদের বেডরুম বরাবর জানালার নিচে, মাটিতে, এক ধরনের নতুন সেইপের বেলুন পড়ে থাকতে দেখা যেতে লাগলো। কোনদিন একটা, কোনদিন দুইটা; এমনকি কপাল ভালো থাকলে কোনদিন তিন চারটা পর্যন্ত বেলুন পাওয়া যেতে লাগলো। সাথে মাঝে মাঝে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর (ব্যাঘ্রজাতীয়) ইংরেজি নাম লেখা চারকোনা ধরনের ছেড়া প্যাকেট।

আমাদের পালের গোদা ছিলো আদনান। ওর পারমিশন ছাড়া তো আর আমাদের এই আবিস্কার করা "অমূল্য গুপ্তধন" ভোগ করা যাবে না!!! কিন্তু ওই বেটা প্রথমেই ঘোষণা দিল এই বলে যে আমাদের সদ্য আবিস্কৃত গুপ্তধনের ও তার পরবর্তী সাপ্লাই নাকি পুরোটাই ওর নিজের মালিকানার, যেহেতু এই বাড়ি ওর বাবার, তাই। কি আর করা, মেনে নিতে হলো। আর ওর যে ষন্ডা মার্কা সাইজ, তাতে ওকে ঘটানোর বুকের পাটা আমাদের কারোও ছিলো না। চোখের সামনে ওই বেটা বাড়িওয়ালার ছেলে বেলুনগুলো নিজের মুখে ফুলিয়ে তা দিয়ে খেলত কিন্তু আমাদের ছুয়েও দেখতে দিত না।

কিন্তু এমন অনাচার কাহাতক সহ্য হয়??? মাসখানেক পর প্রথমে মৃদু প্রতিবাদ এবং পরে তা আমাদের, ভাড়াটিয়ার বাচ্চা কাচ্চাদের, "সহিংস" আন্দোলনে রূপ নেয়। ফলশ্রুতিতে বাড়িওয়ালা আঙ্কেল-আন্টির সভাপতিত্বে আমাদের সবার আব্বা আম্মার অংশগ্রহনে বিচার সভা। সেখানে আমরা একঝাঁক পিচ্চির দল কাঁদতে কাঁদতে পুরো ঘটনার আদ্যপান্ত খুলে বললে বিচার সভায় কেমন জানি পিনপতন নিরবতা নেমে আসে। বিচার মুলতবি রেখেই কেন জানি বড়রা সবাই মিলে দুইতলার সেই নতুন আঙ্কেল আন্টির বাসায় দল বেধে গিয়ে মিটিং করেন।

আর এতেই আমাদের কপাল পুড়লো। এর পরের দিন থেকে আমরা আর বেলুন পাই না!!! তবে গুপ্তধনের সাপ্লাই হারানোর দু:খ ভুলে গিয়েছিলাম যখন দেখেছিলাম ভিলেইনের পিঠে বাড়িওয়ালা আঙ্কেলের বাজানো হার্ডরক কনসার্টের ড্রামিং!!! এরপরে যতদিন ওই বাসায় ছিলাম, কোনদিন ওই "স্বৈরাচারী" আমাদের সাথে লাগতে আসার সাহস করে নি।

ওই ঘটনার সাথে কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, তখন ওই বয়সে বুঝতে না পারলেও, কিছুদিন পরে আমরা পিচ্চির দল ভাসা ভাসা শুনতে পারলাম, আমাদের দোতলার সেই সুইট নতুন আন্টির নাকি একটা ছোট্ট বাবু হবে।


মোরাল অফ দা স্টোরি: সকল প্রাপ্তিই লাভের নয়, আবার সকল অপ্রাপ্তিই লোকসানের নয়!!!!!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×