আমি স্কুল লাইফে অনেক মন দিয়ে ধর্মকর্ম করতাম। এমনও হয়েছে যে রোজা রাখতে পারছি না তাও হাতে একটা বই/তজবী নিয়ে বসে থাকতাম। তালিমে যেতাম। রোজা রাখি আর না রাখি অন্ততপক্ষে নামায পড়তাম। শবেবরাত আর শবেকদরের রাতে বড়দের একজন বলতো শুনতাম… তোমাদের দাদা, দাদী, নানাজী সবাই তোমাদেরকে দেখতে আসবে এই দিন তোমরা নামাজ পড়ে দোয়া করছো কিনা! যদি দেখে দোয়া করছো না তখন তাঁরা অনেক কষ্ট পাবেন।
এটা মনে করেই আমার ভীষণ ইমপর্টেন্ট রাত মনে হতো। সন্ধ্যায় গোসল করে নামাজ পড়লে নাকি অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। সেটাও করতাম। শুনতাম ঐ দুই রাতে আল্লাহ্র কাছে নাকি যা চাওয়া হবে তা-ই পাওয়া যাবে। ছোটবেলায় তো চাওয়ার তেমন কিছুই ছিল না। বড় হয়েই অনেককিছু চাই। তবে এই পর্যন্ত চাওয়া না পাওয়ার মাঝে অনেককিছুই পেয়েছি আবার অনেককিছুই পাইনি। কিন্তু বড় হয়ে যে আমার কী হয়ে গেল! আমার এখন একদমই মন লাগে না। এমন না যে আমি এসবের তাৎপর্য জানিনা। আগেই বরং জানতাম না। বড়রা যা বলতো সেটাই করতাম।
আজ চারদিন রোজা। এর মধ্যে একদিন সেহেরি খেয়েছি, আর বাকী তিনদিন সেহেরি না খেয়েই রোজা। না খেলে রোজা হয় সেই হিসেবে যেন দায়সারাভাবে রোজা রাখছি এমনটা মনে হচ্ছে। রোজা রাখা হচ্ছে ঠিকই কিন্তু নামায পড়া হচ্ছিল না। আজ থেকে জোর করে সেটা করছি।
আজকাল বিভিন্ন কারণে মনেহয় আমার নিজের উপর আমি গত ৪ বছর ধরে একদমই নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছি না। যা বলি, তা করিনা। যা বলি করবো না, তাই করে বসে থাকি। যেটা জানি খারাপ, সেটা থেকে দূরে সরে মনে হতে থাকে ব্যাপারটা কী ঠিক হলো?
আগে কখনো নিজেকে চারিত্রিকভাবে দুর্বল মনে হয়নি। কিন্তু আজকাল মনেহয়। অথচ কেউ আমাকে দেখলে বলবে না আমি কতটা খারাপ!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





