সেদিন এক বন্ধুর সাথে কথা বলছিলাম - ছেলেটি তার জিপিএ নিয়ে যারপরনাই চিন্তিত। আমি জিগ্গেষ করলাম "ধুশ শালা - তুই পড়ার পড়ছিস - জানিস তো জিনিস টা কি - তাহলে আজাইরা চিন্তা করিস কেন????" আরিফ বলল:"আরে গাধা - জাইনা কি ধুইয়া পানি খাব???? আমি কি জানি ঐটা দেখে চাকরি পাবো না আমার সারটিফিকেট দেখে দিবে???"
আমি চুপ।
কথা সত্য বলেছে ছেলে। বাংলাদেশএ কারিগরি শিক্ষার দাম নেই - দাম নেই ক্রিয়েটিভিটির। কানাডা তে একটা ছেলে চিনি আমি - সারা সপ্তাহ ধরে সে খালি আকে - এবং শুধু রবিবার সকাল সকাল চার্চের সামনে গিয়ে একাধারে সাজিয়ে বসে সিগারেট টানে - সবাই বের হয়ে একটা একটা করে ছবি কিনে নিয়ে যায় - এভাবেই তার সপ্তাহ চলে যায়। ছেলেটি আমার কাজও প্রিন্ট করে 50 ডলার এ বিক্রি করেছে...
চিন্তা করুন আমি যদি আমার কাজ নিয়ে মসজিদের সামনে দাড়িয়ে থাকি তো কি হবে?
লোকজন 50 ডলার দুরে থাক - 50 টাকা ও দিবে না - 2 টাকা দিয়ে বলবে "বাবা - বাসা থেকে বের করে দিয়েছে কি?" অথবা "দাড়ি কাটার পয়সা নেই?"
বাংলাদেশএ বেকারত্ব সমস্যা। অথচ যারা বেকার তাদের মাঝ থেকেই মানুষ গিয়ে বাইরে বেশ ভালো জব করছে - পয়সাও পাচ্ছে । তার মানে কি? দোষ টা কি ছেলেটার? নাকি আমাদের দেশের সিসটেম এর?
নাহ সিসটেমের দোষ আর আমি দিবনা। বাংলাদেশে এখন 200 বছর আগের বৃটিশ সিসটেম চলে - হয়তো পশ্চাৎদেশের ব্যাথা ভুলতে পারিনি দেখেই আমরা কখন পরিবর্তন করবার কথা ভাবিনি- ভালো ভাবে। রনসেন গুপ্ত টাইপ লেখক পর্যন্ত ভেবেছে - আমরা ভাবিনি! আমরা এগিয়ে যাচ্ছি আমাদের বাপ দাদার পথে - কারন তারা ভালো পথ দেখিয়েছেন। এই জন্যই বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন 186 কম্পুটার চালাতে লজ্জ্বা বোধ করে না - এ যে আমাদের ট্রেডিশন!!!!!!!
বোঝেনা 186 এখন আর চলে না - এ যুগ পেন্টিয়াম 4 এর যুগ - 186 এর নয়।
আমি মিথ্যে বলছি।
খোদা করুন - আমাকে মিথ্যুক বানাক।
তবুও - আমাদের ভাবনা কে পরিবর্তন করুক।
মামার জোরে চাকরি আর কতদিন নেব? যার মামা নেই সে সব থাকতেও কি কিছু করে খেতে পারবেনা
শেষ করি একটা গান দিয়ে... মাথায় ঘুরছে
মানুষ মানুষের জন্যে
জীবন জীবনের জন্যে
একটু সহানুভুতি কি
মানুষ পেতে পারে না?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



