somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একখানা ভটভটি সমাচার

০৩ রা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাস্তায় বের হলেই একখান মোটর সাইকেলের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করি। যে দিন কাজে তাড়া থাকে দেখা যায় টেক্সী বা রিক্সা নেই, থাকলে ভাড়া মাশাল্লাহ আওতার ৪ গুন বাইরে। মেজাজ গরম হইয়া যায়।
আবার ইদানিং টেম্পু চড়তেও ডর করে, বলা যায় মানসিক ভীতি তবে বাস্তব বটে। সিএনজি চালিত টেম্পু গুলোর সিলিন্ডার প্রতি ৪ বছর অন্তর প্রেশার টেষ্ট করানোর নিয়ম থাকলেও কে শোনে কার কথা। যার জন্য এগুলো এক একটি জিবন্ত বোমা। কখন যে বুম করে ।

তাই আমার একখান মটর সাইকেলের শখ জাগিল।
কিন্তু জাগিলে তো আর হইবেনা, সাধ্য থাকা চাই। প্রথমে বাসায় বলিলাম। শুনিয়াই ফায়ার হইলেন মা বাবা। অসম্ভব, তোমার ঠ্যাং ভাংগিবে, একসিডেন্ট হইবে ইত্যাদি অনেক বিপদ। তার চেয়ে যত টাকা যায় যাক সময় নষ্ট হোক, টেক্সী বা রিকশা ই ভালো। ছোট বোন আরেক কাঠি সরেস। সে বলে আগে তোর বিয়ে হোক তারপর কিনিস, এখন কিনিলে ঠ্যাং ভাংগা পোলার জন্য বউ পাওয়া যাবেনা।
আমার কষ্ট উহারা বুঝিলোনা। তাই আমি নতুন ফন্দি আটিলাম, বলিলাম এখানা চার্জের স্কুটার কিনি। ইহাকে এমন ভাবে উপস্থাপন করিলাম যেন বাবুরাম সাপুড়ের সাপরে মতো যাহা নামেরই স্কুটার কিন্তু অতিব সাধারণ , গতি কম, ছোট চাকা ইত্যাদি। কিন্তু পাথর নড়েনা।
পাথর না নড়িলে আমার টাকা কোথা হইতে আসিবে? কিঞ্চিত রাজি হইলেন মা জননি। কিন্তু টাকা দিবেন কম।
মহা আনন্দে খোঁজ লইলাম চার্জ স্কুটারের। হায় আল্লাহ বলে কি ! দাম ৪০ হাজার টাকা, তার উপর চার্জের ঝক্কি, ঢালু পথ বাইতে সমস্যা সার্ভিসিং ইত্যাদির সমস্যার কথা অভিজ্ঞ জনরা চরম আপত্তি করিলেন।
হায় আমার কি হইবে?
অবশেষে একদিন এক পূর্ব পরিচিত বড় ভাই তাহার পিতাজির ১৯৯০ সালের বাজাজ বেসপা খানার কথা আমাকে বলিলে আমি মহা আনন্দে ক্রয় করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করিলাম।
এক পর্যায়ে দাম নির্ধারিত হইলো, সার্ভিসিং সহ আরো কিছু টাকা গাথিয়া আমি অবশেষে একখান ভটভটির মালিক হইলাম। সে কি মহা আনন্দ আকাশে বাতাসে!
এবার শিখিবার পালা। কোন রকমে চালানি শিখিয়া মনে হইলো আমি এইবার সড়কে উঠিবার যোগ্যতা অর্জন করিয়াছি।
পরেরদিন বাসার কাউকে কিছূ না বলিয়া চুপি সরে ভটভটি লইয়া চলিলাম,
পথে পথে ভটভটি এমন আচরন করিলো আমার সাথে যেন সে মীর জাফর।
সে বাক দেখিলে থামিয়া যায়, পুলিশ দেখিলে ঘো ঘো শব্দে দাড়াইয়া য্য়।
আমার অবস্থা কেরোসিন। ভয়ে জিব শুকিয়ে কাঠ। মাথা ঘুরা শুরু হইলো। কোন রকমে চকবাজার পৌছিলাম। আসার সমসয় যত ঘনাইয়া আসিতে লাগিলো আমার মনে হইলো ইম আস্তে আস্তে ফাঁসির মঞ্চের দিকে যাইতেছি। ছেড়ে দে মা কাইন্দা বাচি অবস্থা। হে জগদিশ্বর!!!
ক্লাস এইটের বৃত্তি পরিক্ষায় এই রকম ভয় পাইয়া ছিলাম।

হা! এখন আমি মনের আনন্দে আমার ভটভটি চালাইতে পারি।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×