somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিনি নেই ,তবুও মনে হয় তিনি আছেন!!

২০ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছাত্র অবস্থা থেকেই ছিলেন শিল্প-সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী।শিল্প-সাহিত্যে অসাধারণ অনুরাগ আর সৃষ্টিশীলতার অন্তর্গত অনুপ্রেরণার ফলে বিজ্ঞান ছেড়ে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা অনার্সে ভর্তি হন।তার জীবন ও কর্মে ছিল বৈচিত্র্য ও বিশালতার এক বিস্ময়কর সমন্বয়।নিপীড়িত মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল প্রগাঢ়।১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং গ্রেপ্তার হন।১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানেও তিনি অংশ নেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি আগরতলা এবং পরে কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন।

শুধু ক্যামেরা নয়, কলমও ছিল তাঁর যুদ্ধাস্ত্র।একজন খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক হিসেবেও তিনি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন।তিনি ছিলেন শিল্পী ও যোদ্ধা যুগপৎ।ছিলেন বাংলাদেশ লিবারেশন কাউন্সিল অব ইন্টেলিজেন্সিয়ার সাধারণ সম্পাদক। তথাকথিত বিলাসী বুদ্ধিজীবীদের মতো শিল্প অথবা শিল্পতত্ত্ব নিয়ে ঘরে বসে থাকার লোক ছিলেন না। কারণ, তিনি ভালোবাসতেন মানুষকে। মানুষের জীবনের ক্লেশ-ক্লেদ দেখার এবং তা বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমে মুক্তির হাতিয়াররূপে রূপান্তরিত করার মতো প্রতিভাবান ছিলেন তিনি। অন্যায়, অমানবিকতা, দুঃশাসন, সামাজিক আধিপত্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সংগ্রামী চেতনার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তাঁর কর্মক্ষেত্রের পরতে পরতে।

স্বাধীনতার পরপরই কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে এসেছিলেন।বুদ্ধিজীবীদের নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং তার বড় ভাইয়ের নিখোঁজ হবার সংবাদ শুনে,ভাইকে খুঁজতে বের হয়েছিলেন তিনি,কিন্তু আর ফিরে আসেননি।বড় ভাইকে খুঁজতে বের হয়ে নিজেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। তার এই নিখোঁজ হওয়া নিয়ে পত্র-পত্রিকায় বেশ লেখালেখি হয়েছিল। একদিন তার বড়বোনকে ডেকে নিয়ে ততকালীন রাসট্রপ্রধান বলেছিলেন – ‘ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে এরকম চিৎকার করলে তুমিও নিখোঁজ হয়ে যাবে'। পরে তার বড় বোন আর কিছু বলেননি। তার বড় ভাই মিরপুরে আছে বলে টেলিফোন করে যে লোক তাকে নিয়ে গিয়েছিল তার খোজে যখন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি শুরু হলো তখন সেই লোককে সরকার নাগরিকত্ব দিয়ে পুরো পরিবারসহ আমেরিকায় পাঠিয়ে দিয়েছিল । তাঁর অন্তর্ধান নিয়ে আর কোন তদন্ত হয় নি।

বিভিন্ন মহল থেকে বারবার বলা হয়েছে,পাকিস্তানি হানাদার বা অবাঙালিরা নয়,বাঙালিদেরই একটি বাহিনী যা ভারতের সামরিক বাহিনীর জেনারেল ওবান-এর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিলো, যারা তাজ উদ্দিন আহমেদকে পর্যন্ত হত্যা করতে চেয়েছিল তারাই তাকে তার ভাইয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে খুন করেছিল।দেশে এই বাহিনীর অনেক নেতাই এখনো জীবিত আছেন।কিন্তু তারা এ বক্তব্যের প্রতিবাদ বা এর কোন ব্যাপারেই উচ্চবাচ্চ্য করছেন না। তাদের নীরবতা তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বক্তব্যকেই দিন দিন প্রতিষ্ঠিত করছে !!

শোনা যায় ,বুদ্ধিজীবিদের হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে তিনি এমন কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন যা অনেক রথী-মহারথীর জন্যই বিপজ্জনক ছিল, সেজন্য তাকে তারা সরিয়ে ফেলেছিল॥ বুদ্ধিজীবিদের হত্যার জন্য তিনি সরাসরি আওয়ামী নেতৃত্বকে দায়ী করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন এবং যুদ্ধকালীন আওয়ামী লীগ নেতারা কলকাতায় কে কি করেছিলেন তা ফাঁস করে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এটাই তার জন্য কাল হয়েছিলো।

তিনি নেই ,তবুও মনে হয় তিনি আছেন, মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হয়ে গেলেও তিনি থাকবেন হাজার বছর ধরে। শুভ জন্মদিন _জহির রায়হান !! যেখানেই থাকুন,ভালো থাকুন!!

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৪২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×