somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিনি উপন্যাস-৮ (অপেক্ষায় রোদ্দুর)

২৯ শে আগস্ট, ২০১৬ সকাল ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
#তুই_তুই_তুই



ভুলে গেছি ভাবলে কিন্তু তোমার ভুল হবে। খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। সাত সমদ্দুর তের নদী পেরিয়ে আমরা দুটি পাখি উড়াল দিতে দিতে এসেছি তোমার নগরীতে। সে নগরী একদা আমারও ছিল। দেখ দেখ আমার ডানা দুটো কতটা অসহায় এখন... উড়তে গিয়েও চুপষে যাচ্ছি, চলতে গেলে খসে পড়ছে নরম পালক।

এতোটা পথ পাড়ি দিতে দিতে ক্লান্ত আমি। কখনো শুভ্র মেঘের ডানায় চড়ে বসেছি কখনো কালো মেঘেরা ঝাপটে ধরেছে ভয়ংকর হাতে। যখন মেঘে মেঘে ভেসে ভেসে আসছিলাম তখন তুমি রোদ্দুর তীক্ষ্ম হয়ে মাথার উপর ঘুরে বেড়াচ্ছিলে। তোমার তীক্ষ্ণ রোদ্দুরের আঁচ এসে আমার মনে লাগছিল, ঘামিয়ে দিচ্ছিলে ক্ষণে ক্ষনে আমায়। অথচ দেখ কারবার আমার সাথের পাখিটি সে খবর জানতেই পারেনি..

রোদ্দুর তুমি আমার আকাশে রঙধনু হয়ে জ্বলে থাক আর আমি তোমার রঙ হতে রঙ চুরি করে আমার মন সাজাই... আর হ্যাঁ আমি যখন অতিথি পাখি হয়ে তোমার মনের দেশে উড়াল দিয়ে আসতেছিলাম তখনো তুমি আমার আকাশের রঙধনু হয়েছিলে। আমি জানতাম তুমি আমাকে পাহারা দিতেই এতটা রঙ নিয়ে আমাকে ছুঁয়ে ছুঁয়েছিলে। উড়াল দেয়ার সকল কষ্ট নিমেষেই ভুলে গিয়েছি তখন। হয়তো তখন যোগাযোগের মাধ্যমই ছিল রঙধনুর সাতটি রঙের খেলার তারে তারে।

আমি বিভোর হয়েছি যখন তোমার রঙ চুয়ে চুয়ে পড়ছিল আমার শুভ্র পালকে। চেয়ে দেখ পালকগুলো তোমার ভালবাসায় গোলাপী রঙে ছেয়ে গেছে।

যখন মিশনের শেষ হুইশেল বাজছিল পৌঁছে যাওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়, নির্ভরতায় তুমি তখনো পাশে ছিলে... মুঠোফোনের বার্তায় কূজন সুরে পাঠিয়েছিলাম তোমার মনের কাছে আমার পৌঁছানোর বার্তা। সেটা তুমিও জান, আমিও মানি এই যাত্রায় হবে না দেখা তোমার সাথে।

সাথি পাখিটিকে নিয়ে ঘরে ফেরার যাত্রায় ছিলাম তখন উন্মুখ... তবুও শেষবার তোমায় জানিয়েছিলাম আমার ভালবাসার কথা। ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি বলে দুনিয়া কাঁপানো চিৎকার দিয়ে বলেছিলে ভালবাসি মধু তোকে ভালবাসি।

সেইতো এসেই ব্যস্ততার ট্রেনে চড়ে বসলাম। আমি যতই সময়ের নিকট খানিকটা সময় চেয়ে চেয়ে মাথা লুটাই ঠিক তখনই ব্যস্ততা আমাকে টেনে ধরে রাখে.... ছাই দিয়ে এমনভাবে ব্যস্ততা ধরে রাখে তার থেকে ছুটে যাওয়ার কোনো পথই পাই না খুঁজে। আর যে পাখিটি আমার সাথী হয়ে এসেছে সেই পাখিটি আরেকটি ব্যস্ততার নাম, সে যেখানে উড়াল দিচ্ছে আমাকে শক্ত মুঠোয় ধরে টেনে হিঁচড়ে সেখানেই নিয়ে যাচ্ছে... রোদ্দুর তুমিই বলো আমার আর কি করার আছে। এইবেলা না হয় আমাকে ক্ষমা করে দাও... আমি মেঘ হয়েই ভাসতে থাকি আকাশ থেকে আকাশে। সময় ফুরিয়ে আসছে আমাকে আবার উড়াল দিতে হবে সব প্রিয়দের ছেড়েছুঁড়ে। তুমিই বল রোদ্দুর কতটা কষ্ট এই ছোট বুক জুড়ে। এই কষ্ট শুধু আমার সকালের সোনার রোদ্দুরই অনুভব করতে পারে। যাক, অনেক অযাচিত কথাই বলা হয়ে গেলো.. অপেক্ষায় থাক আমি আসছি.... তোমাকে নরম পালকের স্পর্শ দিতে।
------------------------
-জানি তো মেঘ । তবুও মন মানে না। মন তো চায় তুমি মাঝে মাঝে আমার খবর নাও... উড়ো চিঠি পাঠাও ঘুড়ির সাথে বেঁধে। অপেক্ষার প্রহরের তো হয় না শেষ... আচ্ছা ব্যস্ততা কাটিয়ে উঠো সহসা... অনন্তকাল অপেক্ষায় রোদ্দুর।


সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৬ সকাল ১১:৫৭
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোঁজা সম্প্রদায়

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×