somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ক্যান্সারযোদ্ধা
ফাইটিং উইথ ক্যান্সার। আমাকে ফেসবুকে পেতে 'মহাজাগতিক ক্যান্সারযোদ্ধা' লিখে Search করুন।অথবা -> https://facebook.com/shipon.mia.3785/about?refid=17

ব্লাড ক্যান্সার(লিউকেমিয়া) নির্ণয়

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রাথমিক অবস্থায় লিউকেমিয়ার
লক্ষণ গুলো তেমন স্পষ্ট হয় না সেকারণে
অনেক রোগীই চিকিৎসা নিতে দেরি করে
ফেলেন। লিউকেমিয়া দুই ধরনের আছে এবং ধরণ
ভেদে এর লক্ষণ ও আলাদা।
ক্রনিক লিউকেমিয়ার লক্ষনঃ
১. শরীরের বাহিরে কোন স্পষ্ট লক্ষণ দেখা
যায় না। অন্য কোন রোগের পরীক্ষার জন্য
ব্যবহৃত রক্ত পরীক্ষায় রক্তের অস্বাভাবিক
পরিবর্তন বা প্লীহা বড় হয়ে গিয়েছে কিনা তা
লক্ষ্য করে লিউকেমিয়া সনাক্ত করা হয়।
২. ক্রনিক লিউকেমিয়ার সাধারন লক্ষণগুলো হল-
ক্লান্তিভাব, হালকা জ্বর, অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া
বিশেষ করে রাতের বেলায়, কারন ছাড়াই ওজন
হ্রাস, প্লীহা বড় হয়ে যাওয়ার কারণে খাওয়ার
পরপরই পেটের উপরিভাগ ফুলে যাওয়া।
৩. ক্রনিক লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগীর
গায়ের রঙ বিবর্ণ হয়ে যায়, ঠোট ফ্যাকাশে হয়ে
যায়, এর খুব সাধারন একটি লক্ষণ হল প্লীহা বড়
হয়ে যায় এবং নাভি সমতল হয়ে যায়, বুকের নিম্নাংশ
স্পর্শকাতর হয়ে যায়, ক্যান্সার পরিণত পর্যায়ে
চলে গেলে চামড়ার নিচে ছোট ছোট লাল
তিলের মত দেখা যায়, চোখের চারপাশ ও মাথার
তালু ফুলে যায় কিন্তু কোন ব্যথা থাকেনা।
অ্যাকিউট লিউকেমিয়ার লক্ষণঃ
১.অ্যানিমিয়াঃ অস্থিমজ্জায় অস্বাভাবিক পরিবর্তনের
ফলে লোহিত রক্ত কণিকা এবং হিমোগ্লোবিন এর
পরিমাণ কমে যাওয়ায় রক্ত শূন্যতা দেখা যায় এবং
অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এই রক্তশূন্যতা
প্রকট আকার ধারন করে।
২. জ্বরঃ লিউকেমিয়ার কারণে জ্বর হয় এবং রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন
রকম ইনফেকশন দেখা দেয়।
৩. রক্তপাতঃ নাক ও দাতের মাড়ি এবং শরীরের
অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ থেকে রক্ত ক্ষরণ
হয়। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের কারণে কোমা
হতে পারে এমনকি রোগী মৃত্যুবরণও করতে
পারেন।
৪. হজমে অসুবিধাঃ কেমোথেরাপি এবং
রেডিওথেরাপির প্রতিক্রিয়া হিসেবে হজমে অসুবিধা
হতে পারে।
৫. হাইপারইউরিসেমিয়াঃ কেমোথেরাপি এবং
রেডিওথেরাপির প্রতিক্রিয়া হিসেবে এটি হয়ে
থাকে। এছাড়াও অলিগুরিয়া এবং অ্যানুরিয়া অর্থাৎ প্রসাব
কম হতে পারে বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে
ফলে কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে।
শিশুদের ক্ষেত্রে যেসব লক্ষণ দেখা যায়ঃ
শরীরের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, ক্লান্তি ভাব,
ক্ষুধামান্দ্য ও খাবারে অরুচি,নাক বা মাড়ি দিয়ে
রক্তক্ষরণ, কারো কারো ক্ষেত্রে জ্বর এর
সাথে শরীর ব্যথা এবং বাত জ্বর বা রিমোটিক ফিভার
হয়ে থাকে।
১. অ্যানিমিয়াঃ শুরুর দিক থেকেই অ্যানিমিয়া দেখা যায়
এবং ধীরে ধীরে তা প্রকট হতে থাকে।
অ্যানিমিয়া বা রক্ত শূন্যতার লক্ষণ হল রঙ ফ্যাকাশে
হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, ঘনঘন শ্বাস নেওয়া এবং
হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া।
২.জ্বরঃ অনিয়মিত ভাবে জ্বর আসা, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর
আসা। এই জ্বরের তাপমাত্রা কম থাকে এবং
অ্যান্টিবায়োটিক ও কোন কাজ করে না। তবে
সেকেন্ডারি ইনফেকশন (শ্বাসনালী,মুত্রনালী
ইত্যাদির ইনফেকশন) হলে জ্বরের তাপমাত্রা
অনেক বেশী হয়।
৩.রক্তপাতঃ রক্তপাতের প্রধান কারন হল শ্বেত
কনিকা বেড়ে যাওয়ার কারণে অস্থিমজ্জার যে
সেলটি রক্তের অনুচক্রিকা সৃষ্টি করে তা বাধার
সম্মুখীন হয়। দ্বিতীয়ত, লিভারের অক্ষমতার
কারণে ফিব্রিনোজেন, থ্রম্বিনোজেন এবং
আসেলেরিন পর্যাপ্ত পরিমানে উৎপন্ন হয় না।
তৃতীয়ত, কৈশিকনালীর পরিব্যপ্তিতা বেড়ে যায়।
বেশিরভাগ রক্তপাতই চামড়ার ভেতরে শ্লৈষ্মিক
ঝিল্লীতে হয় এর ফলে চামড়ায় ছোট ছোট
লাল বা বেগুনী রঙের দাগ দেখা যায়, নাক ও মাড়ি
দিয়ে রক্তপাত হয়,পাকস্থলী বা অন্ত্রে
রক্তক্ষরণ হয়, প্রসাবের সাথে রক্ত যায়।
অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং
এর ফলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
তথ্যসূত্র- ডাক্তার এম এ খান লিখিত 'ক্যান্সারকে জানুন, নিশ্চিন্ত বাঁচুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:৩০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×