১।
©কাজী ফাতেমা ছবি
#ইশারাই_কাফি_হে_ছেলে
মুখের আমার প্রেমের তালা-ইশারাতে বুইঝা লও
ভালবাসি কানে কানে-কইতে কইয়ো না কও কও
চোখের তারায় লেখা আছে-পারো যদি পইড়া লও
মুখে তুলে ফেনার ঊর্মি-প্যাঁনপ্যানানি দূরে থও।
তাকাও দেখি চোখে চোখে-বুঝো কিছু বুইঝা লও
কানে কানে কইতে পারো- ওগো আমার সোনা বউ।
মরছ তুমি মরছ প্রেমে-চুলের ভাঁজে মুখ গুঁজে
চোখ দেইখাও বুঝো নাকো-মন যে শুধু তোমায় খুঁজে।
অধর ছুঁয়ে প্রেম ফুয়ারা-প্রেম নিবেদন ইশারায়
মুগ্ধতাতে অবশেষে-তোমার তরেই মন হারায়।
২।
বন্ধ করলাম আঁখি আমার-এই-বলোনা আজ কি দিবা?
যা কিছুই দাও না কেনো-ছড়ায় যেনো মনে বিভা?
খুললে আঁখি চমকে যাবো-এমন কিছু দিবা নাকি
না অযথাই তুমি আমায়-আচম্বিতে দিবা ফাঁকি?
হীরা মানিক মনিমুক্তা-দামী কিছু চাই না আমি
গাড়ী বাড়ি টাকা পয়সা-চাই না হতে নামি দামী।
তুমি আমায় চমকে দাওনা-হাতে নিয়ে ফুলের তোড়া
আঁখি খুলে অবাক আমি-বুঝতে যদিও হবে থোড়া
অবাক আঁখি তোমার আঁখি-মিলেমিশে ভালবাসা
এমন করেই হয়ো তুমি-আমার মনে স্বপ্নের চাষা।
মুগ্ধ হয়ে দেখবো তোমায়-তুমি দেখবে মুগ্ধ আমায়
দুজনেরই মনটা যেনো-একই পথে গিয়ে থামায়।
৩।
অপেক্ষাতে থেকে থেকে-নিদ্রা এলো চোখে
বন্ধু আমার জেগে থাকার- দে-না মন্ত্র ফুঁকে
বলেছিলি আসবি হেথায়-বসে ঘুমে ঢুলি
আসলি নাতো সময়মতো-মিছে মুখের বুলি।
কাজল দিয়ে সাজিয়েছি-হরিণ কালো চোখ যে
চোখ নদীতে ডুববি বন্ধু-দেখবি কত সুখ যে।
শেম্পু দিয়ে উড়িয়েছি-দেখ-না এসে চুল যে
চুলের ঢেউয়ে হারিয়ে তুই-গুঁজে দিস্ এক ফুল যে।
আলুথালু প্রহর আমার-ঘুমের রাজ্যে হারাই
ফাঁকা বেঞ্চে বসে বন্ধু-নিদ্রাতে মন বাড়াই।
চোখের আমার ঘুমের রাজা-বসে দিচ্ছে চুম যে
চোখের পাতায় স্বপ্ন এসে-বাজনা বাজায় ঝুম যে।
ভাঙ্গিয়ে দিস রাজ্যের নিদ্রা -বেলী ফুলের স্পর্শে
পাশে এসে দাঁড়ালেই তুই-জীবন কাটবে হর্ষে
৪।
কি শুনাইলা কানে কানে-লজ্জা বুঝি লাগে না
ছুঁয়ে দিতে হাতটি তোমার-ইচ্ছে বুঝি জাগে না।
চুপিচুপি নয়কো কিন্তু-হালকাভাব চাপিয়ে
ভালবাসি বলো জোরে-নীল আকাশ কাঁপিয়ে।
ইশ্ এসো না কাছে তুমি-ভয়ে কাঁপি থরথর
স্ট্যাচো হয়ে দাঁড়াও দূরে-করো নাকো নড়চড়।
চোখে তুমি চোখ রেখোনা-প্রেমানলে পুড়বে
মুগ্ধ হাওয়া ঘোর লাগানো-মাথা দোলে ঘুরবে।
এই দেখোনা তাকাও এদিক-চোখের আয়নায় তুমি
ভাসছ ডুবছ প্রেমের জলে-মুগ্ধ মনের ভূমি।
তোমার মনের উর্বর জমি-প্রেমের হবো চাষী
বলবো তোমায় বলব জোরে-বলব ভালবাসি।
কিগো তোমার লাগছে কেমন-লজ্জা পাইছো নাকি?
ধরছি হাতে এই খপ করে - কি? দিবে আর ফাঁকি?
হাহাহাহাহাহাহাহাহাহা রইলো কি কিছু আর বাকি?
৫।
এইতো এবার ঠিক আছে সব- চলো এবার হারাই
অজানার উদ্দেশ্যে তবে-অগ্রে পা'টা বাড়াই
যাবে কোথায় ঠিক করেছো?নাকি বনের ভিড়ে
গোলপাতার এক ছাউনি হবে-মোদের ছোট্ট নীড়ে?
কিগো-এমন করে তাকিয়ে যে-দাও না দেখি উত্তর
গুছাবো কি থাকা খাওয়ার-সব বিছানা পত্তর?
আরে বাবা চোখটি নামাও-দেখছো কিগো এমন
চোখের মাঝে চোখটি, ওমা! -লাগে জানি কেমন!
আমায় বুঝি দেখো নিকো-হা করে তাকিয়ে আছো
কি খুঁজছো গো চোখনদীতে-কি-বা এমন যাচো?
বুঝি নে বাপু কি করছো-লজ্জায় যে যাই মরি
বোঁচা নাকের শ্যামলা মেয়ে-নইকো আমি পরী।
উফ্ বাঁচালে চোখ নামালে-বলো আমায় চুপি
বনের নীড়ে আমরা দু'জন-আলো দিবে কুপি?
আলোর মশাল জ্বালিয়ে গো-রাখবো নীড়ের চারপাশ
বাঘ-ভাল্লুকের ভয়ে তবে-করব নেকো হাঁসফাঁস।
নীড়ের পাশে ছোট্ট নদী-কলকলাবে জলে
তোমার বুখে মুখ লুকাবো-নিঝুম ভয়ের ছলে।
প্লান'টা কেমন হলো শুনি-রাজী থাকলে বলো
দেরী নয়কো আর এখানে-আমার সাথে চলো।
কল্পনাতে নাও ভাসিয়ে-জীবনটা কি চলে
শুনলে কথা তোমার এমন-পিত্তি রাগে জ্বলে।
বনের ভিতর বাঘের আড্ডা-আমরা হবো খাদ্য
হায়েনারা মাংস খেয়ে-বাজাবে সুখ বাদ্য।
মরতে কেনো চাও বলোতো-অল্প জীবন নিয়ে
ও মেয়ে শুনছো কি তুমি-মন নিলে ছিনিয়ে.....
তোমার মাঝে মনটা আমার-শুনতে ইচ্ছে কথা
এমন কথা বললে তুমি-মনে পেলাম ব্যথা।
এখানটাতে গড়ে নেই না-ছোট্ট একটা বাড়ি
লোকালয়টা ছেড়ে বনে-না দেই তবে পাড়ি?
ধরো দেখি হাতটা আমার-হাঁটি দূর বহুদূর
বিকেলের এই মিষ্টি আবেশ-আহা মিষ্টি রোদ্দুর
গোধূলীয়ায় আলো ধরে-হাঁটব চোখ যায় যদ্দুর
হাসি কান্নায় জীবনটা হোক-এই যে মেঘ এই রোদ্দুর।
(ছন্দপতন ধরিয়ে দিলে খুশি হইতাম
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



