somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ছবি অনেক কথা (মোবা্ইলগ্রাফী)-হারিয়ে_যাও_ছেলে_আজ_শুধু_তোমার_দিন (জীবন গদ্য)

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


©কাজী ফাতেমা ছবি
#হারিয়ে_যাও_ছেলে_আজ_শুধু_তোমার_দিন (জীবন গদ্য)
তুমি তো ভোর দেখ নাই! ঘুমে বিভোর, স্বপ্নমগ্ন প্রহরে।এনার্জির আলো নিভিয়ে - তোমার স্বপ্ন নীড়ের খিড়কি, দেউড়ি চাপিয়ে দিয়েছিলে সন্তর্পণে..আর জানালার আচ্ছাদন টেনে...আঁধার করেছিলে ঘর যাতে ভোরের আলোয় চোখ না পুড়ায়! রাত জেগেছিলে...? নিকোটিনে ঠোঁট ছুঁয়েছিলে? নাকি চাঁদের সাথে পেতেছিলে মিতালী... কি কারণে রাত জেগেছিলে সে আমার মন জানে না... তুমি ঘুমিয়েছিলে কাক ডাকা ভোরে... তুমি হারিয়েছ কিছু মুগ্ধ প্রহর।

আমি তোমার জন্য মুগ্ধতা ধরে এনেছি। হাতের মুঠোয় এনেছি দেখ কিছু স্নিগ্ধতা কুঁড়িয়ে। তোমায় মাতাল করার ইচ্ছে আজ... না, সে আমার প্রেমে নয় গো! সে পরে বলছি। এই তুমি কি শরত চিনো? আচ্ছা, আকাশ জানো? দূর্বাঘাস দেখেছো? কিংবা মেঠোপথ? হেঁটেছো আনমনে কভু ছায়াঘেরা সারি সারি সাজানো বৃক্ষের ছায়াতলে? তুমি পুকুর দেখছো, শান বাঁধানো ঘাট... পুকুরের স্বচ্ছ জলে পা ডুবিয়ে কিছুক্ষণ কাটিয়েছিলে নিজের মত? গুনগুনিয়ে গেয়ে উঠেছিলে কখনো...

আমার আজ হারিয়ে যাওয়ার দিন...
আমি হারাবো গো হারাবো আজ...
উড়ব ডানা মেলা পাখি হয়ে ঐ আকাশের নীলে..
আমি হারাবো গো আজ হারাবোই...
তোরা করিসনে মানা,
মানি নে শাসন বারণ...
প্রজাপতি হব ফুলের পাপড়ি ছুঁয়ে ছুঁয়ে
আমি হারাবো গো হারাবই...
জলের গালিচায় পা ফেলে ফেলে...
জলের আয়নায়...
দেখব ফেলে দৃষ্টি..
ঐ আকাশ নীলের ছবি
আমি হারাব গো হারাব আজ..
আজ তবে আমার দিন...
আমার করে নিব আজ সব মনোহারী মনে
সফেদ বকের সারিতে...সবুজের পিঁড়িতে
সন্তর্পণে বসে আমি হারাব গো আজ হারাব!
তোরা আজ খুঁজিসনে আমায়
থেকো নে অপেক্ষায় পথো চেয়ে মোর
আজ শুধু আমার দিন
এ লগনো শুধু হারাবার..
আজ আমি হারাবো গো হারাবোই।।

আচ্ছা বলতো? তুমি কি এখন ওড়ছো? হ্যাঁ ওড়ছোই ওড়ছো.. দেখো মুহুর্তেই আমি তোমাকে দিয়ে দিলাম তোমার করে কিছুটা পল... তুমি হারাতে শিখ ছেলে, হারাতে শিখ!

এই শরতের মধ্য দুপুরে তেজোদীপ্ত রোদ্দুর আপন করে নিয়ে হারাও... রোদ্দুরে জ্বলে পুড়ে ছাই হলেই বা, মন থেকে ঝেড়ে ফেলো ক্লান্তি, গ্লানি, বিষাদ ব্যথা। মনে রেখ আজ শুধু তোমার দিন... চুলে জেল দিয়ো না, সেম্পু করা চুলও আঁচড়াবে না... আঙ্গুলের আলতো ছোঁয়ায় বিলি কেটেই চুল আঁচড়াও হুম.. হুম এবার শার্টের একটা বোতাম খুলে বক্ষ উন্মোচন করে বেরিয়ে পড়... আবার বলছি আজ শুধু তোমার দিন... এ লগনো শুধু হারাবার... নগ্ন পায়ে ইট সুড়কির পথ পেরিয়ে খুঁজো ভেজা মাটির সবুজ মেঠোপথ কিংবা দূর্বাঘাসের নরম গালিচা পথ.. মন স্থির করে করে নিঃশ্বাস টানো, শুদ্ধ অক্সিজেনে বক্ষটা ফুলিয়ে একটু হাস.. মুগ্ধতা আনো চোখে, তুমি আজ এই পথে রাজা-- বাঁধনহীন - নাটাইবিহিন রঙধনু রঙ ঘুড়ি... কি হুম... এই ছেলে কেমন ফিল করছো, ভাল লাগছে... মনের ভিতর সুরের অনুরণন বাজছে? কি! কিছু অনুভব করতে পারছো... ঘাস কিংবা গাছের ছায়ায় জানু পেতে বসে পড়... ধ্যত্তেরি ভাবছ ধুলো বালিতে বসবে কি করে, ধ্যত এসব ভাবছ কেনো? জানো না অমোঘ সত্য... মাটির দেহখানি সেই মাটিতে মিশে যাবে... মিছে এই দুনিয়াধারী... কি ধুনোমুনা মন থেকে দ্বিধা ঝেড়ে ফেললে তো হা হা হা এবার বসে নিঃশ্বাস টানো আর সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতায় মন বাড়িয়ে প্রার্থনায় কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে নিরবতায় কাটাও... কেমন লাগছে? খুব ঝরঝরে লাগছে তাই না?

এবার দাঁড়াও দু বাহু মেলে ধরো পাখির ডানার মতো, উর্ধ্বমুখি হয়ে আকাশে দেখো, নীলে দৃষ্টি নিবন্ধ করে দেখো শরতের পেজাতুলো মেঘমালা, তুমি ভেলায় চড়ে বসো ছেলে... ভেসে বেড়াও... ফের বলছি আজ শুধু তোমার দিন, এ লগনো শুধু হারাবার.... এখন কেমন ফিল করছো.. আজ না হয় এইটুকুই হারালে... আবার কিভাবে হারাতে হত সে আমি বলে দিব.. আর হারালে তোমাকে না পেয়ে আমি বিরহে পুড়ব সে কি করব হয় দুষ্টু হা হা হা... এবার ফিরতি পথে বুকে এক সাগর শান্তি নিয়ে এসো হেঁটে আনমনে.. আমার কথা ভেবে ভেবে...

তুমি এসে দেখবে আরো কত মুগ্ধতা তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। সেই ভোরে তোমার জন্য কুঁড়িয়ে এনেছিলাম শরতের শিউলী... হাতের মুঠোয় নিয়ে অপেক্ষায় কাটিয়ে দিয়েছি কয়েকটা প্রহর.. তোমায় দিব বলে শিউলীর ঘ্রানের মাদকতায় মিশিয়ে রেখেছি মুগ্ধতার প্রেম... না না তুমি আমার প্রেমের মাতাল হয়ো না... শিউলীর ঘ্রাণে মাতাল হয়ে কাটিয়ে দাও দৃষ্টিতে দৃষ্টি রেখে... ফের বলি আমার প্রেমে নয়, শিউলীর ঘ্রাণে মাতাল হও, বাকিটা তোমার বিবেচনা! কি ছেলে কেমন লাগল হারিয়ে যাওয়ার এডভেঞ্চার?? হু!!

এখন বলো কি গিফট দিবা ;)

(আর তোমরা, পোলাপান হারাইতে হেল্প করছি.. এলা গিফট দেও.. রোদ্দুরের ঠিকানায়....)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:৪১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×