somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন গদ্য-২

০৯ ই মে, ২০১৬ বিকাল ৩:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মায়ায় জড়িয়ে আছি
দুচোখে স্বপ্ন লাগায় ঘোর :)

জীবনের প্রতিটা মুহুর্তই যেন অপরূপ মোহমায়ায় আবৃত্ত। ভোরের কুয়াশা, শিশির, ধূলিওড়া পথ, মানুষের আনাগোনা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখি।গাছের পাতাগুলি শীত বাতাসে এলোমেলো দুলছে আহ কি মায়া মায়া দোলানু পাতারা। এত মায়া জড়িয়ে আছে সৃষ্টির প্রতিটা জিনিসে। এ মায়া এ মহব্বতের শেষ নেই যেনো।

দু'চোখে ঘোর লেগে থাকে সারা দিনরাত। মোহগুলো হানা দেয় মনের দুয়ারে। মোহের টানে মায়ার টানে মনের বন্ধ দুয়ার খুলতেই হয়। আবারো মায়ার জালে আবদ্ধ।

জায়গা বদল করতে যাচ্ছি। যতই দিন ঘনাচ্ছে, কলিজা চিপ দিচ্ছে প্রতি মুহুর্তেই। দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে সব কিছুতেই নজর বুলাই, ঘুরে ফিরে পুরাতন সব দেখি।

এত মায়া জড়িয়ে আছে দূর্বাঘাসে, ডাস্টবিনে বসা কাকেদের সভায়, জানালার পাশের পেয়ারা গাছটায়, রান্নাঘরের জানালায় বসে থাকা জোড়া শালিক, লাফিয়ে চলা দোয়েল, ফুরুত ফুরুত চড়ুইয়ের দল, ঐ যে গর্তে লুকিয়ে আছে বেজিটা সেটাতেও। পাশের স্কুল থেকে ভেসে আসা প্রভাতের এসেম্বলি, কোরআন তেলাওয়াতের সুর, মিষ্টি সুরের জাতীয় সঙ্গিত আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি। আহ, আমার সুপার গ্লুকে নিয়ে প্রতি সকালে স্কুল রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা, প্রতিটি মুহুর্তই অসম্ভব মায়ায় জড়ানো প্রহর। সে মোহ কি আর কাটতে চাচ্ছে, সহজও নয়।

ছাতিমের গাছটায় থোকা থোকা দুধ সাদা ফুল ঘ্রাণে মাতাল হবো না আর, কদমের নিচে দাঁড়ায়ে অপেক্ষার প্রহর গোনব না একটি ফুল পাওয়ার আশায়, আশায় হবে গুঁড়েবালি।

রাস্তার পাশের হাজার বকুল গাছের তলায় ছড়ানো ফুল আর থোকানো হবে না, মালাও আর গাঁথা হবে না :( ...

ঘ্রাণগুলো হারিয়ে যাবে অজান্তে। শিউলী, বেলী, হাস্নাহেনা, সন্ধ্যামালতির ভীড়ে নিজেকে আর হারাতে পারব না, শাটারে ক্লিকও পড়বে না মুহুর্মুহু :) সবই তো মায়া, মোহ, ক্ষনিকের মহব্বত :(

সুখের প্রহরগুলোতে প্রিয় আবাসের কোণায় কোণায় কত স্মৃতিরা ঘোরপাক খাচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। বইয়ের স্তুপ, বাচ্চাদের ভাঙ্গা হাজার খেলনা, বস্তাভর্তি পুরাতন কাপড় জমে জমে ঘর ভরে আছে। প্লাস্টিকের তৈজস, বোতল, অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বস্তাবন্দি পড়ে আছে। এগুলো ফেলতে গিয়েও ফেলা হয়নি, শুধু একটা কারণই, সে হল মায়া।

ক্লাসে প্রমোশন পেয়ে পেয়ে বাচ্চারা উপরের ক্লাসে উঠেছে অথচ স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে ছেঁড়া বই, খাতা, ড্রয়িং খাতা।

এসব অপ্রয়োজনীয় জিনিস ত আর সঙ্গে নেয়া যাবে না পোটলায় করে। ফেলতে হবে অথবা ভাঙ্গারী ওয়ালাকে বেছে দিতে হবে। বইয়ের স্তুপ ঘেটে ঘেটে তবুও কিছু জিনিস ফেলতে পারছি না। তৃষ্ণায় বুক ফেটে যায়। বাচ্চাদের ছোটবেলার ড্রয়িং, মাকে দেয়া আর্ট করা উপহার, হ্যাণ্ড রাইটিং খাতা, যে বই পড়ে পড়তে শিখেছিল সে বইগুলো কোনভাবেই বাতিলের দিকে নিয়ে যেতে পারছি না, পারিই নাই :(
। উফ এগুলোতে স্পর্শ করলেই ভালবাসা লাগে, ভাল লাগে। গন্ধ পাই মোহমায়ার।

অথচ সবই ক্ষণস্থায়ী। সব ছেড়েছুঁড়ে এমনিতেই দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। তবুও ভিতরের মায়ার ভালবাসার কমতি নেই। ভালবাসি মহান আআল্লাহ ততা আআলার সৃষ্টির সব। সবকিছুই আমার আপন, আমার মহব্বত।আমরণ বেঁচে থাকতে চাই এমন মায়া নিয়ে এমন ঘোরেও কেটে যাক প্রহর।

এসবই তো মোহমায়া... তাইনা??? আপনারাও কি এমন মায়ার জালে আবদ্ধ? থাকতে চান? জড়িয়ে!!মায়ায় জড়িয়ে আছি
.. তাইনা??? আপনারাও কি এমন মায়ার জালে আবদ্ধ? থাকতে চান? জড়িয়ে!!
===================
জানুয়ারী ১৬, ২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৬ বিকাল ৩:১৮
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডানপন্থীদের তোয়াজ বা মক্কা প্যাক্টে ঢোকার আগ্রহ দ্রুতই বুমেরাং হতে পারে বিএনপি সরকারের জন্য

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৮



জামাত-এনসিপিকে 'বিরোধী দল হিসেবে' হাতে রাখতে বা আওয়ামী লীগের ফিরে আসাকে ঠেকাতে জামাত-এনসিপি বা এদের মতো ডা*নপন্থীদের দাবি-দাওয়াকে খুব বেশি প্রাধান্য দিলে সেটা বুমেরাং হয়ে দেখা দেবে বিএনপি সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কাহ চুক্তি কি ?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯



মক্কাহ চুক্তি লেখা হয়েছে আরবি ভাষায়। বাংলাদেশের পত্র পত্রিকা - পূর্ণাঙ্গ “মক্কাহ চুক্তি” বাংলা অনুবাদ করে প্রকাশ করছে না কেনো ? দেশের মানুষ কিভাবে জানবে এই চুক্তিতে কি লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

ইংরেজি প্রবাদ “Out of the frying pan into the fire”- অর্থাৎ এক বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে আরও বড় বিপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫৩



চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

উনি আমাদের ভবেরচর পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়টা শুধু পোস্ট অফিসের প্রয়োজনের কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিনের এক আন্তরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীরব আত্মপক্ষ।

লিখেছেন রাজা সরকার, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

নীরব আত্মপক্ষ।

স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের মাসুল বাঙালি হিন্দুকে গুণে গুণে দিতে হয়েছিল ব্রিটিশকে । বাকিটা মুসলিম লীগ ও নেহেরুইয়ান কংগ্রেস মিলে যা করার করে গেছে। এবং পরবর্তীকাল থেকে মুসলিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×