দক্ষিন এশিয়ার জন্য তথা পুরো বিশ্বের জন্য ২৫ এপ্রিল এক ভয়াবহতম দিন হিসেবে স্মরিত হবে । এইদিনে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পের কম্পনে কেঁপে উঠে নেপাল,ভারত,পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। উৎপত্তিস্থলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো ৭.৯ !! এখন পর্যন্ত ৬ সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খোদ নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নেপালে নিহতের সংখ্যা দশ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
সেদিন বাংলাদেশেও কয়েকজন মারা গেছে। এদের সবাই ভূমিকম্পের ভয়ে স্ট্রোকজনিত কারনে মারা গেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সবার আগে পাবনায় এক মহিলা মারা যাওয়ার খবর নিউজে এসেছে।
বাংলানিউজসহ আমাদের দেশের বেশ কয়েকটি মিডিয়া পাবনার এ খবরটা প্রচার করেছে এভাবে যে -"ভূমিকম্পের ভয়ে পাবনায় মহিলা লীগের এক নেত্রীর মৃত্যু ! "
এই শোকের খবর প্রচারের জন্য মহিলার রাজনৈতিক পরিচয় সামনে নিয়ে আসাটা কি খুবই দরকার ছিলো ?
মহিলার লীগ পরিচয় প্রকাশ করে মিডিয়াগুলো আসলে কি বোঝাতে চেয়েছে ?
উনি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন বলেই তার এমন পরিণতি । এই তো নাকি ??
মিডিয়া গুলো মহিলার রাজনৈতিক পরিচয় সামনে নিয়ে আসায় আখেরে যা হয়েছে তা হল-
প্রথমত, তার মৃত্যুতে শোক জানানো মানুষ দুটি দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে। যারা বিএনপির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে (সবাই নয়) তারা ভাবছে ভালোই হয়েছে। ভালোই হয়েছে এক আওয়ামীলীগ কর্মীর অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে । মৃত মহিলার প্রতি শোক জানানোর পরিবর্তে তাদের বেশিরভাগই এখন উল্টো মনোভাব প্রকাশ করেছে এটা একরকম নিশ্চিত।
দ্বিতীয়ত, যারা সাধারন মানুষ তাদেরও এ ইস্যুতে আবেগ পূর্বাপেক্ষা কম কাজ করেছে কেননা এদের অধিকাংশই রাজনীতি এবং রাজনীতির সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের হয় অপছন্দ করে, নয়তো এড়িয়ে চলে ।
সবশেষে বলতে বাধ্য হচ্ছি এর পর কেউ অপঘাতে মারা পড়লে এবং তিনি যদি বিএনপি বা সমমনা রাজনীতির বিশ্বাসী হন তবে আওয়ামী সমর্থক গোষ্ঠী এ খবর প্রচার করবে অপঘাতে বিএনপি কর্মীর মৃত্যু বলে এবং পরবর্তীতে বিএনপি করবে এর উল্টোটা !!এক সময় এই অপঘাত মৃত্যুও রাজনীতির ঢাল-তলোয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং এমনটা হবেই ; বাংলাদেশের রাজনীতির অতীত রেকর্ড তো তাই বলে।
হায় রে মিডিয়া !
এই কি মিডিয়া আর মিডিয়ার স্বাধীনতা ? মিডিয়ার স্বাধীনতা আমিও চাই, তাই বলে কতিপয় মিডিয়া এভাবে স্বাধীনতার অপব্যবহার করে অন্য মিডিয়াগুলোর স্বাধীনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াক এ আমি চাই না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


