মানুষকে পরাজিত করার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো মানুষের দুর্বল যায়গাই আঘাত করা।
ছোটবেলার একটা ঘটনা, দুইটা বন্ধূ খেলতে খেলতে মারামারি শুরু করে দিল। তখন একজন আরকজনের অপকর্মগুলো বলতে লাগলো। একজন বলল, তুই যে লুকাই লুকাই বিড়ি খাইস এটা সবাইকে বলে দেবো। আর একজন বলল তুই যে অমুকের বাড়ি থেকে ফল চুরি করছিলি এটাও আমি বলে দেবো।
তুই একটা বিড়ি খোড়, তুই একটা চোড়। এভাবে চলতে থাকলো অনেহ্মন..
তারপর তাদের মারামারি থামল কিন্তু আশেপাশের মানুষগুলো তো দুইটারই খারাপ বিষয় জেনে গেলো।
এরকম ব্যাপার ছোটবয়সে নিশ্চয় অনেকের সাথেই ঘটেছে কিন্তু বড় হলে, বয়স হলে তখন মানুষের মধ্য এই বিবেকটুকু তো জাগ্রত হয এবং প্রতিটা মানুষ জানে তার নিজের কিছু দূর্বল দিক আছে এবং তা সর্বদা তারা গোপন রাখতে চেষ্টা করে।
বিবেক সম্পন্ন মানুষ গুলো হাজার গেনজাম করলেও তারা প্রতিপহ্মের দূর্বল দিক নিয়ে আক্রমন করে না।
কিন্তু মানুষ রূপী কিছু শয়তান আছে, যখন তার প্রতিপহ্মকে ঘায়েল করতে ব্যার্থ হয় তখন তারা দূর্বল দিকগুলোকে সবার সানে নিয়ে আসে।
সে নিজেও জানে যে তার দূর্বল বিষয় গুলোও ফাঁস হতে পারে কিন্তু তারা এটা নিয়ে ভয় পাই না কারন তখন তাদের ভিতর মনুষত্ত্ব জিনিসটা থাকে না, থাকে না তাদের সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয়।
একটি ছেলেকে তার বাসা থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাই কারন দীর্ঘদিন এক মেয়ের সাথে ছেলেটির সম্পর্ক থাকার পরও মেয়েটি তাদের সম্পর্কচ্ছেদ করে এবং ছেলেটি মেয়েটিকে তাদের সম্পর্ক রাখার জন্য অনেক জোড় করছিল কিন্তু এক সময় পুলিশ মেয়েটিকে বিরক্ত করার অপরাধে ছেলেটিকে ধরে নিয়ে যাই এবং ছেলেটিকে কয়েক ঘন্টা আটকে রাখে।
ছেলেটি যদি এখানে অপরাধী হয় তবে মেয়েটিও নিশ্চয় অপরাধী ছিল কারন তাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক ছিল যা মেয়েটি ভেঙ্গে ফেলেছিল আর ছেলেটি তা রহ্মা করতে চেয়েছিল।
কিন্তু ছেলেটিকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর, সবার চোখে ছেলেটি অপরাধী হয়ে যাই।
কিছুদিন পর
হঠাৎ করে এই ছেলেটির সাথেই তার এলাকার বন্ধুদের খেলাধুলার একটি বিষয় নিয়ে ভুলবোঝাবুঝির সৃষ্টি হলো।
তখন সবাই ছেলেটির বিপহ্মে অবস্থান নেই এবং সবাই ছেলেটির পুলিশে ধরার বিষয়টি নিয়ে দুর্বল করতে থাকে। ছেলেটিকে পরাজিত করার জন্য কোন বিষয়ের সাথে যে তারা কোন বিষয়ের তুলনা করছে সেই হিতাহিত জ্ঞানটিও তারা ভূলে গিয়েছিল।
ছেলেটির যে বন্ধুটি তাদের প্রেমে সহায়তা করত সেও ছেলেটির দূর্বল জায়গা (পুলিশে ধরা) নিয়ে সমালোচনা করতে বাদ রাখে নি অথচ ছেলেটির বন্ধু যে কয়বার পতিতালয়ে গিয়েছিল তা কিন্তু ছেলেটির জানা ছিলো।
ছেলেটি তার এলাকার একটি বিবাহিত বড় ভাইয়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মিশত। সেই বড় ভাইও ছেলেটির দূর্বল জায়গা(পুলিশে ধরা) নিয়ে সমালোচনা করতে বাদ রাখে নি অথচ এই বড় বিবাহিত ভাইটি এই ছেলেটিকে নিয়ে পার্কে যেত অন্য একটি মেয়ের সাথে দেখা করার জন্য।
this is the point.. খেলাধুলার গেনজামের সাথে কেন পুলিশে ধরার বিষয় আসলো?
আমাদের দেশে পুলিশ এবং সন্ত্রাসীর হামলার শিকার একটা মানুষ যখন তখন হতে পারে, পুলিশ ধরলেই কি মানুষ খারাপ হয়ে যাই?
এটা জাস্ট মন-মানসিকতা পরিচয়।
যাই হোক, ছেলেটি তার বন্ধু এবং বড়ভাইকে- ছোট বয়সের ভূল করার মতন করে সবার নিকট তাদের অপকর্মগুলো প্রকাশ করে দেইনি কিন্তু ঘটনাটি থেকে এটাই তো আশা করা যাই যে ছেলেটিও তাদের অপকর্মগুলো প্রকাশ করে দেবে হয়ত এহ্মেত্রে সে করেনি কিন্তু কয়জনই বা গোপন করতে পারে।
আমরা মানুষ হিসেবে কেউই ১০০% বিশুদ্ধ না। তাই আমাদের এতটুকু অন্তত বোঝা উচিৎ যে "অন্যের দূর্বলতা গোপন রাখলেই নিজের দূর্বলতাগুলোও গোপন থাকবে এবং মানসম্মান রহ্মা পাবে।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


