
রাতের শেষে যে শহর জেগে থাকে
তার ভাঙা নীয়ন আলোয়
আমি দেখেছি মানুষের মুখ—
অথচ দেখিনি মানুষ ।
দেখেছি ক্লান্ত আত্মারা,
ধীরে ধীরে আত্মহুতি দেয় প্রতিরাতে।
চারদিকে শব্দ ছিল,
হাজার কথার বিষাক্ত ভিড় ছিল,
কর্পোরেট কার্পেটের নিচে
পচে গিয়েছিল হৃদয়ের শেষ সবুজ অংশটুকু।
আর ভিতরে ভিতরে
একটা মৃত নক্ষত্রের মতো
নিভে যাচ্ছিলাম আমি।
তুমি কি জানো—
কিছু মানুষ জন্ম নেয়
নিজের ভেতর নির্বাসিত হওয়ার জন্য?
তাদের হৃদয়ে ঘর থাকে না,
থাকে শুধু দীর্ঘ করিডোর,
যেখানে স্মৃতিরা
রক্তাক্ত পায়ে হাঁটে।
যেখানে মিথ্যা আশ্বাসের নরম কণ্ঠ থাকে —
তবুও কোথাও থাকে না আশ্রয়।
আমি সেই মানুষ,
যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজেকেই অপরিচিত লাগে।
যে প্রতিরাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে
মৃত ঈশ্বরদের নাম ধরে ডাকে,
সেখানে আকাশ ছিল কালো,
বাতাসে ছিল মৃত নক্ষত্রের গন্ধ ।
এই নগর,
এই সভ্যতা,
এই ভদ্র মুখোশের উৎসব—
সবকিছু আমার কাছে
একটা ধীরে পচে যাওয়া কবরের মতো লাগে।
তবুও আমি বেঁচে আছি।
আমি হেঁটেছি অনিকেত প্রান্তরের পথে,
যেখানে কেউ কারও নয়,
যেখানে ভালোবাসাও
নিজের ছায়াকে ভয় পায়।
আমি হাঁটছিলাম।
পায়ের নিচে ভাঙছিল
পুরোনো স্বপ্নের হাড়,
মাথার উপর কাঁদছিল
একটি নির্বাক চাঁদ।
সেখানে আমি শুনেছি
নিঃসঙ্গতার শব্দ।
দুমড়ানো কান্না,
এক নিঃশব্দ চিৎকার—
মৃত স্বপ্নের আর্তনাদ।
এখানে স্বপ্ন হত্যা করা হয়,
এখানে অনুভূতি বিক্রি হয়,
এখানে সত্য বলার অপরাধে
মানুষকে নির্বাসন দেওয়া হয়।
আর সেই প্রান্তরের শেষে
আমি তোমাকে দেখেছিলাম।
তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে
শেষ সূর্যের আলোয়,
একটা হারিয়ে যাওয়া উপকথার মতো।
তোমার চোখে ছিল
ধ্বংসের পরও বেঁচে থাকার প্রতিজ্ঞা।
তোমার স্পর্শে ছিল
শীতল পৃথিবীর বিরুদ্ধে
একটি নীরব যুদ্ধ।
তাই আজও আমি হাঁটি।
শহর থেকে শহরে,
শূন্যতা থেকে আরও গভীর শূন্যতায়।
আর প্রতিরাতে
যখন পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে,
আমি তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে
তারপর দূরে কোথাও
একটা ভাঙা গিটারের শব্দ ভেসে আসে,
“কেয়া...”
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




