
হাঁটার উপকারিতা সম্পর্কে জানেনই তো সবাই। আমাদের শহরবাসীর কেমন জীবন যাপন সবাই অনুভব করতে পারেন । সারাদিন অফিস, বাসা সংসার বাচ্চা, বাচ্চাদের স্কুল পড়াশুনা এতটুকুনই আমাদের পেরেশানি ব্যস্ততার মাঝে আটকে থাকি। অথচ কেউই নিজের জন্য, নিজের কথা ভাবি না। আমাদের যেমন খাওয়া দাওয়ায় নেই কোনো বাঁধা বিপত্তি, যা মন চায় তা-ই খেয়ে ফেলি। যতটা স্বাস্থ্য সচেতনতার সম্পর্কে জানি ততটা নিজেদের বেলায় পালন করি না।
যেমন ধরেন বাইরে বের হলাম, রাস্তায় মুখরোচক খাবার, দেখলেই মন চায় এবং বন্ধুরা বা পরিবারের সবাই মিলে ইচ্ছেমতন ভাজাপুড়া বার্গার ফুসকা কিংবা চটপটি গপাগপ গলধকরণ করি( আ আল্লাহ আমাদের জিহবা দিয়েছেন, সে জিহবায় রুচির অভাব নাই মাশাআল্লাহ। আর আমাদের মনটাই ভাজাপুড়ার দিকে বেশী যায়। আমি বাইরে গেলে এসব মানে মানুষ দেখি। কে কী করে , কে কী খায়, মানুষের মুখের অভিব্যক্তিও দেখি।
যা দেখলাম, ইয়া মোটা মোটা ভাই আপারা প্লেট ভর্তি নুডুলস অথবা বার্গার হাতে খেতে দেখি। উনারা আরও অনেক কিছু খেয়ে সাবাড় করে দেন। এতটুকুন চিন্তা বা অশান্তির ওদের মুখের উপরে দেখি না। তাই বুঝি ঢাকা শহরের রাস্তা ঘাট ফুটপাত, অলিগলিতে এসব ভাজাপুড়া মুখরোচক খাবারের অভাব নেই।
আপনারাও দেখে থাকবেন, বার্গারের ভ্যান গাড়িগুলো, রাতের বেলা যখন হাঁটতে যাই তখন দেখি, বাস কাউন্টার এর এখানে কয়েকটা দোকান, ওরে বাপস, ছেলে আর মেয়েরা যে কী খাওন টা দেয়। একটুও চিন্তা ছাড়া খাওয়া দাওয়া। অথচ দেহ যেনো হাতির সমান।
এসব খাবার যেমন ভেজাল, বাঁসি, তাছাড়া তেলচর্বিযুক্ত খাবার। এসব খাবার খেয়ে বর্তমানে অসুখের সীমা নাই। বিভিন্ন ধরনের রোগ হচ্ছে অনেক রোগ অজানা।
আচ্ছা খান বেশী করে খান কিন্তু খেয়ে দেয়ে যদি সেই শক্তিটা ক্ষয়ই না করলেন তবে সে শক্তি শরীরে জমা জমে পাহাড় হচ্ছে সে কথা চিন্তা করেছেন কী? ভুঁড়ি ওয়ালা ভাইদের অভাব নেই শহরে। তেমনি অল্প বয়সী মেয়েরাও দ্রুত মোটা হয়ে যাচ্ছে। এতে ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে সে খেয়াল কারোর নেই।
খেয়েই বাঙালী মরে, না খেয়ে বরং বেশী সুস্থ ভালো থাকা যায়। আসলে আমাদের শরীরের জন্য কী কী প্রয়োজনীয় খাবার খেতে হবে সেদিকে একেবারে অমনোযোগী আমরা। ভাত মাছ মাংসা উফ এসব খাবার পেলে আর কিছু মনে থাকে না। ভাত ছাড়া একদিনও কী ভাবা যায় অথচ ভাত রুটি এসব খেয়ে আমরা দ্রুত মোটা হয়ে যাচ্ছি। ভাইসব আমি ডাক্তার না কিন্তু। শর্করা কাবোর্হাইড্রেট ক্যালসিয়াম ইতা আমার বিষয় না কিন্তু। কেউ ডায়াট করলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুয়াযীই করবেন।
আমি যে বিষয়ের জন্য বকর বকর করতেছি তা হলো নিয়মিত হাঁটা। ডাক্তারের কাছে গেলেই দেখবেন ডাক্তার এডভাইস দিচ্ছে হাঁটার জন্য। প্রতিদিন নিয়মিত ৪০-৬০ মিনিট হাঁটতে বলে এবং আমাদের তাই করা উচিত। সারাদিন শুয়ে বসে কাটিয়ে শরীরটাকে আটার বস্তা ময়দার বস্তা করে ফেলি। হ্যাঁ আপনাকে নিয়মিত প্রতিদিনই হাঁটতে হবে। হাঁটলে অনেক রোগ হতে মুক্তি পাবেন। ডায়াবেটিস ভয় পাবে, হার্ট এটাক ভয় পাবে। উচ্চরক্তচাপ ভয় পাবে ধারে কাছে ঘেঁষতে।
হাঁটলে শরীর ঝরঝরে লাগে, রাতে ঘুম ভালো হয়। নিজেকে খুব হালকা মনে হয়। হাঁটা জিনিসটা খুবই কষ্টকর একটা কাজ। এবং হাঁটার জন্য অনেকেই সময় বের করতে পারেন না। কিন্তু আপনার জন্য আপনাকেই চিন্তা করতে হবে। যেভাবেই হোক একটা ঘন্টা আপনার নিজের জন্য রাখুন। বের হোন বন্ধু বান্ধব ভাই বোন বান্ধবী সহ। দুই তিনজন হলে দারুন সময় গল্প সল্প করে কেটে যাবে। দেখবেন তখন একদন কষ্ট লাগবে না। প্রথম দিন হাঁটলে শরীরে ব্যথা বা কষ্ট হতে পারে। কয়েকদিন হাঁটলে তা সয়ে যাবে। একদিন দেখবেন হাঁটাও নামাজের মত অভ্যাস হয়ে গেছে।
আর খাওয়া দাওয়ায় এবার একটু নজর দিন। রাস্তার অস্বাস্থ্যকর খাবার হতে দূরে থাকুন। আর অনলাইনে স্বাস্থ্যসচেতনার জন্য ডা: জাহাঙ্গীর কবীর সাহেবের ভিডিও গুলো দেখতে পারেন। উনার দ্বারা শত শত মানুষ উপকৃত হচ্ছে/হয়েছে। ফেবুতেও উনার ভিডিও আছে।
যত কিছুই খান না কেনো যত আরামই করেন না কেন। আপনাকে অবশ্যই হাঁটতে হবে প্রতিদিন। হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। হাঁটলে হজম শক্তি বাড়ে, শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকে। অলসতা করে কোনো লাভ নেই নিজের ক্ষতি ছাড়া। সবচেয়ে নিরাপদ ব্যায়াম হলো হাঁটা আর ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়ামগুলো। মানুষের শরীর হলো একটা মেশিন। মেশিন ফেলে রাখলে তাতে জং ধরে তাতে তেল দিতে হয় তেমনি আমাদের শরীরটাও তেমন একটা মেশিন। যত চালাইবেন ততই ভালো চলবে। আলসেমী কইরা ঘুমাইবেন খাইবেন ব্যস জীবন আপনার শেষ এখানেই । রোগ ব্যাধী ঝাপটে ধরবে।
আমি প্রতিদিন এক ঘন্টা হাঁটি । চেষ্টা করি। আপনিও হাঁটুন সুস্থ থাকুন। আর ওষুধ যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। হাঁটলে অনেক কিছু থেকে মুক্তি পাবেন ইনশাআল্লাহ।
নিচে ডাক্তার জাহাঙ্গীর কবীর সাহেবের ভিডিও গুলো দেখতে পারেন। চমৎকার একটা মানুষ। উনার ভিডিওগুলো দেখলে আপনারও মন চাইবে ডায়াট করতে।
(অ :ট:- আগের পোস্টের জবাব দেই নাই। রবিবারে দিমু) কেউ আবার কইয়েন না আগের পোস্টের জবাব নাই আবার নতুন পোস্ট । বাসা থেকে নেট ইউজ কম করি।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



