somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নির্বাসিত নক্ষত্রের শহর !

০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রাতের শেষে যে শহর জেগে থাকে
তার ভাঙা নীয়ন আলোয়
আমি দেখেছি মানুষের মুখ—
অথচ দেখিনি মানুষ ।
দেখেছি ক্লান্ত আত্মারা,
ধীরে ধীরে আত্মহুতি দেয় প্রতিরাতে।

চারদিকে শব্দ ছিল,
হাজার কথার বিষাক্ত ভিড় ছিল,
কর্পোরেট কার্পেটের নিচে
পচে গিয়েছিল হৃদয়ের শেষ সবুজ অংশটুকু।
আর ভিতরে ভিতরে
একটা মৃত নক্ষত্রের মতো
নিভে যাচ্ছিলাম আমি।

তুমি কি জানো—
কিছু মানুষ জন্ম নেয়
নিজের ভেতর নির্বাসিত হওয়ার জন্য?
তাদের হৃদয়ে ঘর থাকে না,
থাকে শুধু দীর্ঘ করিডোর,
যেখানে স্মৃতিরা
রক্তাক্ত পায়ে হাঁটে।
যেখানে মিথ্যা আশ্বাসের নরম কণ্ঠ থাকে —
তবুও কোথাও থাকে না আশ্রয়।

আমি সেই মানুষ,
যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজেকেই অপরিচিত লাগে।
যে প্রতিরাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে
মৃত ঈশ্বরদের নাম ধরে ডাকে,
সেখানে আকাশ ছিল কালো,
বাতাসে ছিল মৃত নক্ষত্রের গন্ধ ।

এই নগর,
এই সভ্যতা,
এই ভদ্র মুখোশের উৎসব—
সবকিছু আমার কাছে
একটা ধীরে পচে যাওয়া কবরের মতো লাগে।

তবুও আমি বেঁচে আছি।

আমি হেঁটেছি অনিকেত প্রান্তরের পথে,
যেখানে কেউ কারও নয়,
যেখানে ভালোবাসাও
নিজের ছায়াকে ভয় পায়।
আমি হাঁটছিলাম।
পায়ের নিচে ভাঙছিল
পুরোনো স্বপ্নের হাড়,
মাথার উপর কাঁদছিল
একটি নির্বাক চাঁদ।
সেখানে আমি শুনেছি
নিঃসঙ্গতার শব্দ।
দুমড়ানো কান্না,
এক নিঃশব্দ চিৎকার—
মৃত স্বপ্নের আর্তনাদ।
এখানে স্বপ্ন হত্যা করা হয়,
এখানে অনুভূতি বিক্রি হয়,
এখানে সত্য বলার অপরাধে
মানুষকে নির্বাসন দেওয়া হয়।

আর সেই প্রান্তরের শেষে
আমি তোমাকে দেখেছিলাম।
তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে
শেষ সূর্যের আলোয়,
একটা হারিয়ে যাওয়া উপকথার মতো।
তোমার চোখে ছিল
ধ্বংসের পরও বেঁচে থাকার প্রতিজ্ঞা।
তোমার স্পর্শে ছিল
শীতল পৃথিবীর বিরুদ্ধে
একটি নীরব যুদ্ধ।

তাই আজও আমি হাঁটি।
শহর থেকে শহরে,
শূন্যতা থেকে আরও গভীর শূন্যতায়।
আর প্রতিরাতে
যখন পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে,
আমি তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে
তারপর দূরে কোথাও
একটা ভাঙা গিটারের শব্দ ভেসে আসে,
“কেয়া...”
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রিলিফ ওয়ার্ক - আবুল মনসুর আহমেদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০৮




রিলিফ ওয়ার্ক
- আবুল মনসুর আহমেদ


বন্যা ।
সারা দেশ ভাসিয়া গিয়াছে। গ্রামকে গ্রাম ধুধু করিতেছে। বিস্তীর্ণ জলরাশির কোথাও কোথাও ঘরের চাল ও বাশের ঝাড়ের ডগা জাগাইয়া লোকালয়ের অস্তিত্ব ঘোষণা করিতেছে। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধের হাতি দেখা ও আধুনিক ব্লগারির এক করুণ রম্যকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১


মানুষের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি প্রাচীন উপকথা যুগে যুগে নতুন অর্থে ফিরে এসেছে অন্ধের হাতি দেখা। কয়েকজন অন্ধ মানুষ হাতির ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করে প্রত্যেকে নিজেকে সত্যের একমাত্র অধিকারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদগাজীর বয়ানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৭



গাজী সাহেব বলেছেন, এই ছবির একদম পেছনে যাকে দেখছেন, তিনি ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একই পরিবারের আত্নীয়সহ আরও পাঁচজন ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরিবারের যিনি কোনোভাবে বেঁচে আছেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসুন দেখে আসি, রাজাকার, লালবদর,ছাত্রদল ও শিবিরের উত্তরাধিকারীরা পাকিস্তানে কেমন আছে‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:০১



কেমন আছে পাকিস্তানে বসবাসরত ৪০ লক্ষ বাঙালী?

১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে দাড়িয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিচার করার হুঙ্কার দিলেন। পাকিস্তানে বসে তখন খুনি জুলফিকার আলী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×