somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময় যেন কাটে না, বাট এই সময় টা কে?

১৩ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ, আগামীকাল, গতকাল। সকাল,দুপুর, বিকাল, রাত। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ। দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর। সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা। এই সব শব্দ ই আমরা ব্যবহার করি সময়কে প্রকাশ করার জন্য। কিন্তু, এই সময় জিনিস টা কি? আমার বেস্টফ্রেন্ড নিহালের এক্স সময়ের কথা বলছি না আমি, কেউ ভুল বুঝবেন না দয়া করে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে সময়কে আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি?


সাধারণভাবে মনে করা হয়, সময় হলো একজন ব্যক্তির অবস্থান থেকে চারপাশের অবিরাম ও ধারাবাহিক পরিবর্তনের পরিমাপক। কিন্তু একজন বিজ্ঞানীর কাছে সময় হচ্ছে শন ক্যারলের এনট্রপির বৃদ্বি। এখন সময়কে ঠিক করে বুঝতে বলে এন্ট্রপি কি বুঝতে হবে। এক কথায় বললে বলা যায়, এন্ট্রপি হচ্ছে কোন সিস্টেমের বিশৃঙ্খলা অবস্থা।


আমরা সবাই বিগ-ব্যাং সম্পর্কে জানি। পদার্থবিজ্ঞানীদের মতে বিগ-ব্যাং এর আগে কোন এনট্রপি ছিল না। বিগ ব্যাং এনট্রপি ঘটায়। বিগব্যাং নিজেই এনট্রপি সৃষ্টির কারণ ছিল। যা এখনো বাড়ছে। এখন, এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমাদের জানা উচিত। থার্মোডাইনামিক্স অনুসারে সময় এবং এন্ট্রপি সমানুপাতিক এবং এনট্রপি হ্রাস করা অসম্ভব। তাই একে "THE ARROW OF TIME" বলা হয়। এর মানে হল যে সময় নিজে শুধুমাত্র একটি দিকে ভ্রমণ করে। সেজন্য সময়ের সাথে সাথে আমাদের বয়স বাড়ে। আমরা আগে ছোট ছিলাম, ভবিষ্যতে আরো বয়স্ক হব। কিন্তু আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান এই জায়গায় গরমিল লাগিয়ে দেয়। অতীত এবং ভবিষ্যতের মধ্যে যে পার্থক্যটি আমরা বলছি তা পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রে কোথাও দেখা যায়/পাওয়া যায় না, কারণ আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে "ARROW OF TIME"-র কোন অস্তিত্ব নেই। এ বিষয়ে আমরা পরে অন্য কোন আর্টিকেলে আলোচনা করব আজকে আপাতত সময় আর এন্ট্রপির মধ্যেই থাকি। তো সময় আর এন্ট্রপি সমানুপাতিক। পদার্থবিদ্যা অনুযায়ী Cause comes before Affect. এখন প্রশ্ন হচ্ছে এখানে Cause কোনটা, আর Affect কোনটা?


অনেকের মতে সময়ের সাথে সাথে এন্ট্রপি বাড়ে। দুঃখের কথা দু:খের সাথে বলতে হয় যা তারা সম্পুর্ণভাবে ভুল। এন্ট্রপি এখানে সময়কে নিয়ন্ত্রণ করছে। এন্ট্রপি বাড়ছে বলে সময় সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এন্ট্রপি প্রতি মুহুর্তে একটি নির্দিষ্ট হারে বেড়ে চলেছে। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম কোন ভাবে এন্টপির বাড়ার হার বা এর ত্বরণ বেড়ে গেল, তাহলে সময় ও দ্রুতগতিতে চলা শুরু করব। এবং এখানে দ্রুত বলতে আমি আপেক্ষিকতা বুঝাচ্ছি না। Literally সময়ের গতি বেড়ে যাবে। ২৪ ঘন্টার জায়গায় হয়তো ১৮ ঘন্টায় একদিন পুর্ণ হয়ে যাবে। ঠিক একইভাবে যদি এই ত্বরণ কমে যায় তাহলে সময়ের গতি ও ধীর হয়ে যাবে। আর যদি কোনভাবে এন্ট্রপিকে কমানো সম্ভব হয়ে তাহলে সময় ও পিছিয়ে যাবে। মানে পিছনের দিকে যাওয়া শুরু করবে। ১৯ তারিখের পর ২০ না এসে ১৮ আসবে, theoretically অবশ্যই।


সেই ক্ষেত্রে, কারণের আগে প্রভাব আসবে। এবং এটি আমাকে আরেকটি প্রশ্নের কথা মনে করিয়ে দেয় যা প্রায় ই শোনা যায়। যেটা হল- বিগব্যাং এর আগে কি সময় বলে কিছু ছিল ছিল??? অনেকে বলতে পারে "না, বিগ ব্যাং এর আগে কোন সময় ছিল না।" কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পদার্থবিজ্ঞানীরা তাদের সাথে একমত নয়। পদার্থবিজ্ঞ্যানীদের মতে মহাবিস্ফোরণের আগে সময়ের অস্তিত্ব ছিল। বিগ ব্যাং এন্ট্রপি সৃষ্টির মাধ্যমে সেই সময়কে শুধুমাত্র গতিপ্রধান করেছে।
ধরা যাক, একটি ফুটবল। আপনি যদি এটাকে লাথি না দেন তাহলে কি সেই ফুটবলের অস্তিত্ব থাকবে না??? এটি চলমান নাকি স্থির, সেটা কোন ব্যাপার না, এটি এখনও বিদ্যমান। এন্ট্রপি থাক আর না থাক সময়ের অস্তিত্ত্ব থাকবে, ঠিক যেমন স্থানের কোনো তীর না থাকা সত্ত্বেও স্থান বিদ্যমান।

আপনি যদি আপনার স্পেস স্যুটে বাইরে থাকেন তবে উপরে এবং নীচে, বাম এবং ডানের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই, এটি একই রকম। কিন্তু এখনও জায়গা আছে. কেউ বলে না, ওহ, মহাশূন্যের অস্তিত্ব নেই কারণ এটির কোন দিকনির্দেশনা নেই। তাই এনট্রপি সময়কে একটি দিকনির্দেশ দেয়, কিন্তু এনট্রপি থাকুক বা না থাকুক সময় বিদ্যমান। এবং আমাদের মহাবিশ্বে, সময়ের এক প্রান্তে, এনট্রপি কম ছিল এবং আমরা তাকে অতীত বলতাম। এবং সময়ের অন্য প্রান্তে, এনট্রপি উচ্চ, এবং আমরা এটিকে ভবিষ্যত বলি। যে অংশটি আমরা বুঝতে পারি না তা হল কেন প্রাথমিক মহাবিশ্বের এনট্রপি কম ছিল। এটি একটি বাস্তব ধাঁধা যা আমরা আজও সংগ্রাম করছি। এনট্রপি কম ছিল এবং আমরা এটিকে অতীত বলেছিলাম। এবং সময়ের অন্য প্রান্তে, এনট্রপি উচ্চ, এবং আমরা এটিকে ভবিষ্যত বলি। যে অংশটি আমরা বুঝতে পারি না তা হল প্রাথমিক মহাবিশ্বের এনট্রপি কম ছিল কেন? পদার্থবিজ্ঞানীরা এখনো এই ধাধার সমাধান নিয়ে দিনরাত মাথা ঘামিয়ে চলেছেন।


এখন, একটু আগেই বলেছিলাম যে, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে Arrow of Time বলে কিছু নেই। যখন আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান গ্যালিলিও এবং নিউটনদের থেকে আইনস্টাইনের কাছে আসল তখন তার অবাক হয়ে আবিস্কার করল যে পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মগুলি অতীত এবং ভবিষ্যতের মধ্যে কোন পার্থক্য করে না। তারা নিজেদের সাথে এবং একে অপরেরে সাথে সম্পূর্ণরূপে প্রতিসমভাবে আচরণ করে যেন তারা একে অপরের পরিবর্তনযোগ্য। সুতরাং একজন পদার্থবিজ্ঞানীর জন্য, সময় যেভাবে কাজ করে সেভাবে কেন করে তা বোঝার জন্য আরো অনেক অনেক চেষ্টা এবং গবেষণা করতে হবে আর এই সত্যটির সাথে সামঞ্জস্য করতে হবে যে অতীত এবং ভবিষ্যতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যে পার্থক্য মৌলিক সমীকরণের কোথাও দেখা যায় না। সুতরাং, পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে, অতীত এবং ভবিষ্যতের মধ্যে কোন অন্তর্নিহিত পার্থক্য নেই। আপনি যদি সময় সম্পর্কে চিন্তা করেন সুদূর, সুদূর, সুদূর অতীত থেকে – ধরা যাক বিগ ব্যাং সবকিছুর শুরু ছিল না। ধরা যাক বিগ ব্যাং এর আগে অসীম পরিমাণ সময় ছিল, এবং বর্তমান মুহুর্তের পরে অসীম পরিমাণ সময় আছে। এটা সম্ভব যে মহাবিশ্বের এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে যেখানে তাদের অতীত এবং ভবিষ্যতের ধারণা আমাদের তুলনায় অন্যরকম। হয়তো তারা অতীত বলে যাকে আমরা ভবিষ্যত বলি এবং এবং ভবিষ্যতকে অতীত। জানি অদ্ভুদ শোনাচ্ছে কিন্তু অবিশ্বাস্য নই, কারণ পদার্থবিজ্ঞান অনুযায়ী অতীত আর ভবিস্যতের মাঝে কোন পার্থক্য নেই।


এখন, TIMETRAVEL অন্তর্ভুক্ত না করে সময় সম্পর্কে কথা বলা প্রায় অসম্ভব।
তবে আমরা আরও এগিয়ে যাওয়ার আগে, আপনাকে কিছু জিনিস বুজতে হবে। Travel in time এবং Travel through time একই কথা না। এখন আপ্নি যদি Travel in time করার চেষ্টা করেন তবে আপনি কোনভাবেই অতীতে যেতে পারবেন না, আপনি কেবল ভবিষ্যতে যেতে পারবেন। কিন্তু আপনি যদি সময়ের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ(Travel through time) করেন, তাহলে আপনি যখনই চান তখনই ভবিষ্যতে যেতে পারবেন। এটা কেমন কথা আবার?
ভিডিও প্লেয়ার ব্যবহার করে একটি উদাহরণ দিই। আমরা সবাই আমাদের মোবাইলে মুভি সিরিজ দেখি। ধরা যাক আমরা 2 ঘন্টার একটি মুভি দেখছি এবং আমরা এখন 35 মিনিটে আছি। এখন আপনি জানতে চান মুভিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে কী ঘটেছিল। ধরা যাক 1 ঘন্টা 46 মিনিট। এখন তা জানার উপায় কি?!?!? আপনি 1:46 মিনিট থেকে 35 মিনিটের মধ্যে মিনিটগুলি এড়িয়ে যেতে পারেন বা আপনি সময় দ্রুত এগিয়ে নিতে পারেন। এখন আপনি যখন গতি নিয়ন্ত্রণ করেন, আপনি কেবল এগিয়ে যেতে পারেন, ধীর হতে পারে, দ্রুত হতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র এগিয়ে. এবং আপনি কিছু মিনিটের মধ্যে 1/2 ঘন্টা দৃশ্যাবলী অনুভব করতে পারেন, তবে আপনি এক সেকেন্ডও এড়িয়ে যেতে পারবেন না। এবং আপনি পিছনে যেতে পারেন না, আপনি এখন বলতে পারেন কয় আমরা তো পারি। কিন্তু সেটা আলাদা আলাদা ভাবে, তাই না? আমাদের control পরিবর্তন করতে হয়। control পরিবর্তন না করে অথবা না থেমে সেটা এক ধরণের অসম্ভব। কিন্তু আপনি যখন শুধু সময় ক্লিক করতে পারেন, তখন আপনি যতটা চান ততটা সময় এড়িয়ে যেতে পারেন। মাঝখানের ঘটনা না জেনেই 1'45 মিনিটের মধ্যে কী ঘটবে তা আপনি জানতে পারবেন। এখানে প্রথমটি যেখানে আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না, তা হল IN TIME, এবং আমরা যেটি এড়িয়ে যেতে পারি তা হল THROUGH TIME৷

এখন সমস্যা হচ্ছে জ্ঞানের সাথে সাথে প্রশ্নের পরিমাণ ও বাড়ে।
আপনি যদি আলোর চেয়ে দ্রুত ভ্রমণ করেন, তাহলে আপনি ভবিষ্যতে চলে যাবেন। কেন সেটা হয়??? কিভাবে আমরা সময়ের মধ্যে ভ্রমণ(Travel through time) করতে পারি???
আমরা জানি কিভাবে ভবিষ্যতে যাওয়া সম্ভব কিন্তু অতীত? সেক্ষেত্রে করণিয় কি?

পরের পর্বে এইপ্রশ্ন গুলো সহ এই ধরনের আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করব। সে পর্যন্ত শুভকামনা রইল। ভাল থাকবেন।


আমার একটি ইংরেজী ব্লগ বা website আছে। সেখানে ও আমি এই পোস্টটি দিয়েছিলাম। এবং ইংরেজী তে খুব ভালই বুঝাতে পেরেছি মনে করি। কিন্তূ বাংলা ই কেন জানি আমার থেকে Mathematics এবং Quantum physics অনেক কঠিন লাগে। যাই হোক আমার ইংরেজী আর্টিকেল টা তে ও একটু ঢূ মেরে আসার আমন্ত্রণ রইল।


সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৪:২৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত ১১০ জনকে জীবিত ফিরিয়ে আনুন

লিখেছেন চাঙ্কু, ২১ শে জুলাই, ২০২৪ ভোর ৪:০৬



খুব সিম্পল একটা সামাজিক আন্দোলন - কোটা সিস্টেম সংস্কার করে একটা ফেয়ার কোটা সিস্টেম রাখা। আহামরি অন্য কোন দাবীও নাই যা সরকারের পক্ষে রাখা সম্ভব না। শিক্ষামন্ত্রী বা সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদালতের রায়ে কি সমাধান আসবে? কি হতে পারে বর্তমান অবস্থায়:

লিখেছেন সরলপাঠ, ২১ শে জুলাই, ২০২৪ সকাল ১১:৪৯

কোটা সংস্কার নিয়ে আজকের অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ মূলত সরকারের রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের ফল। গত কয়েকদিনে ২০০ এর অধিক মানুষকে হত্যার জন্যে সরকারই দায়ী। বর্তমান অবস্থায় সরকারের জন্যে সহজ কোন পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কোমলমতি "কোটা পরিবর্তনের" আন্দোলন করেনি!

লিখেছেন সোনাগাজী, ২১ শে জুলাই, ২০২৪ বিকাল ৪:৩৬



**** কোর্ট কোমলমতি ফেইসবুকারদের "মোয়া" ধরায়ে দিয়েছে: কোটার ৯৩% নয়, ১৯৩% চাকুরীও যদি কোমলমতিদের দেয়া হয়, তারপরও ৪০ লাখ শিক্ষিত বেকার থাকবে; কারণ, কোটার শতকরা হার বাড়োনো হয়েছে কোমলমতিদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে ইন্টারনেট আসার আগে, এই পোষ্টটা সরিয়ে নেবো। (সাময়িক )

লিখেছেন সোনাগাজী, ২১ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:০৯



ভোলার মানুষজনের ১টা শান্ত্বনা আছে, উনারা সামান্য পয়সা দিয়েও মাঝে মাঝে ইলিশ পেয়ে থাকেন; অনেকে বিনা পয়সায়ও পেয়ে থাকেন মাঝে মাঝে; ইহা ব্যতিত অন্য কিছু তেমন নেই; ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×