
দেখতে দেখতে এই প্রাণ প্রিয় ব্লগে আমার তেরো বছর এক মাস হয়ে গেল। ব্যস্ততার কারণে কোন দিক দিয়া তেরো বছর হইছে দেখলামই না । আজকে চোখ বুলিয়ে দেখি তেরো বছর তো হইছে লগে এক মাসও যোগ হইছে। যাই হোক, এই ব্লগে আমার পাঠক যদিও কম, কম থাকুক সমস্যা নাই...... যে কয়জন আমার পোস্ট পড়েন আমাকে কিছুটা মূল্যায়ন করেন তাদেরকে প্রাণঢালা ভালোবাসা আর শুভেচ্ছা। জীবনে এর চেয়ে বেশী কিছু লাগে না। যারা আমাকে দেখতারেন না তাদেরকেও অন্তস্থল থেকে শুভেচ্ছা ভালোবাসা ও দোয়া রইলো। এই বছরটা আমার খুবই ব্যস্ত গিয়েছে। আমি মূলত ব্লগিং টা অফিসের পিসিতে বসেই করি। কারণ চাকুরীজীব মানুষ বাসায় গেলে আর সময় পাওয়া যায় না। মোবাইলে ব্লগিং এ আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। পিসিতে বসেই ভালো লাগে ব্লগিং করতে।
ব্লগটা নানা ক্যাচাল এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এখানে আসি না যে তা না, রোজই অফিসে অন করে রাখি, দুই একবার উঁকিঝুঁকি দেই আর কমেন্ট পারলে করি। পোস্টও হাতে গোনা কয়েকটা দিই। ক্যাচাল ভেজালের মধ্যে আমি নাই। আর আমার মাথার ব্রেণ এত ভালা না। কে কী বলে মোটেই বুঝি না। কোন এঙ্গেলে কেনোই বা কমেন্টে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কিছু কথা বলে, পড়ে কিছুই বুঝি না।
এই ব্লগে সাইন আপ করার পর কত ব্লগই দেখলাম। এই ব্লগ ছাড়া সব ব্লগই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফোরাম ছিল দুই তিনটা । শেষ পর্যন্ত প্রজন্ম ফোরামও বন্ধ । আর এদিকে শব্দনীড় ব্লগটিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আজাদ ভাই অনেক চেষ্টা করেছিলেন বাঁচাতে পারেননি। শব্দনীড়ের জন্য কষ্ট হয়। শব্দনীড় ব্লগ হতে আমি পুরুস্কার পেয়েছিলাম আলহামদুলিল্লাহ। স্মৃতির পাতায় অম্লান থাকবে শব্দনীড়।

কত কত স্মৃতি, কত কত গল্প মনে জমা। এখানে লিখবো রোজই ভাবি। লিখা আর হয় না। আরেকটা কথা এই পোস্টের মাধ্যমে আমি খায়রুল আহসান ভাইয়াকে কৃতজ্ঞতা জানাই। খায়রুল ভাইয়ার কথা আজীবন মনে থাকবে। দুই তিন মাস আগে আমার আব্বা সিএমএইচে ভর্তি ছিলেন। আব্বার হার্নিয়া অপারেশন হয়েছে। সেই সময় খায়রুল ভাইয়া ম্যাসেঞ্জারে নক দিয়ে আব্বার ক্যাবিনের ঠিকানা নিয়েছিলেন।
ভাবতেই পারিনি ভাইয়া আব্বার সাথে দেখা করবেন গিয়ে। আহসান ভাইয়া তিনবার গিয়েছিলেন আব্বার সাথে দেখা করতে। আব্বার কাছে যখন গেলাম দেখি আব্বা উনার বই পড়তেছেন। আমি বল্লাম আব্বা এই বই পাইলেন কই। তখন আব্বা আহসান ভাইয়ার কথা বললেন। আব্বাকে জড়িয়ে ধরেছেন। আব্বা যে কী খুশি। আর আব্বার কাছে আমার সুনাম করেছেন। আব্বা তো সুখে কেঁদে দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ আপনার কাছে ভাইয়া। আব্বার খুশি দেখে আমার বুকটা গর্বে ফুলে উঠেছিল আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুন। আব্বা এখন সুস্থ আছে আলহামদুলিল্লাহ। এতদিন ধরে ভাবছিলাম কৃতজ্ঞতা পোস্টটা দেব। সময় হয়ে উঠেনি। তেরো বছর ফূর্তিতে আজ এই পোস্টটি খায়রুল আহসান ভাইয়াকে উৎসর্গ করলাম।

বছর চলে যাচ্ছে। দুইটা বছর আমার তেমন ভালো কাটে নি। বড়ই ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। পেরেশানির ব্যস্ততা ভালো লাগে না। নিজের জন্য সময় বের করতে পারি না। আগামী বছর যেন ভালো যায় দিনগুলো দোয়া করবেন সবাই। আমিও দোয়া করি সবার দিনগুলো যেন ভালো এবং সুখেই কাটে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০২৩ বিকাল ৪:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



